স্পোর্টস ডেস্ক।।
বাংলাদেশ দল এখন একটি সুখী পরিবার। হাসিখুশি ও আনন্দে ভরপুর। ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ে পুরো দলের এই চেহারা। আত্মবিশ্বাস এতটাই তুঙ্গে যে ছোটখাটো চোট মুশফিকুর রহিম বা তানজিদ হাসান তামিমকে বিচলিত করতে পারছে না। আঙুলে দুবার বলের আঘাত পেলেও নেট ছাড়েননি মুশফিক। তানজিদ বিশ্রাম নিলেও হাল ছাড়েননি। আসলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির মতো একটা প্রবল আকাঙ্ক্ষা ক্রিকেটারদের টেনে নিতে চায় রেকর্ড গড়ার মঞ্চে। কোচ ফিল সিমন্সও প্রত্যাশার বাইরে নন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ম্যাকাইয়ে প্রথম অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ভালো আছে দল, আত্মবিশ্বাস উঁচুতে। এই টেস্টেও ডারউইনের ধারাবাহিকতা দেখাতে চান তিনি।
বাংলাদেশ ছন্দ পেলে ভয়ংকর দল। বিশ্বের যে কোনো কন্ডিশনে, যে কোনো প্রতিপক্ষকে হারাতে পারেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ডারউইন থেকে ম্যাকাইয়ে আসা টাইগারদের। কোচ সিমন্সের মতে, ‘ওই জয়ের পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আমরা ভালো খেলতে পারলে জেতা সম্ভব। উঁচুতেই আছে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস।’
টেস্ট ক্রিকেটে শুধু আত্মবিশ্বাস দিয়ে ভালো করা কঠিন। কে না জানে টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করতে হলে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে হয় পাঁচ দিনে ১৫টি সেশন। তাই ডারউইন জয়ের আবেগে আপাতত দাঁড়ি টেনে নিজেদের প্রস্তুত করছেন কাল থেকে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় টেস্টের জন্য। কারণ স্বাগতিকদের হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করতে হলে সক্ষমতার চূড়ান্ত নিবেদন ঢেলে দিতে হবে ২২ গজে।
খেলোয়াড়দের সে কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন কোচ, ‘অস্ট্রেলিয়া প্রবলভাবে ফেরার চেষ্টা করবে। জিততে হলে আমাদের ওই মানের ক্রিকেট খেলতে হবে বা কিছু কিছু জায়গায় আরও ভালো করতে হবে। কারণ আমরা জানি তারা তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ফিরবে।’
প্রথম টেস্ট খেলার আগেও আলোচনায় ছিল কন্ডিশন। পেস ও বাউন্সি উইকেটের জুজু ছিল দলে। আগে বোলিং করার সুযোগ পেয়ে পেসার হাসান মাহমুদ জুজুর ভয় তাড়ান ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করে। ম্যাকাইয়ে গ্রেট বেরিয়ার রেফ অ্যারেনার কন্ডিশন নিয়েও বেশ আলোচনা। অসি ধারাভাষ্যকাররা ডারউইন টেস্টের শেষদিন সামনে আনেন বিষয়টি। পন্টিং বলেছিলেন, পেস ও বাউন্সি উইকেটে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বাংলাদেশকে।
টাইগার কোচের কাছে দ্বিতীয় টেস্টের কন্ডিশন নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ডারউইনে তীব্র বাতাস ছিল। এখানেও উভয় দলকে প্রবল বাতাসের মধ্যে খেলতে হবে। মানিয়ে নিতে হয় কন্ডিশনে। এ কারণে ম্যাচের কয়েক দিন আগে আমাদের এখানে আসা। ছেলেরা মানিয়ে নিয়েছে এবং ভালো করবে বিশ্বাস।’ তিনি জানান, ভালো লেগেছে উইকেট দেখে, ‘টেস্টের জন্য আদর্শ উইকেট। ঘাস আছে, পিচ শক্ত। টেস্টের উইকেট যেমন হয় সাধারণত।’
দেশের মাটিতে ভালো উইকেটে খেলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতলেও হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল টি২০ সিরিজে। বেশি বাজে ক্রিকেট খেলেছে জিম্বাবুয়েতে। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। তিন দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারা দলটি ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। স্বাভাবিকভাবেই মিনোস হিসেবে সমালোচনা ছিল বাংলাদেশকে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেকরা বলাবলি করেছেন, দুই দিনে ম্যাচ জিতে নেবে তাদের দল।
তবে মাঠের পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন না পড়ায় লজ্জায় পড়ে অসিরা। বাজেভাবে ফেল করেন পেট কামিন্সরা। চতুর্থ দিন চা বিরতির আগে ৯ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ। ভোজবাজির মতো টাইগারদের বদলে যাওয়া এখনও রহস্য অসি সাংবাদিকদের কাছে। ফিল সিমন্সকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেন একজন। বাংলাদেশ কোচ উত্তরে বলেন, ‘তিন দিনের ম্যাচের আগে আমি অনুশীলন দেখেছি। প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছি টেস্ট ম্যাচের আগে। সত্যি বলতে খেলোয়াড়রা কোনো কিছুতে পরিবর্তন আনেনি। প্রসেসটা ঠিক রেখে জিততে চেয়েছে এবং জিতেছে তারা।’
সিরিজ নির্ধারণী টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগেই শেষ হওয়া নিয়ে আলোচনা বেশি। টাইগার কোচের মতে, ‘টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিন খেলা হয়। আমরা প্রতিটি সেশন ভালো ব্যাটিং করতে পারলে প্রতিপক্ষ চাপে থাকবে। বড় স্কোর করতে পারলে চাপে রাখা সম্ভব হয়। আমরা ব্যাটিংয়ে বড় রান করতে চাই। সেভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে ব্যাটিং ইউনিটকে।’
সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ক্রিকেটারদের কাছে প্রত্যাশার পারদ চূড়ায় উঠে গেছে বলে মনে করেন টাইগার কোচ, ‘বাংলাদেশ সব সময় উচ্চ প্রত্যাশায় থাকে। বিশেষ করে আমরা জিতে গেলে। গত কয়েকটি ম্যাচ জয়ের পর প্রত্যাশা বেড়েছে। কেবল জিম্বাবুয়ে সিরিজটি ছাড়া। ডারউইনে জয়ের পর প্রত্যাশা কিছু বাড়া স্বাভাবিক।’ অবশ্য সিমন্স সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশিদের মতো আবেগী নন তিনি। বাস্তবতার নিরিখে চিন্তা করে দলের সাফল্য-ব্যর্থতা মেনে নেন। ম্যাকাই টেস্ট নিয়েও সেভাবে ভাবছেন তিনি।










































