ঢাকা অফিস
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পৃথক দুটি জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। রোববার বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে আসামিদের অর্থদণ্ডাদেশ স্থগিত করেছেন আদালত। এখন পেপারবুক প্রস্তুত হলে ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল একসঙ্গে শুনানি হবে। আলোচিত এই মামলায় সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ৭ জুন রায় দেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১১ জুন পৃথক জেল আপিল করেন তাঁরা। পরে ওই জেল আপিল দুটি হাইকোর্টের এই বেঞ্চে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শরীফ ইউ আহমেদ, মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী ও মোহাম্মদ মেহেদি হাসান।
পল্লবী থানাধীন মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে সোহেল রানাদের ভাড়া বাসায় গত ১৯ মে শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ওই বাসা থেকে পুলিশ শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। একই দিন স্বপ্নাকে বাসা থেকে এবং সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আটক করা হয়। ওই ঘটনায় শিশুটির বাবা ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২৪ মে সোহেল রানা ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ১ জুন এ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। ২ জুন এক দিনে ১৬ জনের সাক্ষ্য নিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন যুক্তিতর্ক শুনানি হয়। ৭ জুন রায়ে দুই আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়। দ্রুত বিচারে এই মামলা দেশে নজির সৃষ্টি করেছে।










































