Home আঞ্চলিক সুন্দরবনে ৩মাসের নিষেধাজ্ঞা: উপার্জনের পথ বন্ধ, পরিবার নিয়ে চরম দিশেহারা কয়রার ১২...

সুন্দরবনে ৩মাসের নিষেধাজ্ঞা: উপার্জনের পথ বন্ধ, পরিবার নিয়ে চরম দিশেহারা কয়রার ১২ হাজার বনজীবী

19

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও প্রজনন মৌসুম নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারের দেওয়া তিন মাসের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার কারণে উপকূলীয় খুলনার কয়রা উপজেলার হাজার হাজার বনজীবী পরিবারে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। কাজ ও উপার্জনের বিকল্প পথ না থাকায়, জমানো সঞ্চয় শেষ হয়ে পরিবার নিয়ে অনাহার- অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। মহাজনের চড়া সুদের ঋণ এবং এনজিওর কিস্তির চাপ জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধার, গাছপালার স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং মাছ, কাঁকড়াসহ বন্যপ্রাণীদের নির্বিঘ্ন প্রজননের লক্ষ্যে প্রতি বছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস বনে সব ধরনের প্রবেশ ও সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ থাকে।

পরিবেশ সুরক্ষায় এ সিদ্ধান্ত জরুরি হলেও, কয়রা উপজেলার মঠবাড়ি, দক্ষিণ বেদকাশী, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর কয়রা, মহেশ্বরীপুর এবং বানিয়াখালীসহ বিভিন্ন গ্রামের সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে হাহাকারের চিত্র। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলায় এলাকায় দিনমজুরি বা কৃষিকাজের কোনো সুযোগ নেই। ফলে অধিকাংশ পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষ এখন সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

কয়রার প্রায় ১২ হাজার বননির্ভর জেলে ও বাওয়ালি পরিবারের মধ্যে একটি বড় অংশ এখনও সরকারিভাবে নিবন্ধিত হতে পারেনি। ফলে তাঁরা সরকারি সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। নিবন্ধিত মাত্র ২ হাজার ৮২ জন জেলেকে সম্প্রতি মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হলেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মঠবাড়ি গ্রামের জেলে লিটন সরদার আক্ষেপ করে বলেন, “দীর্ঘ দুই দশক ধরে বনে মাছ-কাঁকড়া ধরে সংসার চালাই। কিন্তু এখন নৌকা কাদা-জলে বাঁধা। মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বাচ্চাদের মুখে কোনোমতে খাবার তুলে দিচ্ছি।”

উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সুন্দরবনের সুরক্ষা জরুরি হলেও বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা উপকূলীয় মানুষের জীবনে মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনে। তিনি প্রতিটি প্রকৃত বনজীবীর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কিস্তি আদায় সাময়িক স্থগিত রাখা এবং সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ ও বিকল্প প্রশিক্ষণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বনজীবীদের জন্য কষ্টকর হলেও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের স্বার্থে এর কোনো বিকল্প নেই। তবে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার সরকার জানান, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সরকারিভাবে ইতোমধ্যে নিবন্ধিত বনজীবীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং তা সংকট লাঘবে কিছুটা ভূমিকা রাখছে।