দায়িত্ব নিচ্ছেন শফিকুল আলম মনা
শামিম শিকদার।।
কখনও কখনও একটি নিয়োগ কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে না; সেটি হয়ে ওঠে একটি শহরের বহুদিনের প্রত্যাশা, মানুষের বিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের নতুন স্বপ্নের প্রতীক। আজ খুলনার জন্য তেমনই একটি দিন। প্রায় ২৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন একজন বেসামরিক ব্যক্তি-খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. এস এম শফিকুল আলম মনা। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কেডিএ’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি।
এই নিয়োগ অনেকের কাছে শুধুই একটি পদায়ন নয়; বরং এটি খুলনার মানুষের সঙ্গে একজন জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের নতুন সম্পর্কের সূচনা। কারণ একটি শহরের প্রাণ কেবল তার সড়ক, ভবন কিংবা সেতুতে নয়Ñতার প্রাণ লুকিয়ে থাকে মানুষের আশা, নিরাপত্তা, পরিকল্পিত বিকাশ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া একটি সুন্দর ভবিষ্যতের মধ্যে।
১৯৯৮ সালের পর থেকে কেডিএ’র নেতৃত্বে ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর সেই ধারার পরিবর্তন ঘটিয়ে একজন রাজনৈতিক ও জনমানুষের প্রতিনিধি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খুলনাবাসীর প্রত্যাশাও অনেক বেশি। তারা বিশ্বাস করতে চায়, এবার হয়তো নগর উন্নয়নের প্রতিটি পরিকল্পনায় সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।
সমস্যা জর্জরিত খুলনা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ: আজকের খুলনা নানা সমস্যায় জর্জরিত। বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতায় থমকে যায় জনজীবন, অপরিকল্পিত নগরায়ণে হারিয়ে যাচ্ছে খাল ও জলাশয়, বাড়ছে যানজট, কমছে সবুজের পরিমাণ। শিল্পনগরী হিসেবে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনার অভাব ও দীর্ঘসূত্রতায় অনেক উন্নয়ন উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। এমন বাস্তবতায় কেডিএ’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব শুধু একটি প্রশাসনিক চেয়ার নয়; এটি হাজারো মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভার বহনের দায়িত্ব। এস এম শফিকুল আলম মনা দায়িত্ব গ্রহণের আগে গণমাধ্যমে বলেছেন, তিনি সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন। তিনি খুলনাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব নগরীতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাঁর এই অঙ্গীকার নিঃসন্দেহে আশাবাদ জাগায়। তবে বাস্তবতা হলো, প্রতিশ্রুতির চেয়েও বড় কথা তার বাস্তবায়ন।
নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা: খুলনার মানুষ এখন এমন একজন নেতৃত্ব চায়, যিনি অফিসের দেয়ালের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবেন না; বরং মাঠে নেমে মানুষের কথা শুনবেন, নাগরিক সমস্যাকে নিজের সমস্যা হিসেবে দেখবেন এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন। কারণ জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি প্রকল্পের প্রকৃত মালিক জনগণই।
এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শফিকুল আলম মনার সামনে যেমন সম্মানের নতুন দুয়ার খুলছে, তেমনি বাড়ছে জবাবদিহিতার পরিধিও। ইতিহাস বলে, ক্ষমতার চেয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা অনেক কঠিন। আর সেই ভালোবাসা অর্জনের একমাত্র পথ হলো সততা, কর্মনিষ্ঠা এবং দৃশ্যমান পরিবর্তন।
খুলনাবাসীর চাওয়া: খুলনার তরুণরা চায় কর্মসংস্থান, ব্যবসায়ীরা চায় পরিকল্পিত অবকাঠামো, নাগরিকরা চায় জলাবদ্ধতামুক্ত নিরাপদ নগর, শিশুরা চায় খেলার মাঠ, প্রবীণরা চায় পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এসব প্রত্যাশা পূরণে কেডিএ’র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আজকের এই দায়িত্ব গ্রহণের দিনটি কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং গোটা খুলনার নতুন করে স্বপ্ন দেখার দিন।
নতুন দিগন্তের সূচনা: একটি শহর তখনই এগিয়ে যায়, যখন তার নেতৃত্ব মানুষের হৃদয়ের ভাষা বুঝতে পারে। যদি সেই উপলব্ধি, দায়বদ্ধতা এবং উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ নেয়, তবে আগামী দিনের খুলনা শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অন্যতম আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরীতে পরিণত হতে পারে।
নতুন দায়িত্বের এই মাহেন্দ্রক্ষণে এস এম শফিকুল আলম মনার প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। তাঁর নেতৃত্বে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নতুন গতি পাবে, স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে-এমন প্রত্যাশাই আজ প্রতিটি খুলনাবাসীর।









































