দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি।।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত ‘পুশইন’ চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে সীমান্তে উভয় পক্ষের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখোমুখি অবস্থানের পর, বিজিবি ও স্থানীয় বাংলাদেশিদের অনড় অবস্থানের মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার ভোরে জোরপূর্বক পুশইন করার চেষ্টা করা ওই ১২ জন নারী ও শিশুকে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১২ জুন) ভোরে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮ /৩-এস সীমান্ত পিলারের কাছে সীমানা নদী পার করে নারী ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে বিএসএফ।
তবে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকা বিজিবি এবং গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে ওই ১২ জন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে কাঁটাতারের এপারে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিলেন।
সীমান্তে তৈরি হওয়া এই জটিলতা নিরসনে গত শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০ /৩-এস সাব-পিলারের কাছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে অবৈধ পুশইনের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
জবাবে বিএসএফ জানায়, ওই ১২ জনের পরিচয় এবং তথ্য ভারতের নাগরিক কি না তা যাচাই-বাছাই করার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সীমান্ত এলাকাতেই অবস্থান করতে হবে বলে বিএসএফ অনড় অবস্থান দেখায়, যার ফলে শনিবারের বৈঠকটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শেষ হয়।
শনিবারের বৈঠকের পর আরও এক দিন সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও, আজ সকালে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সকালে বিএসএফ ভারতীয় গ্রামবাসীদের একতাবদ্ধ করে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং নতুন করে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে। এর বিপরীতে বাংলাদেশের প্রাগপুর সীমান্তের গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যরাও সীমান্তে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেলে সীমান্তে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
অবস্থা বেগতিক দেখে একপর্যায়ে বিএসএফ অনড় অবস্থান থেকে সরে আসে এবং পুশইনের শিকার হওয়া ১২ জন নারী-শিশুকে সঙ্গে নিয়ে পিছু হটে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার ভেতরে নিয়ে যায়।
প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সকালে ভারতীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে বিএসএফ শূন্যরেখায় এলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বিজিবি ও আমাদের গ্রামবাসীদের শক্ত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ওই ১২ জনকে নিয়ে কাঁটাতারের ভেতরে ফিরে যায়।’
এই ঘটনার পর থেকে কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবি তাদের টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, বিজিবি ও সীমান্তবাসীর শক্ত প্রতিরোধের মুখেই বিএসএফ তাদের পুশইন করা ১২ জনকে নিয়ে পিছু হটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।










































