Home Lead বঙ্গভবনের পথে ফখরুল

বঙ্গভবনের পথে ফখরুল

8

ঢাকা অফিস।।

দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন আজ। প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সরকারি দল ও বিরোধী দল তাদের নিজেদের প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম নির্বাচন কমিশনে জমা দেবে। বিরোধী জোট নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও সরকারি দলের প্রার্থীর নাম জানা যাবে আজ। বিএনপি’র দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই ইস্যুতে আজ সকালে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম জমা দেবেন। আগামী ২০শে আগস্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই হবেন বঙ্গভবনের বাসিন্দা।


দলীয় সূত্র জানায়, শেষ মুহূর্তে নাটকীয় কোনো সিদ্ধান্ত না এলে প্রেসিডেন্ট পদে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই ঘোষণা হচ্ছে। দলের দায়িত্বশীল নেতারা চূড়ান্ত করে কিছু না বললেও তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলই এগিয়ে আছেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রেসিডেন্ট পদে যদি দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয় তাহলে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন তিনি।

ওদিকে গতকাল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মী সিরিয়াল ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। সাক্ষাতে অনেক নেতাকর্মী আবেগময় কথা বলেন। একজন নেতা বলেন, স্যার, আগে তো মাঠের নেতাকর্মীরা আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারতেন। এখন তো আপনি প্রেসিডেন্ট হলে প্রটোকলের ঘেরাটোপে আবদ্ধ হয়ে যাবেন। আমরা তো আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবো না। তখন বিএনপি মহাসচিব ওই কর্মীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, চিন্তা করো না, দেখা হবে ইনশআল্লাহ্‌।


এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল। দলের কঠিন সময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। ফ্যাসিবাদী আমলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন ‘সাদামাটা ও সজ্জন’ রাজনীতিবিদ হিসেবে সমধিক পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আজ পর্যন্ত মেলেনি। শুধু তা-ই নয়, রাজনৈতিক বিতর্কে শালীনতা বজায় রাখা এবং মার্জিত আচরণের জন্য তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও সমীহের পাত্র। এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক মহলেও তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।রাজনৈতিক সংবাদ আপডেট


মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনে গেলে শূন্যপদে কারা যাবেন? প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত ঘোষণার পর তাকে বিএনপি’র মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে। একইসঙ্গে তার সংসদীয় এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে। আসন শূন্য হলে সেখানে কে এমপি হবেন, তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ে কে আসবেন, দলের মহাসচিব কে হচ্ছেন এনিয়ে নানা আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে। পরবর্তী কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হবেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দেখা যেতে পারে এমনটা আলোচনা আছে। এদিকে মির্জা ফখরুল প্রেসিডেন্ট হলে তার ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে। সেখানে শিগগিরই উপনির্বাচনের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। এখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা নির্বাচন করতে পারেন বলে এলাকায় গুঞ্জন আছে। তিনি গত নির্বাচনে বাবার জন্য ভোটের মাঠে কাজ করেছেন।


পেশায় তিনি একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন এবং সেখানে সমাজসেবামূলক কাজের জন্য তার বেশ পরিচিতি রয়েছে। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি’র সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনের নামও আলোচনায় আছে।


বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এসব বিষয়ে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান। তিনি দল ও দেশের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা তাই মেনে নেবো।


দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার: ১৯৪৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (শিক্ষা ক্যাডারের) এর সদস্য হিসেবে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৮ সালে তিনি নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে বিএনপিতে যোগদান করেন তিনি। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি’র সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১, ২০০১ ও ২০২৬ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক সংবাদ আপডেট


২০০১ সালে জোট সরকারের আমলে কৃষি প্রতিমন্ত্রী ও বিমান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি’র ৫ম জাতীয় সম্মেলনে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০১১ সালের ২০শে মার্চ বিএনপি’র তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুর পর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের ১৯শে মার্চ দলটির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ এক দশক ধরে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি।