আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
প্রশিক্ষণ চলার সময় সমস্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি একটি ওয়েবসাইটে গোপন প্রবেশাধিকার বাগিয়ে নিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’-এর একটি এআই মডেল। এ ঘটনাকে ‘পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ।
আলবানিজ জানান, গত জুনে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি তথ্য পোর্টালে ঢোকার চেষ্টা করে ওই এআই মডেলটি। একপর্যায়ে সাইটের সিস্টেম প্রবেশাধিকার রুদ্ধ করলে সেটি ‘না’ শুনতে রাজি হয়নি। নিজের মতো করে নিরাপত্তা সীমা পেরিয়ে এমন অংশে ঢুকে পড়ে, যেখানে ব্যক্তিগত ফাইল রাখা ছিল।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, জুনে এ অঘটন ঘটলেও সেপ্টেম্বরের আগে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে কিছু জানায়নি ওপেনএআই। সেটাও জানানো হয়েছে সাধারণ একটি সরকারি ইমেইল ঠিকানায়, যা দিনে মাত্র একবার দেখা হয়।
সম্প্রতি ওপেনএআই এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর তৈরি এআই মডেলগুলোর এমন বেশ কিছু কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসায় বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
বুধবার (২৩ সেপেটম্বর) নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, ‘আজ আমি ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি এবং এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার তীব্র উদ্বেগের কথা তাকে জানিয়েছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ঘটনাটি সরকারকে জানাতে প্রতিষ্ঠানটি যে দীর্ঘ সময় পার করে দিয়েছে, সে বিষয়েও আমি আমার হতাশ প্রকাশ করেছি। ১০ সেপ্টেম্বরের আগে তারা আমাদের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্যই দেয়নি। আর যা-ও দিয়েছিল, তা-ও একটি পাবলিক মেইলবক্সে পাঠানো ইমেইল মাত্র।’
এআই মডেলটি পুরোনো একটি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ওয়েবসাইটের পাবলিক ও নন-পাবলিক দুই ধরনের ফাইলই অ্যাক্সেস করেছে। তবে আলবানিজ স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর তথ্য চুরি যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সরকারের অন্য কোনো সেবাও বিঘ্নিত হয়নি।
‘তা সত্ত্বেও পুরো পরিস্থিতিটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়,’ বলেন আলবানিজ।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সেবা মন্ত্রী কেটি গ্যালঘার জানান, গত জুনে ওপেনএআই যখন তাদের মডেলগুলোর কর্মদক্ষতা যাচাই করতে পরীক্ষা চালাচ্ছিল, তখন ঘটনাটি ঘটে। তারা এআই মডেলটিকে ইন্টারনেট ঘেঁটে অস্ট্রেলিয়া সরকার ওষুধে কত টাকা খরচ করে সেই সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে আনতে বলেছিল।
তবে ওপেনএআই দাবি করেছে, গত আগস্টে নিয়মিত পর্যালোচনার সময় ছাড়া তারা এই অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা ধরতে পারেনি।
‘দেয়াল ডিঙাল’ এআই
স্যান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক সংস্থা ওপেনএআই গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকারিদের জন্য নির্ধারিত একটি সাধারণ ইমেইলে বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি জানায়।
কেটি গ্যালঘার বলেন, ‘ওই ইমেইলটি দিনে একবার করে চেক করা হয়। আমাদের একজন কর্মী তা নিয়মিত দেখেন। প্রায়ই ওখানে নানান ভুয়া বা ফেক নোটিফিকেশনও আসে।’
এ ঘটনাকে রূপক অর্থে বর্ণনা করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বলেন, ‘এআই মডেলটি সোজা সীমানা প্রাচীর ডিঙিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছে। সে একটি তথ্য চেয়েছিল, কিন্তু সিস্টেম যখন তা প্রত্যাখ্যান করল, তখন পিছিয়ে না এসে দেওয়াল টপকে ভেতরে চলে গেল।’
পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। তদন্ত কাজে যুক্ত করা হয়েছে দেশের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাকেও।
এক বিবৃতিতে ওপেনএআই জানিয়েছে, ‘আমরা নিজেদের মডেলগুলোর ব্যাপক পর্যালোচনার সময় বিষয়টি ধরেছি। একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের অংশ হিসেবে আমাদের এআই অস্ট্রেলিয়া সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নের উত্তর ও পরিসংখ্যান খুঁজছিল। তখন কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবায় অনিচ্ছাকৃত এ কর্মকাণ্ড ঘটে। এমন পদক্ষেপ নেওয়া মডেলটির উদ্দেশ্য ছিল না।’
উল্লেখ্য, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকিবিষয়ক এক বিশেষ বৈঠকে স্যাম অল্টম্যানসহ শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশ নেন।
সম্প্রতি ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকসহ বিশ্বের একশোরও বেশি প্রতিষ্ঠান একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করে এআই-সংক্রান্ত সাইবার হুমকি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।
কিছুদিন আগেই ওপেনএআই-এর দুটি মডেল তাদের আবদ্ধ টেস্টিং পরিবেশ ভেঙে বেরিয়ে ‘হাগিং ফেস’ নামক ডেভেলপারদের প্ল্যাটফর্মের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশ করে ফেলেছিল। অন্যদিকে অ্যানথ্রোপিকও সম্প্রতি জানিয়েছে, বাস্তব দুনিয়ার সিস্টেম থেকে দূরে রেখে পরীক্ষা চালানোর পরও তাদের তৈরি মডেল তিনটি অজ্ঞাত প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। এমনকি গুগলও গত সপ্তাহে জানায়, তাদের এআই মডেল ‘জেমিনি’ পাসওয়ার্ড আন্দাজ করে বেশ কয়েকটি সিস্টেমে সফলভাবে ঢুকতে পেরেছিল।










































