সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
সাতক্ষীরার মাটির তৈরি তৈজসপত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় চাহিদা ছাড়িয়ে এসব পণ্য যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এতে স্থানীয়দের জীবিকায় তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। সরকারি সহায়তা পেলে শুধু পাল সম্প্রদায় নয়, আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
সুনিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে মাটির নানা তৈজসপত্র। নান্দনিক প্লেট, গ্লাস, চায়ের কাপ, মগসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি হচ্ছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাঝিয়াড়া গ্রামে। যত্ন করে তৈরি এসব পণ্য দেখে বোঝার উপায় নেই যে এগুলো মাটির তৈরি। তাই এসব পণ্যের চাহিদাও বেশ ভালো।
সাতক্ষীরা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে এসব তৈজসপত্র। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে শতাধিক পরিবারের। এক কর্মী বলেন, ‘মাসে ৬ হাজার টাকা মজুরি পাই। এতে আমার সংসার চলে যায়।’
আরেক নারী কর্মী বলেন, ‘ছেলেদের পড়াশোনার খরচেও টাকাটা কাজে লাগাতে পারি। থালা, কাপ, পিরিচ, ফুলের টব, বাটি, তিন-চার ধরনের জগ ও বোতল তৈরি হয়।’
উদ্যোক্তারা জানান, একসময় বিলুপ্তির পথে ছিল মাটির তৈজসপত্র তৈরির এই শিল্প। এখন আধুনিকভাবে মেশিনের মাধ্যমে এসব পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি এসব পণ্য বিদেশেও যাচ্ছে।
তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্পের আরও প্রসার ঘটানো সম্ভব বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তা শেখ ইয়াকুব আলী বলেন, ‘এরই মধ্যে ৬০০ পরিবারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছি। আমরা যদি এটিকে আরও সম্প্রসারণ করতে পারি এবং মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি করতে পারি, তাহলে দেশে ও দেশের বাইরে এসব পণ্য বিক্রি করে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।’
বর্তমানে কারখানাটিতে পাল সম্প্রদায়ের অন্তত ৬০০ পরিবার কাজ করছে।










































