Home আঞ্চলিক শৈলমারী খেয়াঘাট টোলমুক্ত ঘোষণা: খুলনা-১ আসনের এমপির উদ্যোগে স্বস্তি ফিরল স্থানীয় জনপদে

শৈলমারী খেয়াঘাট টোলমুক্ত ঘোষণা: খুলনা-১ আসনের এমপির উদ্যোগে স্বস্তি ফিরল স্থানীয় জনপদে

35

স্টাফ রিপোর্টার।।


দক্ষিণাঞ্চলের ৫ উপজেলার বৃহৎ জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম শৈলমারী খেয়াঘাট অবশেষে টোলমুক্ত হয়েছে। খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব Amir Ejaz Khan-এর উদ্যোগে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হওয়ায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছে স্থানীয় মানুষ।

শৈলমারী নদী একসময় ছিল খরস্রোত নৌপথ। খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ও বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই নদী কৈয়া নদীতে স্লুইসগেট নির্মাণের পর ধীরে ধীরে নাব্যতা হারায়। নদীর দু’পাশে চর জেগে ওঠায় গত এক দশকের বেশি সময় এটি প্রায় মৃত নদীতে পরিণত হয় এবং নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

নৌপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শৈলমারী খেয়াঘাট হয়ে ওঠে স্থানীয় মানুষের একমাত্র পারাপারের পথ। পরে সমাজসেবক প্রফুল্ল কুমার রায় নিজ উদ্যোগে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে নদীর উপর একটি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করলে দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ আবার সচল হয়। ফলে বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, দাকোপ, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার শুরু করে।

তবে সরকারি ইজারা তালিকায় ঘাটের নাম থাকায় পরবর্তীতে সেখানে টোল আদায় শুরু হয়, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল। ব্যক্তিগতভাবে নির্মিত ব্রিজে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয় জনমনে।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এমপি আমীর এজাজ খান স্থানীয়দের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন—নির্বাচিত হলে শৈলমারী খেয়াঘাট টোলমুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করেন এবং ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করার অনুরোধ জানান।

এর ধারাবাহিকতায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত-ঈল ইভান ইজারা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। ফলে বাংলা ১৪৩৩ সালের আন্তঃউপজেলা খেয়াঘাট ইজারা তালিকা থেকে শৈলমারী খেয়াঘাট বাদ পড়ে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে টোলমুক্ত হয়।

মঙ্গলবার (১ বৈশাখ ১৪৩৩) থেকে ঘাট এলাকায় আর কোনো টোল আদায় বা বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়নি। এতে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে ও নির্বিঘ্নে চলাচল করছে।

এ বিষয়ে সমাজসেবক প্রফুল্ল কুমার রায় বলেন, “মানুষের কল্যাণে যে কাজ করেছি আজ তার সুফল দেখতে পেলাম। আমি আনন্দিত।”

অন্যদিকে এমপি আমীর এজাজ খান বলেন, “শৈলমারী খেয়াঘাট টোলমুক্ত করা ছিল জনগণের প্রাণের দাবি। মানুষের কল্যাণে আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা, শ্রমিক ও মৎস্যজীবীরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।