স্পোর্টস রিপোর্টার
ক্রিকেট মাঠে কেবল বল ও ব্যাটের লড়াই থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে সেখানে রাজনীতির কালো ছায়া পড়েছে। পাকিস্তানের কিংবদন্তি স্পিনার সাকলাইন মুশতাক এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, রাজনীতি মানবতার বড় শত্রু। এটি মানুষের মধ্যে অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিচ্ছে। এএনআই-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মত দেন। তার মতে, রাজনীতি শুধু খেলাটাকেই নষ্ট করছে না। এটি খেলোয়াড়দের মনস্তত্ত্বেও তৈরি করছে গভীর ক্ষত। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাকলাইন বিশ্বাস করেন, ক্রিকেটের কাজ দেশগুলোকে এক সুতোয় গাঁথা। একে অপরকে দূরে ঠেলে দেয়া খেলার ধর্ম নয়। অথচ রাজনীতির অনুপ্রবেশে সেই লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। তিনি খেলার মাঠকে যুদ্ধক্ষেত্র না বানানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজনীতি সর্বদা মানবতার পরিপন্থি। তাই খেলাধুলার পবিত্রতা রক্ষায় একে রাজনীতিমুক্ত রাখা জরুরি। বর্তমানে খেলার ফলাফলের চেয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ মুখ্য হয়ে উঠেছে। এতে খেলার মূল আনন্দ হারিয়ে যাচ্ছে। সাকলাইন মুশতাক তাই সবাইকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি চান ক্রিকেট আবার সৌহার্দ্যরে প্রতীক হয়ে উঠুক। ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থবির। ২০১২-১৩ মৌসুমের পর আর কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হয়নি। সেবার পাকিস্তান ভারত সফর করেছিল। তারা ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল এবং টি-টোয়েন্টি ড্র করেছিল। এরপর থেকে দুই দল কেবল আইসিসি ইভেন্টে মুখোমুখি হয়। এশিয়া কাপ বা বিশ্বকাপের মঞ্চ ছাড়া তাদের লড়াই দেখা যায় না। পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ভারত সরকার পাকিস্তানের মাটিতে বা তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে কঠোরভাবে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। তারা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার নীতি গ্রহণ করেছে। এই রাজনৈতিক টানাপড়েনে ভক্তরা বঞ্চিত হচ্ছেন। দুই দেশের ক্রিকেটীয় ঐতিহ্য রাজনীতির ফ্রেমে আটকা পড়েছে।
সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে এই জটিলতার সৃষ্টি। নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ দল ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতির নেপথ্যে ইন্ধন জুগিয়েছে আইপিএল ২০২৬-এর একটি বিতর্কিত ঘটনা। বিসিসিআই-এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়া হয়েছিল। এই ঘটনার জেরে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে। সাকলাইন মুশতাক অবশ্য এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু বলেছেন, খেলা বিনোদনের মাধ্যম, যুদ্ধের ময়দান নয়। বাংলাদেশ কেন ভারতে যাবে না, তা নিয়ে তিনি কথা বলেননি। তিনি খেলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। পেহেলগাম হামলার পর কূটনৈতিক উত্তাপ খেলার মাঠেও ছড়িয়েছে। ভেন্যু নির্বাচন ও সূচি নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক এখন তলানিতে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো ক্রিকেট বিশ্বের ওপর। এমন পরিস্থিতিতে সাকলাইন মুশতাকের বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার জয়গান গাইতে বলেছেন। তার আহ্বান, ক্রিকেটকে আবারো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত করা হোক। সীমানার কাঁটাতার ভুলে সবাই যেন মেতে উঠতে পারে নির্মল বিনোদনে। রাজনীতি যেন কখনোই মানবতার উপরে স্থান না পায়। ক্রিকেটকে বাঁচাতে হলে এই রাজনৈতিক বেড়াজাল ভাঙতেই হবে।











































