Home জাতীয় জুলাই গণআন্দালনের সময় ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন পলক

জুলাই গণআন্দালনের সময় ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন পলক

1

ঢাকা অফিস।।

সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে চব্বিশের জুলাই গণআন্দালন চলার সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষ্যে একথা বলেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি সাক্ষ্য দেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ না করতে অনুরোধ করা হয়েছে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে।সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও এ মামলার আসামি। জয়কে পলাতক দেখিয়ে চলছে মামলার বিচারকাজ।

সাক্ষ্যে বিটিআরসির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় তাঁকে ফোন করেন বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। ফোনে জানানো হয় যে- বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদকে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরদের আপস্ট্রিম বা ইন্টারনেট বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই নির্দেশনা আইটিসি অপারেটরদের জানাতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলতে তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয় জানিয়ে সাক্ষী বলেন, গ্রুপটির নাম দেওয়া হয় ‘১৮ জুলাই আইটিসি অপারেশনস’। এতে যুক্ত ছিলেন তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটিডের খালিদ, ফাইবার এটহোমের মশিউর, নভোকমের আজিজ, বিডি লিংকের একজন, ম্যাংগোর জাহিদ, বিটিসিএলের আনোয়ার মাসুদ ও বিএসপিএলসির ওহাব।

গ্রুপটি খোলার পরই বিটিআরসির মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান গ্রুপে কল দেন উল্লেখ করে সাক্ষী বলেন, ‘গ্রুপ কলে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরদের আপস্ট্রিম (ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ) বন্ধ করার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনাটি জানানো হয়। এরপর ১৮ জুলাই রাত ৯টায় অপারেটরদের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২৩ জুলাই পর্যন্ত এ সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকে।’

বিটিআরসির এই কর্মকর্তা সাক্ষ্যে আরো বলেন, ‘২৩ জুলাই ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) ও মিডিয়ার বিভিন্ন প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি সভা ডাকেন জুনাইদ আহমেদ পলক। সভায় ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক বন্ধ রেখে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে (যেমন ব্যাংক, সংসদ ভবন, ক্যান্টনম্যান্ট ইত্যাদি) সীমিতভাবে ইন্টারনেট চালু করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন তিনি। ৩১ জুলাই বিটিআরসির চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইন্টারনেট পুনরায় চালু করার নির্দেশনা দেন তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক।’

বিটিআরসির এই কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি। আগামী ১৯ এপ্রিল ফের তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। সাক্ষ্যগ্রহণে ট্রাইব্যুনালকে সহযোগিতা করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। পলকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। জয়ের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।

সাক্ষ্যের একপর্যায়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ। এ সময় কাঠগড়ায় চেয়ারে বসে থাকা পলক দাঁড়িয়ে কিছু বলার অনুমোতি চান ট্রাইব্যুনালের কাছে।ট্রাইব্যুনালের সম্মতির অপেক্ষা না করে তিনি বলতে থাকেন, এখানে বেশ গুছিয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন সাক্ষী। তিনি ইন্টারনেট সংক্রান্ত কিছু টার্মও ব্যবহার করছেন। কিন্তু তাঁর কাছে জোর করে ও কৌশলে কিছু কিছু শব্দ জানার চেষ্টা করছেন চিফ প্রসিকিউটর। তাই সাক্ষীকে স্বাধীনভাবে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। যেন জোরজবরদস্তি না করা হয়।

তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘আপনার কথা বলার জন্য বিজ্ঞ আইনজীবী আছেন। তাদের ওপর আস্থা রাখেন।’

এ মামলায় জয় এবং পলকের বিরুদ্ধে জুলাই গণআন্দালন চলার সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে আন্দোলনকারীদের হত্যার তথ্য আড়াল, হত্যাযজ্ঞে উসকানি, ষড়যন্ত্রসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।