স্পোর্টস রিপোর্টার
বিরতিতে রয়েছে ঘরোয়া নারী ফুটবল লীগ। জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। গতকাল অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল সাফ খেলতে নেপাল গেছে। একইদিনে এশিয়ান কাপের জন্য জাতীয় দলের প্রস্তুতিও শুরু হয়। কিন্তু জাতীয় দলকে রেখে বয়সভিত্তিক দলের ডাগআউট সামলাতে নেপালে গেছেন জাতীয় দলের হেডকোচ পিটার বাটলার। এশিয়ান কাপের মতো আসর রেখে জাতীয় দলের প্রধান কোচ কেন বয়সভিত্তিক দল সামলাতে ব্যস্ত এ নিয়ে জল্পনার শেষ নেই।
৩১শে জানুয়ারি থেকে নেপালে শুরু হবে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ। পাঁচ দেশের এই টুর্নামেন্টে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ও ভারত। শিরোপা ধরে রাখার এই মিশনকে বাফুফে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছে যে, জাতীয় দলের ক্যাম্প ফেলে প্রধান কোচ পিটার বাটলার ও সহকারী কোচ মাহবুবুর রহমান লিটুকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে নেপালে। অথচ সামনেই এশিয়ান কাপের কঠিন চ্যালেঞ্জ। কোচের এই নেপাল যাত্রা কি শিরোপার নেশায় বাফুফের সিদ্ধান্ত, নাকি পিটারের নিজের? এর কোনো স্পষ্ট উত্তর মিলছে না। নেপাল যাওয়ার আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি এই ব্রিটিশ কোচ। গতকাল থেকে ঢাকা স্টেডিয়ামে জাতীয় নারী দলের ‘ক্লোজড ডোর’ অনুশীলন শুরু হয়েছে। কোচ ও সহকারী কোচ নেপাল যাওয়ায় স্থানীয় কয়েকজন প্রশিক্ষক দিয়ে দায়সারাভাবে চলছে এই প্রস্তুতি। এশিয়ান কাপের মতো টুর্নামেন্টের আবাসিক ক্যাম্প শুরু হলেও বাফুফে বিস্ময়করভাবে খেলোয়াড়দের তালিকা গোপন রেখেছে। এমনকি কতোজন নিয়ে অনুশীলন চলছে, তাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। অতীতে জাতীয় দলের ক্যাম্প পাঁচ তারকা হোটেলে হলেও এবার আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের রাখা হয়েছে পল্টনের একটি সাধারণ হোটেলে। জাতীয় দলের তালিকা প্রকাশ না করলেও জানা গেছে, ২৯ জন খেলোয়াড়কে ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে। ১৪ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় ক্যাম্প শেষে দল যাবে থাইল্যান্ডে। সেখানে এক সপ্তাহ অনুশীলন করে সরাসরি চলে যাবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। ৩রা মার্চ চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ মিশন শুরু হবে। সিডনিতে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে স্থানীয় ক্লাব দলের বিপক্ষে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের। এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো শক্তিশালী দল। এই আসর থেকে বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকে খেলার সুযোগও আছে। ফুটবল সংশ্লিষ্টরা অবাক হচ্ছেন এই ভেবে যে, এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ফেলে কোচ কেন বয়সভিত্তিক সাফের ট্রফি ধরে রাখা নিয়ে ব্যস্ত! বাফুফের কর্মকর্তাদের কাছেও এ নিয়ে কোনো সদুত্তর নেই।











































