পিরোজপুর প্রতিনিধি।।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ বছর আগে নির্মিত ৩ তলাবিশিষ্ট আধুনিক বহুতল বিপণিবিতান নির্মাণ হলেও এখন পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয়নি। ফলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিপণিবিতানটি ফিশ মার্কেট নামেই পরিচিত।
স্থানীয়রা জানায়, মার্কেটি খুলে না দেয়ার ফলে মাছ ও ফল ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে সড়কে দোকানপাট বসায়। ফলে ঢাকা-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা হাইওয়ে সড়কে প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী এবং রোগীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান, মার্কেটটির মধ্যে ৮৬টি দোকান বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। খোলার বিষয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির কারণে থেমে যায়।
প্রায়ই তিনি পৌরসভার কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেন। এবারো মার্কেট খোলার বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কোন অগ্রগতি নেই।
স্থানীয়দের দাবি, পথচারীদের ভোগান্তি নিরসন এবং সড়ক যানজটমুক্ত রাখতে সরকারের অঙ্গীকার সড়ক থেকে দোকানপাট তুলে বিকল্প ব্যবস্থা করে দেয়া।
এই কর্মসূচি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা শহরে চলমান রয়েছে। অথচ মঠবাড়িয়া পৌরসভায় বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও সড়ক এবং ফুটপাতে ফল এবং মাছের দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছেন বছরের পর বছর ধরে।
ব্যবসায়ীরা জানান, নির্দিষ্ট স্থানে বসতে না পারায় প্রতিদিন মালামালের প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে। মালামালের নিরাপত্তা থাকছে না। প্রায়ই ভ্রাম্যমাণ আদালতে উচ্ছেদ অভিযানে নানাবিধ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
মঠবাড়িয়া বণিক সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম জানান, মার্কেটটির নির্মাণ কাজ ৭-৮ বছর আগে শেষ হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে এখনো খুলে দেওয়া হয়নি। বিগত সরকারের সময় আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক পৌর মেয়র রাফি উদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস নিয়ম বহির্ভূতভাবে একটি স্টল একাধিক ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়ার কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে বিএনপি’র কিছু নেতা টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে আগের বরাদ্ধ বাতিল করে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে মার্কেটের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
তিনি আরো বলেন, মার্কেটটি নির্মাণ হবার পর খুলে দেওয়ার দাবিতে স্থানীয় মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা মানবন্ধন ও করেছিল। পরে পৌরসভার কর্মকর্তারা মার্কেটটি খোলার জন্য একাধিকবার পরিদর্শন করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আজও খুলে দেয়নি। তাদের দাবি প্রাপ্যদের দোকান বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মার্কেট খুলে দেওয়া হোক।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আকলিমা আক্তার জানান, মার্কেটটি উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি পরিচালনা কমিটিও করা হয়েছে। ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান। আশা করি খুব শিগগিরই মার্কেটটি খুলবে। একই সাথে ফুটপাত ও সড়ক দখল মুক্ত করা হবে এবং যানজট নিরসনসহ মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে। আশাকরি ব্যবসায়ীরা দ্রুত তাদের মার্কেটে বসতে পারবে।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ জানান, মঠবাড়িয়ার ফিশ মার্কেটটি খোলার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং একটি কমিটি করা হয়েছে যারা দ্রুত সময়ের মধ্যে মার্কেটটি খোলার ব্যবস্থা করবেন। তার পরেও আমি খোঁজখবর রাখছি এবং মার্কেটেটি দ্রুত সময়ের মধ্যে খোলার ব্যবস্থা করছি।











































