Home খেলাধুলা ‘শরীরে ৪টি বোমা বেঁধে মেসিকে উড়িয়ে দেবো’

‘শরীরে ৪টি বোমা বেঁধে মেসিকে উড়িয়ে দেবো’

3


স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি একাধিক গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। স্পেনের সংবাদমাধ্যম ইনফরমাসিওন ডট ইএসের হাতে আসা একটি ফাঁস হওয়া পুলিশি নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে খেলোয়াড়, রেফারি ও কর্মকর্তাদের ঘিরে বোমা হামলার হুমকি, অনুসরণ করা এবং অনলাইনে হুমকির একাধিক ঘটনা ঘটেছিল। এসব নিরাপত্তা তদন্তে আর্জেন্টিনা ও দলটির অধিনায়ক মেসির নাম বিশেষভাবে উঠে আসে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোকে ঘিরে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় কাজ করছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর একটি ছিল আটলান্টা স্টেডিয়ামে মেসির ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলার হুমকি।

নথি অনুযায়ী, এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দিয়ে দাবি করেন, বিস্ফোরক নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকে তিনি মেসিকে হামলার লক্ষ্য বানাবেন।

ওই ব্যক্তি লিখেছিলেন, ‘আমি আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকে শরীরে চারটি বোমা বেঁধে মেসিকে উড়িয়ে দেব।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপকে ঘিরে চলমান ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ হুমকিটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছিল।

আরেকটি ঘটনায় ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করেন, তিনজন ব্যক্তি ঘরে তৈরি বোমা ও একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে একটি স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছে। তিনি পুলিশ কর্মকর্তা ও দুই দলের খেলোয়াড়দের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষভাবে মেসির নাম উল্লেখ করেন।

এসব ঘটনা বিশ্বকাপের মতো বিশাল আন্তর্জাতিক আসরে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল তারকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে কতটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তা তুলে ধরে।

মেসিই শুধু নিরাপত্তা হুমকির তালিকায় ছিলেন না। পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও ঘিরে একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক ফিফা কর্মী নাকি এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে রোনালদো কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে দেখেছিলেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন শহরে একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের ঘটনা তদন্ত করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বিশ্বকাপের ম্যাচ কর্মকর্তারাও হুমকির বাইরে ছিলেন না। ফ্রান্সের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তের পর প্রতিযোগিতা চলাকালে সামাজিক যোগাযোগের বার্তাব্যবস্থায় প্রায় ৬ হাজার হুমকিমূলক বার্তা পেয়েছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মেসি, রোনালদো ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের ঘিরে এসব ঘটনা দেখিয়ে দেয়, মাঠের ভেতরের সিদ্ধান্ত কিংবা মাঠের বাইরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা কীভাবে নিরাপত্তা হুমকির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন।

ফাঁস হওয়া পুলিশি নথি অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে মেসিকে বোমা হামলা, অনুসরণ এবং বিভিন্ন ধরনের অনলাইন হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।