মিলি রহমান।।
মেয়েশিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিষয়টিকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্যাতনের শিকার শিশুরা আগে থেকেই কিছু আচরণগত ও মানসিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সংকেত দেয়। এসব লক্ষণ দ্রুত বুঝতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
শিশু অধিকারকর্মীদের মতে, বাংলাদেশে শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার বড় একটি অংশ ঘটে পরিচিত মানুষের হাতেই। আত্মীয়, প্রতিবেশী বা পরিবারের ঘনিষ্ঠ কেউ এই অপরাধে জড়িত থাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে নির্যাতনকারীরা পরিচিত ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা আরএআইএনএন জানায়, তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নির্যাতনের শিকার হলে শিশুর আচরণে হঠাৎ কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন, শিশুটি হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যেতে পারে, আগের মতো স্বাভাবিক আচরণ না করতে পারে বা কারও সঙ্গে মিশতে না চাইতে পারে।
মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের শিকার শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, খিটখিটে মেজাজ, পড়াশোনায় অমনোযোগ এবং স্কুলে যেতে অনীহা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় তারা হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করে এবং আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।
শুধু মানসিক নয়, কিছু শারীরিক লক্ষণও দেখা যেতে পারে। যেমন ঘুম কমে যাওয়া, রাতে দুঃস্বপ্ন দেখা, ঘুমের মধ্যে চমকে ওঠা, মাথাব্যথা, বুকে চাপ অনুভব করা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা হঠাৎ জ্ঞান হারানোর মতো সমস্যা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো শিশু যদি হঠাৎ নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা স্থানের প্রতি অস্বাভাবিক ভয় বা অনীহা দেখায়, সেটিও সতর্ক হওয়ার বড় ইঙ্গিত। বিশেষ করে সে যদি কোনো নির্দিষ্ট মানুষের কাছে যেতে না চায় বা একা থাকতে ভয় পায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
এছাড়া, শিশুর আচরণে যদি গোপনীয়তা বেড়ে যায়, কথা বলতে না চায় বা ভয় পায়, তাহলে সেটিও সন্দেহজনক হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনকারীরা শিশুকে ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করে, ফলে শিশুরা বিষয়টি প্রকাশ করতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, অভিভাবকদের উচিত শিশুর আচরণে এমন পরিবর্তন দেখলে তাকে সময় দেওয়া, কথা বলা এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা। কোনো ধরনের চাপ বা ভয় না দিয়ে শিশুকে আশ্বস্ত করতে হবে।
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই স্পর্শের ভালো-খারাপ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া জরুরি। তাকে বুঝাতে হবে শরীরের কোন অংশ ব্যক্তিগত এবং কেউ সেখানে স্পর্শ করলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।
এছাড়া, শিশুটি কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, তা সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। কর্মজীবী বাবা-মায়ের ক্ষেত্রেও নজরদারি ও যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবার, স্কুল ও সমাজ—সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
সূত্র: বিবিসি










































