তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি।।
দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের মেরামত বা সংস্কার কাজ না হওয়ায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রায় ২৫০ কিলোমিটার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন চরম বেহাল রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে পুরো উপজেলায় তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ। জরাজীর্ণ এসব সড়কে প্রতিদিন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা; ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও।
উপজেলার জেঠুয়া-শালিকা বটতলা, জেঠুয়া-মাগুরা, তালা সদর-খানপুর, খলিশখালী-দলুয়া, খলিলনগর-কাশিমনগর ও পাটকেলঘাটা বল ফিল্ড সড়কসহ প্রধান প্রধান গ্রামীণ রাস্তা ঘুরে দেখা যায় করুণ দৃশ্য। বড় বড় গর্তে পানি জমে সড়কগুলো যেন ছোটখাটো ডোবায় পরিণত হয়েছে। এতে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সড়কের বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও মাছ সময়মতো হাটে পাঠাতে না পেরে এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা চরম লোকসানের মুখে পড়ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক সড়কে সাধারণ ভ্যান চালকরাও এখন যাত্রী তুলতে চান না। ফলে একদিকে নিত্যদিনের আয় কমেছে শ্রমজীবী মানুষের, অন্যদিকে যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে বাড়ছে অতিরিক্ত খরচ।
উপজেলা নাগরিক কমিটির নেতারা এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মতে, স্কুল, কলেজ, সরকারি দপ্তর ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই পথগুলো সংস্কারের অভাবে পরিত্যক্ত প্রায়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের জরুরি চিকিৎসায় হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা প্রকৌশলী রথীন্দ্র নাথ হালদার জানান, উপজেলায় বিশাল এই ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিপরীতে প্রতিবছর যে পরিমাণ সরকারি বরাদ্দ আসে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার মেরামত করা সম্ভব হয়। তবে ইতোমধ্যে ‘গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্প’-এর আওতায় ১৪৫ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য তালিকায় যুক্ত করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে দ্রুতই প্রাক্কলন প্রস্তুত করে কাজ শুরু করা হবে।










































