Home আঞ্চলিক থানা হেফাজতে পুলিশের অমানুষিক নির্যাতনে প্রাণ গেল রাজুর, ওসি ও এসআইয়ের...

থানা হেফাজতে পুলিশের অমানুষিক নির্যাতনে প্রাণ গেল রাজুর, ওসি ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ

419

স্টাফ রিপোর্টার।।

গণপিটুনি নয়, বরং থানা হেফাজতে আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এসআইয়ের নির্মম নির্যাতনের কারণেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে রাজু বিশ্বাসের (২৬) এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলেছে নিহত রাজুর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।

ঘটনার বিবরণ অনুসন্ধানে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বন্ধুদের ফোন পেয়ে খানজাহান আলী থানার পাড়িয়ারডাঙ্গা এলাকার বাড়ি থেকে বের হন রাজু। বের হওয়ার সময় মা-কে একটি ১০০ টাকার নোট হাতে দিয়ে বলেছিলেন দ্রুতই ফিরে আসবেন। কিন্তু বন্ধুদের আহ্বানে রাyersমহল এলাকায় গিয়ে তিনি এক গভীর চক্রান্তের ফাঁদে পড়েন। স্থানীয় সূত্রে গুঞ্জন রয়েছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে মিম নামের তিন বছরের এক শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে রাজু ‘ছেলেধরা’ গুজবের শিকার হন।

শিশুর দাদি ফাতেমার চিৎকারে স্থানীয় কিছু লোক রাজুকে ধরে নিয়ে ফাতেমার ভাড়া করা গ্যারেজে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে আড়ংঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাজুকে উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারের সময় রাজু হেঁটে গাড়িতে উঠছেন এবং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ বলেই মনে হচ্ছিল।

তবে অভিযোগের মূল তীর ওঠে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধার পরবর্তী ঘটনাবলী পর্যালোচনা করে মানবাধিকার কর্মী এবং নিহতের পরিবার দাবি করেছে, আশঙ্কাজনক বা অভিযুক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে না পাঠিয়ে সরাসরি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

থানার অভ্যন্তরীণ সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আড়ংঘাটা থানায় নিয়ে যাওয়ার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর রহমান এবং এসআই মিলন রাজুর ওপর চড়াও হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্যাতন চলাকালে এসআই মিলন রাজুর গলা পাড়িয়ে ধরেন এবং ওসি হালিমুর রহমান তার বুকের ওপর উঠে বেধড়ক মারধর চালান।

থানা হেফাজতে এমন অমানুষিক নির্যাতনে রাজুর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে তড়িঘড়ি করে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, রাজু কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার করা যেত। কিন্তু সাধারণ জনগণের পিটুনির পর পুলিশ হেফাজতে নিয়ে একজন দায়িত্বশীল ওসি ও এসআইয়ের এমন নৃশংস আচরণ ও হত্যাযজ্ঞ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। আড়ংঘাটা থানার ওসি মো. হালিমুর রহমান ও এসআই মিলনসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও বিভাগোত্তর আইনি তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।