মিলি রহমান।।
কাজের চাপে বা ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে পিঠে ব্যথা হওয়া অত্যন্ত সাধারণ এক বিষয়। কিন্তু এই সাধারণ যন্ত্রণাই হতে পারে বড় কোনো বিপদের সংকেত।
চিকিৎসকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পিঠের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সঙ্গে শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ফুসফুসের সরাসরি সম্পর্ক থাকতে পারে। অবহেলিত পিঠের ব্যথা অনেক সময় ফুসফুসের ক্যান্সারের উপস্থিতি জানান দেয়।
ফুসফুস ও পিঠের ব্যথার সম্পর্ক
চিকিৎসকদের মতে, ফুসফুসের নিজের ভেতরে সরাসরি ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা নেই। তবে ফুসফুসে কোনো জটিলতা তৈরি হলে বা টিউমার ছড়াতে থাকলে তার আশপাশের স্নায়ু, হাড় ও টিস্যুতে চাপ পড়ে। ফলে বুকের তীব্র ব্যথা অনেক সময় পিঠ কিংবা কাঁধের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি এই ব্যথার তীব্রতায় রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ঘুম না আসার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
প্যানকোস্ট টিউমার ও ভুল চিকিৎসার আশঙ্কা
ফুসফুসের ওপরের অংশে এক বিষেষ ধরনের টিউমার হয়, যাকে ‘প্যানকোস্ট টিউমার’ বলা হয়। এই টিউমারটি কাঁধ ও হাতের দিকে যাওয়া স্নায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করে। এতে কাঁধে তীব্র ব্যথা হয় এবং হাতের আঙুল বা তালু অবশ হয়ে আসে। চিকিৎসকেরা জানান, অনেক সময় রোগীরা বিষয়টিকে সাধারণ ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ বা স্পন্ডিলোসিস মনে করে মাসের পর মাস ভুল চিকিৎসা করান। এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে বুকের এক্স-রে করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
পেশির টানের সাধারণ ব্যথা বিশ্রাম নিলে কমে যায়। তবে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি :
১। ব্যথা অনেক দিন ধরে থাকা এবং দিন দিন বেড়ে যাওয়া।
২। বিশ্রাম বা মলম ব্যবহারে ব্যথা না কমা।
৩। রাতে ব্যথার কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
৪। পিঠে ব্যথার সঙ্গে অকারণে ওজন কমে যাওয়া ও প্রচণ্ড ক্লান্তি।
৫। দীর্ঘদিনের কাশি, শ্বাসকষ্ট বা কাশির সঙ্গে রক্ত আসা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিঠে ব্যথা মানেই ক্যান্সার ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে ব্যথার সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ যোগ হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ।











































