তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নে রাতের আঁধারে অবৈধ ড্রাম ট্রাক্টরে মাটি বহনের কারণে গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে স্থানীয় বাসিন্দারা শব্দদূষণ, সড়ক ক্ষতি এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামের বাজারসংলগ্ন একটি পুরনো দিঘি পুনঃখনন করে সেই মাটি স্থানীয় ‘ফারা বিক্সস’ নামের একটি ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদকাঠি গ্রামের আনছার নিকারীর পুত্র সেলিম নিকারী প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মাটি ওই ইটভাটার কাছে বিক্রি করেছেন।
মাটি খননস্থল থেকে ইটভাটার দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। দীর্ঘ এ পথে ভারী ড্রাম ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সড়কের একাধিক স্থানে ইতিমধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাতের আঁধারে মাটি বহন করা হচ্ছে। প্রতিবাদের মুখে একপর্যায়ে কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকলেও, স্থানীয় ইউনিয়নের একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তা আবার শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাহ সরদারসহ অনেকে জানান, সন্ধ্যা হলেই বিকট শব্দে ড্রাম ট্রাক্টর চলাচল শুরু হয়, যা রাতভর অব্যাহত থাকে। তাদের ভাষ্য, গরমের মধ্যে একদিকে বিদ্যুৎ নেই, আরেক দিকে ট্রাক্টরের বিকট শব্দে রাতে ঘুমানো সম্ভব হয় না। সারা দিন পরিশ্রমের পর বিশ্রাম নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
বাসিন্দারা আরও বলেন, সন্ধ্যার পর বাজার এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়ে। সে সময় ভারী যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সেলিম নিকারী বলেন, “মাটি কীভাবে বহন করব? সবাই ড্রাম ট্রাক্টরে বহন করে, আমিও তাই করছি।”
তালা উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রথীন্দ্রনাথ হালদার বলেন, গ্রামীণ সড়ক ড্রাম ট্রাক্টর চলাচলের উপযোগী নয়। তিনি বলেন, “এ ধরনের যানবাহন চললে সড়ক সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।”
তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান জানান, দিঘি পুনঃখননের জন্য কেউ তাঁর কার্যালয় থেকে কোনো অনুমতি নেননি। তিনি বলেন, “ড্রাম ট্রাক্টরে মাটি বহন সম্পূর্ণ অবৈধ। ঘটনার সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”









































