Home আঞ্চলিক ৪০০ বছরের ‘শ্যাম সুন্দর মন্দির’র সংস্কার দাবি

৪০০ বছরের ‘শ্যাম সুন্দর মন্দির’র সংস্কার দাবি

12

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।

সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত পুরাকৃর্তির এক অনন্য নিদর্শন টেরাকাটা ‘শ্যামসুন্দর মন্দির’ যা ‘সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি’ নামেও পরিচিতি রয়েছে। প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এই ‘শ্যামসুন্দর মন্দির’।

৬০ ফুট উঁচু, তিনতলা বিশিষ্ট এই পিরামিড আকৃতির নবরত্ন মন্দিরটি টেরাকোটা ফলকের সূক্ষ্ম কাজের জন্য বিখ্যাত। এটি বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সংরক্ষিত একটি দর্শনীয় স্থান হলেও সোনাবাড়িয়া শ্যামসুন্দর মন্দিরটি দেখার কেউ নেই।

সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামে অপূর্ব শিল্প সৌন্দর্য অঙ্গে ধারণ করে একটি তিনতলার মন্দির আজও টিকে রয়েছে। যার নাম ‘শ্যামসুন্দর মন্দির’। আর এটির নির্মাতা হরিরাম দাস। প্রাচীণ এ মন্দিরটি ‘সোনাবাড়িয়া মঠ’ নামেও পরিচিত। এটি প্রাচীণ ঐতিহ্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। তিন তলার এ মন্দিরের উচ্চতা ৬০ ফুট । মন্দিরের মাপ ৩৩ ফুট বাই ৩৩ ফুট। প্রতিদিন বহু দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রী ভ্রমণে আসেন এখানে।

জনশ্রুতি রয়েছে, এক সময় ‘রামকৃষ্ণ পরমহংস’ এই শ্যামসুন্দর মন্দিরে প্রায় দুই মাস অবস্থান করেন। একারণে হিন্দু ধর্মাবম্বলীদের কাছে এই মন্দিরের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে শ্যামসুন্দর মন্দির দেখতে অনেক মানুষের আগমন ঘটলেও আজও এই মন্দিরটি সংস্কারে অবহেলায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, ‘যে এটি এক রাতে জিন-ভূতেরা তৈরি করেছিল। এটি মূলত একটি নবরত্ন মন্দির হিসেবে নয়টি চূড়া বিশিষ্ট, যা বর্তমানে মঠের ন্যায় দেখায়। মন্দিরটির গায়ে চমৎকার টেরাকোটা বা পোড়ামাটির ফলক চিত্র রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে মন্দিরটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং এর অনেক টেরাকোটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় অবস্থিত সোনাবাড়িয়াা মঠবাড়ি কেউবা বলে শ্যাসুন্দর মন্দির বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। সাতক্ষীরা থেকে ২৭ কিলোমিটার আর কলারোয়া থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে সোনাবাড়িয়াা গ্রামে মন্দিরটির অবস্থান। স্থনীয়দের কাছে সোনাবাড়িয়াা মঠ এবং শ্যামসুন্দর মন্দির নামেও পরিচিত। তবে শ্যামসুন্দর মন্দিরের দেয়ালের শিলালিপিতে শ্যামসুন্দর নবরত্ন মন্দির নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।

ত্রিতল নবরত্ন মন্দিরের সাথে দুর্গা মন্দির ও শিবমন্দির রয়েছে। পিরামিড আকৃতির এই মন্দিরের নিচের তলার ভিতরের অংশ চার ভাগ বিভক্ত। প্রথম অংশের চারপাশে ঘূর্ণায়মান টানা অলিন্দ রয়েছে। দ্বিতীয় অংশে রয়েছে একটি মণ্ডপ। তৃতীয় অংশে কোঠা এবং প্রকোষ্ঠ দেখতে পাওয়া যায়। পূর্বদিকে একটি অলিন্দ থেকে উপরে ওঠার সিঁড়ি রয়েছে। মন্দিরের ছাদের ওপর ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী গম্বুজের মাঝখানে বড় একটি রত্ম রয়েছে, যার কারণে মন্দিরটি নবরত্ন মন্দির হিসাবে পরিচিত।

প্রতিদিনই এ মন্দিরে দর্শনার্থী আসেন। কিন্তু এখানে কোনো খাবারের দোকান নেই। নেই থাকার জায়গা। স্থানীয় লোকজন ও দর্শনার্থীরা এটি সৌন্দর্যবর্ধন করতে সংস্কারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

পূর্বপুরুষের সুত্র ধরে সেবাইত হিসেবে সুপ্রসাদ চৌধুরী ও দেব প্রসাদ চৌধুরী এ মন্দিরের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে জানান, এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আগে দরকার এই দেবাত্তর সম্পত্তি রক্ষা করতে প্রাচীর দেয়া জরুরি। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিলেও একবার শুধু তারা দেখে গিয়েছিল। ছবি তুলেছিল পুরাকীর্তির নিদর্শনের। তারপর আর তাদের পাওয়া যায়নি।

যোগাযোগ করেও লাভ হয়নি। ভারতের উপ হাইকমিশনার এসেছিলেন। কথা দিয়েছিলেন এখানে একটি গেস্ট হাউস করবেন। বলেছিলেন, কলকাতার কালি মন্দিরের চেয়েও বড় ও প্রচীন, ৮-৯ শ’ বছর আগে নির্মিত এ মন্দির।

মন্দিরের গায়ে যে ইটের ফলক রয়েছে তা থেকে জানা যায়, এটি নির্মিত হয়েছিল ১৭৬৭ সালে । ইতিহাস থেকেও জানা যায়, ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে জনৈক হরিরাম দাস মতান্তরে দুর্গাপ্রিয় দাস এই সোনাবাড়িয়া শ্যামসুন্দর মন্দির নির্মাণ করেন।