স্টাফ রিপোর্টার।।
বুকে তীব্র ব্যথা ও মারাত্মক শ্বাসকষ্ট নিয়ে বটিয়াঘাটার বৃদ্ধ আনসার শিকারী যখন খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন শয্যা তো দূরের কথা, মেঝেতেও ঠাঁই মেলেনি তাঁর। বাধ্য হয়ে মূল ভবনের সিঁড়ির পাশের নোংরা ফাঁকা জায়গায় বিছানা পেতে চলে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা। শুধু আনসার শিকারীই নন, রূপসার ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের নিচতলার ধূলিমলিন বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়ার দৃশ্য নিত্যদিনের।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি খুলনা ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু সাড়ে ৯ বছর পার হলেও বাস্তবে শয্যা বেড়েছে মাত্র ১০টি! ১১০ শয্যায় খুঁড়িয়ে চলা এই হাসপাতালে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
১৯৩৮ সালে ভৈরব নদের তীরে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন এই হাসপাতালে ২০২৫ সালে বহির্বিভাগে সাড়ে তিন লক্ষাধিক এবং চলতি বছরের মাত্র সাড়ে সাত মাসে ২ লাখ ২১ হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার রোগী বহির্বিভাগে আসলেও শয্যা ও চিকিৎসকের চরম সংকটে সাধারণ রোগীদের ফিরতে হচ্ছে হতাশ হয়ে। ২৫০ শয্যার জনবল ও অর্থ বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় তা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না।
প্রকল্প চালুর ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের চরম গাফিলতি ও ঠিকাদারি জটিলতায় ২০১৮ সালে শুরু হওয়া নতুন বহুতল ভবনের কাজ এখনো শেষ হয়নি। নির্মাণাধীন ভবনের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে সম্প্রতি নতুন করে ২০ কোটি ৪৩ লাখ টাকার চুক্তি করা হলেও ২০২৭ সালের আগে এ ভবন পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে ১৯৩৮ সালে নির্মিত জরাজীর্ণ মূল ভবনের ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ায় ৩য় তলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং ঝুঁকি এড়াতে টিনশেডে চালানো হচ্ছে পুরুষ বহির্বিভাগ।
হাসপাতালটিতে চরম চিকিৎসক সংকটও বিদ্যমান; অনুমোদিত ৮৬টি পদের মধ্যে ৪৮টি পদই শূন্য। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, আইসিইউ ও এইচডিইউ সেবার জন্য ৩০টি আধুনিক শয্যা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম এসে পড়ে থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও ভেন্টিলেশন সুবিধার অভাবে তা তালাবদ্ধ অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. রফিকুল ইসলাম গাজী জানান, দীর্ঘদিনের আইনি ও নির্মাণ জটিলতা কেটে নতুন প্রকল্পে আবার কাজ শুরু হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ভবন সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে আইসিইউ, সিসিইউ, স্ক্যানো এবং সিটি স্ক্যান ও এমআরআই-এর মতো আধুনিক সুবিধা চালু করে পূর্ণাঙ্গ ২৫০ শয্যার সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ভোগান্তি থেকে খুলনাবাসী কবে নাগাদ পুরোপুরি মুক্তি পাবে, সেই উত্তর এখনো অনিশ্চিত।










































