Home আঞ্চলিক বটিয়াঘাটায় ৪ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ বন্ধ

বটিয়াঘাটায় ৪ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ বন্ধ

2

স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালি ইউনিয়নের রায়পুর-ভগবতীপুর সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের প্যালাসেডিং কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চলমান কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা এলজিইডির অর্থায়নে কেডি আর আই ডিপি (খুলনা বিভাগীয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন) প্রকল্পের আওতায় ২০২২ সালে সড়ক উন্নয়নের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাহিদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলমগীর ফকির। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪ কোটি টাকা।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একাধিকবার সময় বৃদ্ধি করেও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশেষে ২০২৬ সালের জুন মাসে এসে মূল সড়কের কাজ শেষ করা হয়। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশও দেয়। সম্প্রতি সড়কের চারটি স্থানে প্রায় ৩০০ মিটার প্যালাসেডিং কাজ শুরু হলে আবারও নিম্নমানের নম্বরবিহীন ইট, নিম্নমানের বালু ও সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কাজটি বন্ধ করে দেয়।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাহিদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলমগীর ফকির বলেন, ভাটা থেকে ভালো মানের ইট সরবরাহ করা হয়নি। পুনরায় ভালো ইট এনে কাজ সম্পন্ন করা হবে।
বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী গৌতম কুমার মণ্ডল বলেন, কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়েছে। আমাদের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে নম্বরবিহীন ইট অপসারণ করেছে। এছাড়া যেসব নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করা হয়েছে, সেগুলো খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।