স্টাফ রিপোর্টার ।।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একের পর এক সফল অভিযান ও কড়াকড়ির কারণে খুলনা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকাগুলোতে আসল ইয়াবার তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু মাদক কারবারি চক্র ও প্রতারক সিন্ডিকেট খুলনাঞ্চলে এক ভয়ঙ্কর ও মারাত্মক জালিয়াতি শুরু করেছে। তারা সস্তা দামের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি (মায়াবড়ি) ও কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধে (ডুরালাক্স) বিষাক্ত কেমিক্যাল ও মার্কার পেন দিয়ে কৃত্রিম রং মিশিয়ে সেগুলোকে ‘নকল ইয়াবা’ হিসেবে চড়া দামে বিক্রি করছে।
উদ্দেশ্যহীন ও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব উচ্চমাত্রার হরমোন ও রাসায়নিকযুক্ত ওষুধ সেবন করে মারাত্মক প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন আসক্তরা।
অনুসন্ধানে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের বিআইডিসি রোড, বঙ্গবাসী মোড়, রূপসা ঘাট এলাকা, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকা, নগরীর স্টেশন রোড, দৌলতপুর পাবলা এলাকা এবং লবণচরার রূপসা ব্রিজের তলদেশের নির্জন স্পটগুলোতে এই ভুয়া বা নকল ইয়াবা বিক্রির চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আসক্তরা যখন কম দামে কিংবা আসক্তির তীব্র তাড়নায় আড়াইশ থেকে তিনশ টাকায় এসব বড়ি কিনে সেবন করছে, তখনই তারা শিকার হচ্ছে মারাত্মক প্রতারণা ও শারীরিক বিপদের।
কয়েকজন আসক্তের সাথে কথা বলে জানা যায়, চেহারা আসল ইয়াবার মতো হুবহু না হলেও সাইনপেন বা ক্ষতিকারক গোলাপি-লাল রং ব্যবহার করে এগুলোকে ইয়াবার আদল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেবনের পর কোনো মাদকের প্রভাব তো মিলছেই না, বরং শরীরজুড়ে তীব্র যন্ত্রণা ও শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়াবড়ি হচ্ছে একটি প্রজেস্টিন ও ইস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ শক্তিশালী হরমোনযুক্ত গর্ভনিরোধক ওষুধ এবং ডুরালাক্স হচ্ছে মূলত পেট পরিষ্কার ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ওষুধ।
খুলনার চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হরমোনের ভয়াবহ ভারসাম্যহীনতা: ছেলেদের শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্ত্রী-হরমোন বা উচ্চমাত্রার ইস্ট্রোজেন প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে হরমোনাল ইমব্যালেন্স, স্তন বৃদ্ধি (গাইনেকোমাস্টিয়া), প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস এবং মেজাজ চরম খিটখিটে হয়ে যেতে পারে।
তীব্র পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট অসামঞ্জস্যতা: বিনা প্রয়োজনে কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ সেবনে অনিয়ন্ত্রিত ডায়রিয়া, পেট কামড়ানো, রক্তের ইলেকট্রোলাইটের (সোডিয়াম ও পটাশিয়াম) তীব্র ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
অঙ্গহানি ও কিডনি বিকল: বিষাক্ত কেমিক্যাল বা মার্কারের ক্ষতিকর রং সরাসরি রক্তে মিশে পাকস্থলীতে ক্ষত (আলসার), লিভারের ক্ষতি এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিষয়টি নিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে যেকোনো ধরনের মাদক বা মাদকের নামে বিষাক্ত ভেষজ ও কেমিক্যালাইজড ওষুধ বিক্রির চক্রকে বরদাশত করা হবে না।
কেএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের সাঁড়াশি অভিযান ও জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। ইয়াবার সংকট তৈরি হওয়ায় অপরাধীরা যে কৌশলই নিক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। এসব জীবনঘাতী রাসায়নিক ওষুধ বা জালিয়াতির মাধ্যমে মাদক বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”











































