Home খেলাধুলা তবে কি আইনি লড়াইয়ে যাচ্ছেন বুলবুলরা!

তবে কি আইনি লড়াইয়ে যাচ্ছেন বুলবুলরা!

7

স্পোর্টস ডেস্ক ।।

গতকাল এক আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিসিবি’র পরিচালনা কমিটি ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। সংস্থাটির পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির আগের কিমিট ভেঙে নতুন এডহক কমিটির ঘোষণা দেন।

তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে এগারো সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি। ফলে আমিনুল ইসলাম বুলবুল আর বিসিবি সভাপতি পদে থাকছেন না। সদ্য সাবেক হওয়া কমিটির কর্তাদের মাথায় যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত হয়েছে। এমন ঝড়ের কোনো পূর্বাভাস ছিল না।

ক্ষমতা হারানোর চেয়েও তাদের মধ্যে এখন বেশি কাজ করছে চরম বিস্ময় ও গভীর অবিশ্বাস। তবে এত সহজে হাল ছাড়তে নারাজ সাবেক পরিচালকরা। তারা এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ছক কষছেন। নিজেদের অধিকার আদায়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন তারা।

সদ্য সাবেক হওয়া বিসিবির মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যানমোখলেসুর রহমান বাবু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আইনি পথেই হাঁটবেন। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বাবু বলেন, ‘আমাদের এতে কোন কিছুই করার নেই। সাংবিধানিক ও বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে লিগ্যাল প্রসিডিউর আছে, সেই ইনিশিয়েটিভগুলোই নেওয়া হবে।’ এনএসসি কর্তৃক নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলছেন বিদায়ীরা।

গতকাল সকালে পূর্বাচল ক্রিকেট মাঠ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সঙ্গী হিসেবে ছিলেন খালেদ মাসুদ পাইলটসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। সেখানে দাঁড়িয়ে আগামীর বেশ কিছু বড় ইভেন্ট আয়োজনের মহাপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছিলেন তিনি। অচলাবস্থার মধ্যেই ঢাকা লীগ আয়োজনের পথে হাঁটতে চেয়েছিল বুলবুলের বোর্ড। যে কারণে আজ ঢাকার সকল ক্লাবকে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়েছেছিলো সিসিডিএম। মিরপুরে দুপুর ১২টায় শুরু হওয়ার কথা ছিলো এই বৈঠকের। বৈঠকের একদিন আগে সংগঠকদের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধও করেছিলেন।

বোর্ড ভাঙ্গার আগে বুলবুল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কালকে ৮ তারিখে আমরা আশা করছি যে সমস্ত ক্লাবরা আসবে এবং আপনাদের মাধ্যমে ক্লাবদেরকে আমরা অনুরোধ করছি যে দয়া করে আপনারা কালকে আসেন। আমাদের সিসিডিএম সভাপতি সাহেব এবং আমাদের একজন সহ-সভাপতি ফারুক ভাইও থাকার কথা আছে সেখানে। এবং আমরা চাইব যেন অনেক দেরি হয়ে গেছে, আসেন আমরা লীগটা খেলে ফেলি কারণ এটাই একমাত্র ৫০ ওভারের লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্ট আমাদের।’

এই বৈঠকের পর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে বগুড়ায় যাওয়ার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত ছিল তার। কিন্তু সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আর বাস্তবতার মুখ দেখল না। মাঠ পরিদর্শন শেষ হওয়ার আগেই বোর্ড ভাঙার দুঃসংবাদ পেয়ে আঁতকে ওঠেন তিনি। মুহূর্তেই তার চেহারায় নেমে আসে চরম অন্ধকার। মাঠের কাজ অসমাপ্ত রেখেই তিনি দ্রুত অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অবস্থা বেগতিক বুঝে তড়িঘড়ি করে কার্যালয় ত্যাগ করেন বুলবুল।

গণমাধ্যমকর্মীরা তার কাছ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কারো সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। গাড়িতে উঠেই দ্রুত দরজা বন্ধ করে দেন। যেন নিজেদের চরম অসহায়ত্ব আড়াল করার এক আপ্রাণ চেষ্টা। তার এমন নীরব প্রস্থান ক্রীড়াঙ্গনের ভেতরের অস্থিরতাকে আরও বেশি উসকে দিয়েছে।

বাবু আরও বলেন, ‘এনএসসি আজকে যেটা ডিক্লেয়ার করেছে, সেটা আইনসিদ্ধ না। সুতরাং এই বিষয়গুলো নিয়মতান্ত্রিক ওয়েতেই এগোবে এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ হবে।’ অন্যদিকে, বোর্ডের আরেক পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু নিজের চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গভমেন্টের অ্যাগেইনস্টে তো কিছু করার নেই। উনারা যেটা ভালো বুঝছে সেটাই করবে।’ এমন চরম অস্থিরতার কারণে দেশের ক্রিকেট বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। বিশেষ করে ঘরোয়া লীগ মাঠে গড়ানো নিয়ে ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে। সবার নজর তাই এখন আদালতের দিকে।

আইনি লড়াই শিগগিরই শুরু হলে দেশের ক্রিকেটে নতুন এক ভয়াবহ অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।