Home আঞ্চলিক বিএনপির প্রেমে সব হারিয়ে বিনা চিকিৎসায় ৪ কন্যা সন্তানকে এতিম করে না...

বিএনপির প্রেমে সব হারিয়ে বিনা চিকিৎসায় ৪ কন্যা সন্তানকে এতিম করে না ফেরার দেশে আত্তাপ

2

পাইকগাছা প্রতিনিধি।।

উন্নত চিকিৎসার অভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আত্তাপ গাজী (৪৫)। রবিবার রাত সাড়ে এগারোটায় উপজেলার কপিলমুনি ইউপির রেজাকপুর গ্ৰামের নিজস্ব বাস ভবনে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও চার কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। হতদরিদ্র মোঃ আত্তাপ গাজীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে কোন অর্থ সম্পদ রেখে যেতে পারেননি তিনি। মাএ দুই শতক জমির উপর একটি ছুপড়ি ঘর রয়েছে তার। ছোট ছোট চার কন্যা সন্তান নিয়ে জীবন সংগ্রাম শুরু হলো স্ত্রী শহিদা বেগমের।
কে এই আত্তাপ গাজী।

তরতাজা যুবক ও পিতা মাতার ৭ সন্তানের আদরের ছোট ছেলে মোঃ আত্তাপ গাজী। স্কুল জীবনে বিএনপির প্রেমে পড়ে ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে দেশের যে কোন জায়গায় দলের প্রোগ্রামে হাজির হতো। এর পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে চার কন্যা সন্তানের জনক হন। এই ভাবে ভালো ভাবে চলছিল সংসার জীবন। মুদি দোকানের পাশাপাশি মাছের ঘের ও বিভিন্ন ব্যাবসা পরিচালনা করে চলছিল সংসার। কিন্তু কালো মেঘ জমে আ’লীগ বিরোধী আন্দোলনে। একাধিক মামলার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়িতে চলতো পুলিশের অভিযান। বাড়ি ঘর ছেড়ে মাছের ঘের ও বাগানে রাত যাপন শুরু করলে ব্যাবসা বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে একদিন রাতে মাছের ঘেরে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হয়ে চরম নির্যাতনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আসলে শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। শারীরিক কথা চিন্তা না করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় আন্দোলনে যুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। কিছু দিন পর পেট ব্যাথা সমস্যা দেখা দেয়। কিছু দিন পর ধরা পড়ে মরণ ব্যাধি লিভার ক্যান্সার। ডাঃ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে বলেন।
কিন্তু হতদরিদ্র আত্তাপ গাজী (৪৫) অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয়ে বাড়িতে অবস্থান করেন। ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কোন সহযোগিতা পায়নি। খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুল হাসান বাপ্পী, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাঃ আব্দুল মজিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম এনামুল হকসহ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সামান্য সহযোগিতা পেয়ে ওষুধ খেয়ে চলতে থাকেন। উন্নত চিকিৎসার অভাবে রবিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে মৃত্যু হয় তার। সোমবার সকালে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।