Home আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র রক্ষায় রাজপথে ইন্ডিয়া জোট, একসঙ্গে মমতা-সোনিয়া

গণতন্ত্র রক্ষায় রাজপথে ইন্ডিয়া জোট, একসঙ্গে মমতা-সোনিয়া

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবার বড় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করল ইন্ডিয়া জোট।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে বিরোধী জোটের সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে তারা একসঙ্গে থাকবেন। প্রাণের ঝুঁকি থাকলেও আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাবেন না বলে জানান তিনি।

মমতার বক্তব্যের সময় তার পাশে ছিলেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। মমতা বক্তব্য শেষ করার পর সোনিয়া তার পিঠে হাত দিয়ে সমর্থন জানান। পরে মমতাও সোনিয়ার হাত শক্ত করে ধরেন। বিরোধী শিবিরের ঐক্যের বার্তা হিসেবে এই দৃশ্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।

একটি ইংরেজি দৈনিকে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে মতানৈক্য থাকা স্বাভাবিক।এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মমতা অভিযোগ করেন, নির্বাচনে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। তার দাবি, ভোট কারচুপির মাধ্যমে বিজেপি মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা ও পশ্চিমবঙ্গে জয় পেয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে যাওয়ার পরও সমাধান হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি।জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মমতা বলেন, তাকে পদত্যাগ করতে হবে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচন ব্যবস্থায় সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটে কারচুপির অভিযোগও তোলেন মমতা।

তিনি আরও বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো না হলে আন্দোলন আরও বড় আকার নেবে। আন্দোলন মাটি থেকে আকাশে যাবে। তারা একসঙ্গে লড়াই করবেন এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। প্রাণের ঝুঁকি থাকলেও তারা প্রস্তুত বলে জানান পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।এদিকে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় গণতন্ত্র বাঁচাও মিছিল করা হবে। পাশাপাশি জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিও হবে।

আগামী ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদরা দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত মিছিল করবেন। এ জন্য সব বিরোধী সাংসদকে দিল্লিতে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাইবেন বিরোধী নেতারা। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচটি বড় সভা করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, এই আন্দোলনে সাধারণ মানুষ, যুবসমাজ, ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর পাশাপাশি গণতন্ত্র ও ঐক্য রক্ষায় কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনকে যুক্ত করা হবে।