স্টাফ রিপোর্টার।।
নগরীর দৌলতপুর থানার বিএল কলেজ রোডের ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ জামে মসজিদে প্রবেশ করে দুই মুসল্লিকে গুলির ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর আসামি ধরতে মরিয়া পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে চালানো হচ্ছে অভিযান।
রবিবার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানার বিএল কলেজ রোডের ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ জামে মসজিদে প্রবেশ করে দুই মুসল্লিকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা।
আহতরা হলেন- মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম ও আলম মণ্ডল। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের ভেতর আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ এখন অবধি ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি। আহতদের মধ্যে লোকমান হাকিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিনের মতোই ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ জামে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন মুসল্লিরা। নামাজ শেষে কুরআন তেলাওয়াত চলছিল। এরপর যেকোনো এক সময় মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। তারা লোকমান হাকিমকে উদ্দেশ করে গুলি করে। এ সময় পার্শ্ববর্তী আলম মণ্ডলও আহত হন। ঘটনার পর লোকমান হাকিম নিজের মোবাইল দিয়ে ফোন করে পরিবারকে বিষয়টি জানালে তারা এসে উদ্ধার করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
এদিকে আলম মণ্ডলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। লোকমান হাকিমের শরীরে তিনটি এবং আলম মণ্ডলের শরীরে একটি গুলি লেগেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে।
ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম উত্তর কাশিপুর এলাকার মৃত জব্বার শেখের ছেলে। তিনি ওজোপাডিকোর ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন এবং তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও আছে। এদিকে আলম মণ্ডল খালিশপুরের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি কাপড়ের ব্যবসা করেন।
একাধিক মুসল্লি জানান, লোকমান হাকিম মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। ফজর ও এশার নামাজের পর কুরআন তেলাওয়াত করতেন। শুনেছি কুরআন তেলাওয়াত করার সময় নাকি তার ওপর গুলি করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় আতঙ্কিত।
৫৬ বছরের এক মুসল্লি বলেন, আমার বয়সে মসজিদের ভেতর এমন অপ্রীতিকর ঘটনা কখনো দেখিনি বা শুনিনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা। সাধারণ মানুষসহ মুসল্লিদের ভেতর আতঙ্ক বিরাজ করছে এ ঘটনার পর।
মসজিদের ইমাম মো. আমান উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, আমি ফজরের নামাজ শেষ করে বাসায় যাওয়ার পর শুনেছি মসজিদে গুলির ঘটনা ঘটেছে। দুজন গুলিবিদ্ধ, একজন ঢাকায় একজন খুলনায় চিকিৎসারত আছেন। লোকমান হাকিম কুরআন পড়ছিল এবং আলম মণ্ডল জিকির করছিল।
এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, লোকমান হাকিমের ওপর এর আগেও একবার গুলির চেষ্টা করা হয়েছিল। সেবার দুর্বৃত্তদের সেই সময় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি বের না হওয়ার কারণে তিনি বেঁচে যান। সম্প্রতি খুলনা থেকে বদলি হওয়া আলোচিত এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল। তেল ও ওজোপাডিকোর ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব আছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে লোকমান হাকিমের ফোন থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ, যা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
কেএমপির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (নর্থ) সুদর্শন কুমার রায় যুগান্তরকে বলেন, মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে মুসল্লিদের ওপর গুলির ঘটনা তদন্তে কয়েকটা টিম কাজ করছে। কিছু ডিজিটাল এভিডেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অতি দ্রুত এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আটক করে মূল ঘটনা উদঘাটন করা হবে। লোকমান হাকিম তেলের ডিপোর এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন, এছাড়া তিনি ওজোপাডিকোর ঠিকাদার ছিলেন। কোনো ব্যবসায়িক ও পারিবারিক শত্রুতা আছে কিনা এগুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া তেল ব্যবসার অনেক তথ্য আমাদের কাছে এসেছে তবে তদন্তের স্বার্থে এগুলো প্রকাশ করা যাচ্ছে না।










































