Home খেলাধুলা বাবাকে হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত মেসির

বাবাকে হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত মেসির

10

স্পোর্টস ডেস্ক।।

বাবা ও ফুটবল ক্যারিয়ারের আজীবন ছায়াসঙ্গী হোর্হে মেসিকে হারিয়ে যেন একেবারে ভেঙে পড়েছেন লিওনেল মেসি। রোজারিওর কাছের শহর পেরেজের এলো প্রাদো সমাধিক্ষেত্রে পারিবারিকভাবেই শেষ বিদায় জানানো হয়েছে হোর্হেকে।

বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর এবার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইন্টার মায়ামির এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা; আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময়টা পিছিয়ে দিয়েছেন তিনি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রিয়জনকে হারিয়ে চরম ভেঙে পড়া মেসি যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দেওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে একান্তে আরো কিছু সময় পার করতে চান। শনিবার রাতে নিজ দেশ আর্জেন্টিনায় পা রাখেন অধিনায়ক। বাবাকে যেখানে শেষ শয্যা দেওয়া হয়েছে, পুরো রাতটি সেখানেই কাটিয়েছেন তিনি।

রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে সমাধিক্ষেত্র থেকে বের হন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর।

এর কয়েক ঘণ্টা পর মেসি কেন্টাকি প্রদেশের ফুনেস শহরে অবস্থিত তার সুরক্ষিত আবাসিক কমপ্লেক্সের নিজস্ব বাসভবনে ফিরে যান। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ইনফোবে’র বরাতে জানা গেছে, ঘটনাগুলো ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। মেসির মতো বিশ্বখ্যাত তারকা যেখানেই যান, সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে নিমেষেই; অথচ তার আগমন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রায় কোনো তথ্যই বাইরে ফাঁস হতে দেওয়া হয়নি।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে ফোর্ড লডারডেল থেকে একটি চার্টার্ড বিমানে চড়ে ফিশারটনের আইসলাস মালভিনাস এয়ারপোর্টে নামেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানদের নিয়ে সোজা চলে যান পেরেজ সমাধিক্ষেত্রে, যেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তার ভাই ও অন্য ঘনিষ্ঠজনেরা।

একেবারেই নিরিবিলিতে আর গোপনীয়তা বজায় রেখে সম্পন্ন হয় হোর্হের শেষকৃত্য। অল্প কয়েকজন সাধারণ মানুষ সেখানে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ পান এবং শিশুরা ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে কিছু স্মারক রেখে যায়। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) পক্ষ থেকে পাঠানো হয় ফুল, আর জাতীয় দলের কয়েকজন কোচিং স্টাফ উপস্থিত ছিলেন সরাসরি।

মেসির পরিবারকে নিয়ে যখন একটি কালো এসইউভি গাড়ি সমাধিক্ষেত্রে প্রবেশ করছিল, বাইরে থেকে এক ভক্ত উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘শক্ত থাকো লিও!’ একই বার্তা লেখা ছিল সমাধিকক্ষের পাশের গেটে ঝোলানো একটি ব্যানারেও। রোজারিওর কনকনে শীতের রাত যেন নিস্তব্ধতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল। কোনো ধরনের হৈচৈ বা আলোড়ন ছাড়া, অত্যন্ত শান্ত পরিবেশে শেষ বিদায় জানানো হয় হোর্হে মেসিকে। পুরো শহরবাসীও যেন নীরব থেকে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের পারিবারিক প্রাইভেসির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেখাল।

এল প্রাদো থেকে মেসি সপরিবারে বের হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, দুপুরের আগেই হয়তো ফ্লোরিডার বিমান ধরবেন তাঁরা। তবে সেই বিমানটি খালিই উড়াল দেয়। বিকেল তিনটার আগে কেন্টাকির সেই সুরক্ষিত আবাসনের সামনে মেসির দেখা মেলেনি।

ওই সময় বাইরে ডজনখানেক সাংবাদিকের উপস্থিতি থাকলেও পরিবেশ ছিল থমথমে। প্রতিবেশীরা সবাই জানতেন ভেতরে কে আছেন, তবু শোকের এই কঠিন মুহূর্তে কেউ কোনো ছবি তোলা বা তাঁদের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেননি।