আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন ইতিহাসের এক নতুন মাইলফলকে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৬৯ দিনে গড়িয়েছে, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের স্থায়িত্বকেও ছাড়িয়ে গেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে কিয়েভ দখলের যে পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়া অভিযান শুরু করেছিল, তা এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে একাধিক পরাশক্তি সরাসরি জড়িয়ে পড়লেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ মূলত দুই দেশের সংঘাত হিসেবেই রয়ে গেছে। তবে ড্রোন, নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার ব্যবহারে এটি আধুনিক সময়ের সবচেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধ শুরুর সময় মস্কো দ্রুত বিজয়ের আশা করেছিল; কিন্তু ইউক্রেনের প্রতিরোধ এবং পশ্চিমা বিশ্বের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা সেই হিসাব বদলে দেয়। ন্যাটোর সদস্য না হওয়া এবং পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেন এত দীর্ঘ সময় রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টিকে থাকবে, তা অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন সময়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন। আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি; কিন্তু আলোচনার পরও যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতায় কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা সমর্থন ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশ সফর অব্যাহত রেখেছেন। পশ্চিমা সহায়তার ওপর নির্ভর করেই ইউক্রেন তার প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অনেক মিল রয়েছে। ট্রেঞ্চ যুদ্ধ, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, বিপুল প্রাণহানি এবং সামান্য ভূখণ্ডগত অগ্রগতির জন্য নিরন্তর লড়াই সেই মিলকে স্পষ্ট করেছে। দ্য ইকোনমিস্ট একে ‘বেদনাদায়ক মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময় পরও শান্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত। কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ এখন শুধু দুই দেশের সংঘাত নয়, বরং এটি বিশ্ব রাজনীতি, ইউরোপের নিরাপত্তা এবং আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
প্রকাশনাটির মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চাইলে নীতিনির্ধারকদের সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময় পরও শান্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত। কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ এখন শুধু দুই দেশের সংঘাত নয়, বরং এটি বিশ্ব রাজনীতি, ইউরোপের নিরাপত্তা এবং আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।











































