Home আন্তর্জাতিক ‘তরুণদের আন্দোলন হাইজ্যাক করছে বিজেপি-কংগ্রেস’

‘তরুণদের আন্দোলন হাইজ্যাক করছে বিজেপি-কংগ্রেস’

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

ভারতজুড়ে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিভিন্ন আন্দোলনকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতী।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সময় উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরের রাজনৈতিক ‘চক্রান্ত’ থেকে দূরে থাকা উচিত শিক্ষার্থী ও নবপ্রজন্মের।

তার অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টি ও কংগ্রেস তরুণদের আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।মায়াবতীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলনের পর এবার ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর এক দিন আগে উত্তরপ্রদেশের হাতরাসে দলীয় সমাবেশ থেকে বহুজন সমাজ পার্টির জাতীয় সমন্বয়ক তথা মায়াবতীর ভাইপো আকাশ আনন্দও তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

মায়াবতী বলেন, দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে নিজেদের সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তাদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে বহুজন সমাজ পার্টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছে। কিন্তু সেই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছে।দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে মায়াবতীর অভিযোগ, আন্দোলনটি প্রথমে ককরোচ জনতা পার্টির উদ্যোগে শুরু হয়েছিল। পরে কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগীরা সেই আন্দোলন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে।

তার দাবি, ওই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংসদের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।মায়াবতীর অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টি এবং কংগ্রেস কেউই তরুণদের সমস্যার সমাধান নিয়ে প্রকৃত অর্থে আন্তরিক নয়। সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে যে অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে, তার পিছনেও রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষায়, কখনও কখনও সংসদ অচল করে দেওয়া হচ্ছে সরকারের ব্যর্থতা ও ত্রুটি থেকে মানুষের নজর সরানোর জন্য। আবার এর পিছনে ক্ষমতা দখলের রাজনৈতিক পরিকল্পনাও থাকতে পারে। এমনকি শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও তিনি উড়িয়ে দেননি।রাঁচির সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী।

তার অভিযোগ, দিল্লির পর রাঁচিতেও শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিজেদের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। কিন্তু সেখানেও আন্দোলনকে পরে ভারতীয় জনতা পার্টি এবং তাদের সহযোগীরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

মায়াবতী বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরের শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলন এবং এখন রাঁচির আন্দোলন, দুই ক্ষেত্রেই তরুণদের প্রকৃত সমস্যার চেয়ে রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তার অভিযোগ, নির্বাচনী স্বার্থকে সামনে রেখে আন্দোলনগুলোর গতিপথ বদলে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের তরুণদের সামনে বেকারত্ব, শিক্ষা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান করা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে আন্দোলনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থী ও তরুণরাই।মায়াবতীর বক্তব্য, শিক্ষার্থী ও নবপ্রজন্মকে নিজেদের আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের প্ররোচনা বা স্বার্থের কাছে তাদের মাথা নত করা উচিত নয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে ঘিরে মায়াবতীর এই বক্তব্যের পিছনে তার দলের নতুন করে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর কৌশলও রয়েছে। বিশেষ করে আকাশ আনন্দের সাম্প্রতিক তরুণমুখী প্রচারের পর মায়াবতীর বক্তব্যকে সেই রাজনৈতিক প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে মায়াবতীর মূল বার্তা, শিক্ষার্থী ও তরুণদের সমস্যাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলনই হোক না কেন, তার লক্ষ্য যেন রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে পরিণত না হয়। তরুণদের স্বার্থেই আন্দোলনকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।