স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৩নং গুটুদিয়া ইউনিয়নের চকআসানখালী মৌজার সরকারি খাল দখল ও ভরাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে খালের সীমানা নির্ধারণে প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মৌজার বি.আর.এস দাগ নং ৩০৩৯, ৩০৪২, ৩০৪৫ ও ৩০৬০ (খাল) দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী প্লট ব্যবসায়ী চক্রের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, “বিসমিল্লাহ প্রোপার্টিজ” নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খালের অংশ দখল, ভরাট এবং আশপাশের জমি প্লট আকারে বিক্রয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ওই খাল স্থানীয় পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। পাশাপাশি নতুন জেলখানার ড্রেনেজ ব্যবস্থাও এই খালের সাথে সংযুক্ত থাকায় এর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হলে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হবে।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, খালের পাশে গরুর ফার্মসহ একাধিক বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে এবং বর্জ্য ফেলে খাল ভরাট করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ ও পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কালভার্ট নির্মাণের জন্য অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে খাল ভরাট করে ছোট আকারে (প্রায় ১২–১৫ ফুট) কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে অনুমোদনে ৬৩ ফুট (১৯ মিটার) ছিল। ফলে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জানা যায়, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসকের নির্দেশনায় খালের সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার ও ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে সরেজমিনে উপস্থিত থেকে পরিমাপ কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান শেখ তুহিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সঠিক তদন্ত ও সীমানা নির্ধারণ অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরকারি খাল দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।










































