ঢাকা অফিস।।
হঠাৎ করে ঢাকায় সফরে এসেছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর প্রধান পরাগ জৈন। তার এই সফরকে রহস্যজনক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ঢাকার অনরোধ উপেক্ষা করে দিল্লিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনে ভাচ্যুয়ালি বক্তব্য দিতে দেয়া হয়েছে। হাসিনা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। যা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র’এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা, পিলখানায় বিডিআর হত্যাকান্ড ও শাপলা চত্বরে গণহত্যায় নেপথ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। একই সাথে গুম ও আয়নাঘরের সাথে জড়িত বাংলাদেশের পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাদের মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে র’এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
.
…..
এমন এক সময় র’ প্রধান আসলেন যখন বাংলাদেশের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও হাদী হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত খুনীরাও ভারতে রয়েছে।
রোববার এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরাগ জৈনের সঙ্গে রয়েছেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি ও শৈবাল রায় চৌধুরী। ঢাকায় আসার আগে ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন চীন সফর করেছেন বলেও জানা গেছে।
সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এই সফরে পরাগ জৈন চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের এই সফরের বিষয়ে কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
সামরিক বিশেষজ্ঞ সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তফা কামাল বলেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর প্রধান পরাগ জৈনের বাংলাদেশ সফরটি খুবই তৎপর্যপূর্ণ। র’এর প্রধানের সফলটি পুরোপুরি মনিটরিং করা উচিত আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার। তিনি কখনো কোথায় যাচ্ছেন এবং কাদের সাথে বৈঠক করছেন এ বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে আমাদের গোয়েন্দাদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, র’এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারকে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে সহযোগিতার। একই সাথে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকান্ড ও শাপলা চত্বরে গণহত্যায় নেপথ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। একই সাথে গুম ও আয়নাঘরের সাথে জড়িত বাংলাদেশের পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাদের মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে র’এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়েও অস্থিরতা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে কেএনএফ, জেএসএস ও ইউপিডিএফয়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভারতে প্রশিক্ষন গ্রহন করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। সব বিষয়কেই বাংলাদেশ সরকারকে মনোয়োগ দিতে হবে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে ঢাকায় এসেছেন তিনি। তবে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সফর নিয়ে বাংলাদেশ বা ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রে আরও জানা গেছে, সফরকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঢাকার একটি হোটেলে অবস্থান করবেন।
পরাগ জৈন বর্তমানে ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (আরএডব্লিউ বা ‘র’) সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের (এসপিজি) স্পেশাল সেক্রেটারির দায়িত্বেও রয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সফরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের বৈঠক ও আলোচনায় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে পারে।











































