Home জাতীয় রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দুই নাকি তিনজন?

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দুই নাকি তিনজন?

6

ঢাকা অফিস।।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হতে যাচ্ছে। দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ ভোট।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা। ইসির তফসিল অনুযায়ী, এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য তিনটি মনোনয়নপত্র তোলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে একটি মনোনয়নপত্র।

এখন প্রশ্ন উঠেছে—দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন কতজন? তিনটি মনোনয়নপত্র তোলায় অনেকে মনে করছেন, প্রার্থী তিনজন হতে পারেন। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একজনই প্রার্থী দেবে বিএনপি। আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী ঘোষণা দিতে পারেন বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।

ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান আছে। কারণ একটি মনোনয়নপত্রে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে যাতে অন্যটি বিবেচনায় নেওয়া যায়। সদ্য বিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচনের সময়ও এমনটা করা হয়েছিল।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হওয়ার পথে। এ ছাড়া দু-একজনের নাম আলোচনায় আছে।

অন্যদিকে ১১ দলীয় জোট থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে। গত রবিবার জোটের বৈঠক শেষে প্রার্থী ঘোষণা করেন জোটের নেতারা। পরদিন সোমবার জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

প্রার্থী একজন হলে ভোটের প্রয়োজন হয় না

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থী একজন হলে এবং যাচাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হলে কমিশন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে নির্বাচনের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করবে কমিশন। তখন সংসদ অধিবেশন না থাকলে বিশেষ অধিবেশন ডাকার সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে বলে ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি জানান, অধিবেশনটি স্বল্পমেয়াদি হবে।

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

এর আগে দেশের ইতিহাসে একবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুর রহমান বিশ্বাস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী।

ওই বছরেই ৮ অক্টোবর সংসদীয় গণতন্ত্রে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সংরক্ষিত এমপিসহ ৩৩০ জন ভোটার থাকলেও ভোট দিয়েছিলেন মাত্র ২৬৪ জন। আর ভোট দেননি ৬৬ এমপি। নির্বাচন শেষে ফলাফলে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর তার বিপরীতে ৯২টি ভোট পেয়েছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে ওই নির্বাচনের পর গত ৩৫ বছরে আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলেও একক প্রার্থী থাকায় কোনো ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি।

তফসিল

আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ রেখে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামীকাল ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ইসি সূত্র অনুযায়ী, এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

এরপর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এক প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন, বাছাইয়ে একটি চূড়ান্ত হবে। ভোট হবে ২০ আগস্ট সংসদ অধিবেশন কক্ষে।

যেভাবে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা

২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বিরতিহীনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের কার্যক্রমের সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) করার সুবিধা থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হবে। ভোটার, অর্থাৎ সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে নিজ নিজ আসনেই অবস্থান করবেন। নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত কর্মকর্তারা তাদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। প্রতিটি ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি অংশ এবং মূল ব্যালট। মুড়ির অংশে প্রার্থীর ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের ঘর নির্ধারিত থাকবে।

ডান দিকের মূল ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে এবং পাশে থাকা ফাঁকা স্থানে ভোটার সংসদ সদস্য তার পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। ভোটারদের (সংসদ সদস্য) সুবিধার কথা মাথায় রেখে কক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স স্থাপন করা হবে, যার যেকোনো একটিতে তারা ভোট দিতে পারবেন বলে জানান ইসি সচিব।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষে অধিবেশন কক্ষের ভেতরে রাখা ব্যালট বাক্সগুলোর সামনেই সরাসরি ভোট গণনা শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত চার বা পাঁচজনের গঠিত একটি ব্যালট গণক দল ব্যালট পেপার শর্ট আউট করে গণনা কার্যক্রম শেষ করবে। মোট ৩৪৯টি ব্যালটের মধ্যে কতটি বৈধ বা বাতিল হয়েছে এবং কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তা নির্বাচনকর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অধিবেশন কক্ষেই সরাসরি সবার সামনে ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে কমিশন সচিবালয়ে এসে অফিশিয়ালি ফলাফলের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।