Home খেলাধুলা ‘ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কে কোনো সমস্যা নেই’

‘ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কে কোনো সমস্যা নেই’

0

স্পোর্টস ডেস্ক।।

ক্রিকেটার হিসেবে দীর্ঘ পথচলার পর এবার সংগঠকের ভূমিকায় তামিম ইকবাল। চলতি বছরের শুরুতে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সাবেক এই অধিনায়ক নতুন চ্যালেঞ্জকে দেখছেন দেশের ক্রিকেটের অনেক পুরোনো সমস্যা সমাধানের সুযোগ হিসেবে।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তামিম কথা বলেছেন নিজের নতুন দায়িত্ব, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো, ভারতের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ, টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের প্রভাব এবং দেশের পেস বোলিংয়ের পরিবর্তন নিয়ে।

প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়া ব্যাট হাতে নতুন বল সামলানোর চেয়ে কতটা ভিন্ন? এমন প্রশ্নে তামিম বলেন, ‘খুব, খুব ভিন্ন।

তবে এটাই আমি চেয়েছিলাম। আমি কিছু বিষয় ঠিক করতে চেয়েছি। গত ১৭-১৮ বছর খেলোয়াড় হিসেবে আমি ও আমার সতীর্থরা যেসব বিষয় নিয়ে সবসময় অভিযোগ করতাম, আমি সেগুলো ঠিক করতে চাই; যাতে খেলোয়াড়দের আর সেই অভিযোগগুলো না থাকে।’ সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়, সেটিও জানেন তামিম।

তবে ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোই এখন তার বড় লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমি খুব ভালো করেই জানি, সবকিছু করতে পারব না। তবে আমি নিশ্চিত, যথেষ্ট কিছু করতে পারব; যাতে সুবিধার দিক থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতি হয়। এখন ব্যাটিং, বোলিং বা ফিল্ডিং আমার কাজ নয়। আমি ব্যাট করতে পারব না, বোলিংও করতে পারব না। তবে খেলোয়াড়দের সেরা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সাহায্য করতে পারব; যাতে তারা দুই, তিন বা পাঁচ শতাংশ হলেও উন্নতি করতে পারে। সেটাই আমার লক্ষ্য।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ভাবমূর্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক এই ওপেনার। তার মতে, দেশের মানুষের কাছে ক্রিকেট শুধু খেলা নয়, গর্বের জায়গা। তামিম বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুনামের যে ক্ষতি হয়েছে, তা ভালো কিছু নয়। বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্রিকেট অনেক বড় ব্যাপার। তারা এটিকে নিয়ে গর্ব করে। সেই গর্ব ফিরিয়ে আনতে হবে। আমি সেটাই করার চেষ্টা করছি।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল কি না, এমন প্রশ্নে তামিমের উত্তর ছিল স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, পরিস্থিতি আরও পরিণতভাবে সামলানো যেত। তামিম বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামলাতে পারতাম। আরও পরিণত আলোচনা হতে পারত এবং একটা পথ বের করা যেত। ক্রিকেটের কখনোই ক্ষতি হওয়া উচিত নয়।’

ক্রিকেট মাঠ থেকে সংগঠকের টেবিলে আসার সিদ্ধান্ত কবে নিয়েছেন, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন তামিম। তার জীবনের বড় ধাক্কা হয়ে এসেছিল হার্ট অ্যাটাক। সেই ঘটনাই তাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। তিনি বলেন, ‘হার্ট অ্যাটাকই আমার জন্য ট্রিগার পয়েন্ট ছিল। গত বছর আমার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল, তখন আমি জাতীয় দলে ফেরার চেষ্টা করছিলাম। হার্ট অ্যাটাকের পর মনে হয়েছিল, এটাই শেষ। এমন ঘটনার পর আমার কাছে মনে হয়েছে, আর খেলা চালিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। খেললেও হয়তো এক-দুই বছর খেলতাম। আমার খুব ছোট পরিবার আছে। হয়তো তখন ক্রিকেটে ফেরার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সম্পর্কের টানাপোড়েনের পর ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ ভবিষ্যতে হবে কি না, এমন প্রশ্নেও আশাবাদী তামিম। তার বিশ্বাস, ভারত এ বছর বাংলাদেশ সফরে আসবে এবং পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে।

তিনি বলেন, ‘এই বছরের শেষ দিকে ভারতের বিপক্ষে একটি নির্ধারিত সিরিজ আছে। আমি খুব আশাবাদী, ভারত আসবে এবং পুরো সিরিজ খেলবে। এটি এমন একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, যা বাংলাদেশের মানুষ খুব উপভোগ করে। তারা মাঠে আসে, সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে বাংলাদেশ খুব ভালো করেছিল। এই দুই দেশ যখন খেলে, বিশেষ করে ভারত যখন বাংলাদেশে আসে, তখন ক্রিকেট সবসময়ই খুব উচ্চমাত্রার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়।’

যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলেও মনে করেন বিসিবির অন্তর্বর্তী সভাপতি। তামিম বলেন, ‘আমি খুব আশাবাদী। সমস্যা সবসময়ই থাকবে এবং সেগুলো সমাধান করা ক্রিকেট বোর্ডগুলোর দায়িত্ব। এখন আমাদের নতুন ক্রিকেট বোর্ড আছে, অ্যাডহক কমিটি আছে। আমি নিশ্চিত, যোগাযোগ ও আলোচনা হবে। দিনশেষে ক্রিকেটেরই জয় হওয়া উচিত। অন্য যা-ই থাকুক, ক্রিকেটের জয় সবসময় হওয়া উচিত এবং আমি সেদিকেই কাজ করব।’

ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ক নিয়ে বড় কোনো সমস্যা দেখছেন না তামিম। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি না ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কের কোনো সমস্যা আছে। যদি কিছু থেকেও থাকে, আমরা আলোচনা করে সমাধান করতে পারি। আমি খুব আশাবাদী, ভারত এ বছর বাংলাদেশ সফরে আসবে।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় নিয়েও কথা বলেছেন তামিম। আগে পাকিস্তানের মাটিতে জয়ের পর এবার ঘরের মাঠেও সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মানসিকতার পরিবর্তনকে।

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচগুলো অনুসরণ করেন, দেখবেন দুই ম্যাচেই স্পোর্টিং উইকেট ছিল। বাংলাদেশ দুই টেস্টেই সবুজ, ঘাসযুক্ত উইকেট তৈরি করেছে। এটাই মানসিকতার পরিবর্তন দেখায়। বাংলাদেশের জন্য স্পিনিং উইকেটে ফিরে গিয়ে সিরিজ জয়ের চেষ্টা করা খুব সহজ ছিল। কিন্তু আমরা গ্রিন টপ বানিয়েছি। বাংলাদেশ ক্রিকেটে আমি এমন মানসিকতার পরিবর্তনই দেখতে চাই।’

টেস্ট ক্রিকেটে আগে ঘরের মাঠে শক্তিশালী হতে চান তামিম। তার মতে, নিজেদের মাঠকে দুর্গ বানানো জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমাদের আগে ঘরের মাঠে ভালো করা শুরু করতে হবে, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। এটাকে দুর্গ বানাতে হবে। হ্যাঁ, ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে আমরা ভালো করেছি, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে এখনো সেই জায়গাটা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। অবশ্যই আমরা বিদেশেও ম্যাচ জিততে চাই। কারণ ঘরের মাঠে টেস্ট জয়ের আত্মবিশ্বাস অনেক বড় ব্যাপার হবে।’

বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিটের পরিবর্তন নিয়েও বিস্তারিত বলেছেন তামিম। তার মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকের বড় ভূমিকা আছে। তামিম বলেন, ‘আমি বিষয়টি খুব কাছ থেকে দেখেছি, কারণ তখন আমি খেলছিলাম। আমার মনে হয়, অনেক কৃতিত্ব তখনকার অধিনায়ক মুমিনুল হকের পাওয়া উচিত। আমি এখনো মনে করতে পারি, প্রথম শ্রেণির ম্যাচে সে নিশ্চিত করত যেন পেসাররা সর্বোচ্চ ওভার বোলিং করে।’

একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচের স্মৃতিও তুলে ধরেন তামিম। তিনি বলেন, ‘একটি ম্যাচের কথা মনে আছে। মুমিনুল ও আমি একই দলে খেলতাম। আমি তাকে বলেছিলাম, আমরা সহজেই স্পিনার দিয়ে বল করাতে পারি। সে বলেছিল, “না, আমি যদি এখন এই পেসারদের দিয়ে বল না করাই, তাহলে তারা শিখবে কীভাবে? তারা ভালো করুক বা না করুক, জাতীয় দলে আমাদের পেসার দরকার এবং তাদের যত বেশি সম্ভব বল করতে হবে।”

মুমিনুলের সেই ভাবনাই পেস বোলিং ইউনিটে পরিবর্তনের শুরু বলে মনে করেন তামিম। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, পেস বোলিং ইউনিট বদলে দেওয়ার মূল মানুষ ছিল সে। সে পেসারদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এবং ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের সর্বোচ্চ ওভার বোলিং করানো নিশ্চিত করেছে।’

পেসারদের সাফল্য তরুণদের মানসিকতাও বদলে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তামিম বলেন, ‘পেসাররা যখন সাফল্য পেতে শুরু করল, তখন ঘরোয়া ক্রিকেটার ও ছোটরা বিশ্বাস করতে শুরু করল যে বাংলাদেশেও পেসার হওয়া যায়, সাফল্য পাওয়া যায় এবং সুপারস্টার হওয়া যায়। মুমিনুল হকের অনেক কৃতিত্ব আছে। পাশাপাশি অ্যালান ডোনাল্ড ও ওটিস গিবসনের মতো কোচরাও বড় ভূমিকা রেখেছেন।’

বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগের বিস্তারের মধ্যে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক তামিম। তবে ওয়ানডে ক্রিকেটের জায়গা নিয়ে এখনই শঙ্কিত নন তিনি। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের গতিপ্রকৃতি অবশ্যই বদলে গেছে। ৫০ ওভারের ক্রিকেট নিয়ে বললে, ওয়ানডে বিশ্বকাপ এখনো ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট। হ্যাঁ, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অনেক আগ্রহ আছে এবং টি-টোয়েন্টি খুব ভালো করছে। তবে আমি নিশ্চিত, আমাদের ভারসাম্যের পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে লিগ বাড়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তামিম। তার মতে, সহযোগী দেশগুলোও এখন টি-টোয়েন্টি লিগ আয়োজন করছে। তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, টেস্ট, ওয়ানডে ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মধ্যে ভারসাম্য জরুরি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে এখন অনেক লিগ আছে। সহযোগী দেশগুলোও টি-টোয়েন্টি লিগ নিয়ে আসছে। আমাদের এমন পথ বের করতে হবে, যেখানে সবকিছুর ভারসাম্য থাকবে। এ বিষয়ে আলোচনা হলে সবার নিজস্ব মত থাকবে। তবে দিনশেষে আমাদের টেস্ট ক্রিকেট বাঁচাতে হবে। কারণ এটি সবচেয়ে সম্মানিত সংস্করণ এবং এখনও এতে অনেক আগ্রহ আছে।’

কিছু দেশে টেস্টে দর্শক কম হলেও অন্য জায়গায় স্টেডিয়াম ভরে যায়, সেটিও মনে করিয়ে দেন তামিম। তিনি বলেন, ‘কিছু দেশে হয়তো বড় ভিড় দেখা যায় না, কিন্তু এখনও এমন দেশ আছে যেখানে টেস্ট ক্রিকেটে স্টেডিয়াম ভরে যায়। আমাদের বিষয়গুলো আরও আকর্ষণীয় করতে হবে।’

ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বড় অঙ্কের প্রস্তাব তরুণ ক্রিকেটারদের লাল বল থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে নাহিদ রানার উদাহরণ টানা হয়। কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি যদি পাঁচ-ছয়টি লিগে খেলার লোভনীয় চুক্তি দিয়ে তাকে লাল বল এড়িয়ে চলতে বলে, তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মনোযোগ ধরে রাখা কতটা সহজ? এমন প্রশ্নে তামিম বলেন, দেশের হয়ে খেলার আবেগের সঙ্গে টাকার তুলনা হয় না।

তার ভাষায়, ‘একটি জিনিস টাকা দিয়ে কেনা যায় না, সেটি হলো দেশের হয়ে খেলার আবেগ। যদি তা-ই হতো, ৮০ শতাংশ ক্রিকেটার সেই পথে চলে যেত। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান আছে। তবে যখন আপনি নিজের দেশ ও জাতির হয়ে খেলেন, সেটি টাকা দিয়ে কেনা যায় না।’

ভারতের ক্রিকেটারদের উদাহরণ দিয়ে তামিম বলেন, বড় প্রস্তাব পেলেও অনেক তারকা দেশের হয়ে খেলাকে অগ্রাধিকার দেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের দেশেও (ভারত) সুপারস্টাররা বিশাল প্রস্তাব পেতে পারে, কিন্তু তারা দেশের হয়ে খেলে। দেশের হয়ে খেললে এই বিষয়গুলো হৃদয় থেকে আসে।’

ফুটবলের সঙ্গেও তুলনা টানেন তামিম। তার মতে, ক্লাব থেকে বিপুল অর্থ পেলেও খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের ডাক পেলে সাড়া দেন। তিনি বলেন, ‘ফুটবলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, খেলোয়াড়রা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পাচ্ছে। কিন্তু দেশের হয়ে খেলার সুযোগ এলে তারা যায় এবং খেলে। কিছু বিষয় আছে, যা টাকা দিয়ে কেনা যায় না। দেশের হয়ে খেলার বিষয়টি কখনো বদলাবে না।’

তবে ব্যতিক্রম থাকতে পারে বলেও মনে করেন তামিম। তার ভাষায়, ‘হ্যাঁ, ব্যতিক্রম থাকবে। কয়েকজন ক্রিকেটার হয়তো সে পথে যেতে পারে। কিন্তু আপনি যদি আমাকে সংখ্যাগরিষ্ঠদের কথা জিজ্ঞেস করেন, আমি মনে করি না এটি বদলাবে।’