Home খেলাধুলা বিশ্বকাপ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ নারী দল

বিশ্বকাপ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ নারী দল

6


স্পোর্টস রিপোর্টার

আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল এখন পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য। গতকাল নেপালের মুলপানিতে সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে টানা পঞ্চম জয় তুলে নেয় টাইগ্রেসরা। একই দিনে বৃষ্টি আইনে যুক্তরাষ্ট্রকে নেদারল্যান্ডস হারানোয় ইংল্যান্ড ও ওয়েলস বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলেই ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার দিলারা আক্তার। এরপর শারমিন আক্তার সুপ্তাও ১১ রানে বিদায় নিলে মাত্র ১২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। তবে সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে হাল ধরেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারি। তারা দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে ৮২ বলে ১১০ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন, যা নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ শতরান ছাড়ানো জুটি। জুয়াইরিয়া এদিন ব্যাট হাতে ছিলেন বিধ্বংসী; তিনি ৪৫ বলে ৫৬ রান করেন, যেখানে ছিল ৪টি বিশাল ছক্কা ও ৩টি চার। অন্যদিকে, সোবহানা মোস্তারি ৪২ বলে ৫৯ রানের এক অনবদ্য ইনিংস উপহার দেন। শেষদিকে রিতু মনির ৬ বলে ১৫ রানের ঝড়ো ‘ক্যামিও’ ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫ রান, যা নারী টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ১৬৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আস্কিং রানরেটের চাপে পিষ্ট হয় থাইল্যান্ড। বাংলাদেশের বোলাররা, বিশেষ করে পেসার মারুফা আক্তার ছিলেন দুর্দান্ত। তিনি ইনিংসের প্রথম বলেই থাই ওপেনারকে সাজঘরে পাঠিয়ে আঘাত হানেন। এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি থাইল্যান্ড। ১০ ওভার শেষে তাদের রান ছিল ৬১, কিন্তু হাতে উইকেট থাকলেও জয়ের সমীকরণ নাগালের বাইরে চলে যায়। ওপেনার নাথাকান চানথাম ৪৬ এবং নান্নাপাত ২৯ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও বাকিরা ব্যর্থ হন। শেষ ৫ ওভারে জয়ের জন্য তাদের ৭৫ রান দরকার ছিল, যা ছিল
অসম্ভব। মারুফা ২৫ রানে ৩টি, রিতু মনি ২০ রানে ২টি এবং স্বর্ণা আক্তার ২টি উইকেট শিকার করেন। শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের ইনিংস ৮ উইকেটে ১২৬ রানে থামলে বাংলাদেশ ৩৯ রানের জয় পায় এবং ম্যাচসেরা হন সোবহানা মোস্তারি।
বাছাইপর্বে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মোট ৫টি ম্যাচ খেলে সবক’টিতেই জয়লাভ করেছে। সুপার সিক্সের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ-পর্বে যেসব দল প্রতিপক্ষ ছিল, তাদের বিপক্ষে আর খেলতে হয় না; সেই ম্যাচের পয়েন্ট সরাসরি যোগ হয়। তাই আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয়ের পয়েন্ট আগেই যুক্ত হয়েছে। সুপার সিক্সে প্রতিটি দল মোট ৩টি করে ম্যাচ খেলবে এবং হিসাব হবে মোট ৫ ম্যাচের পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে। বাংলাদেশ ৩ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট পেয়েছে এবং তাদের নেট রানরেটও বেশ ভালো। এই সমীকরণের কারণেই দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই মূল পর্বে খেলার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে টাইগ্রেসদের। এখন বাংলাদেশের জন্য বাকি ম্যাচগুলো শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকে বাকি দল হিসেবে বিশ্বকাপে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড। অন্যদিকে, এখন পর্যন্ত কোনো পয়েন্ট না পাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডের সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে। এই জয়ের ফলে আগামী বিশ্বকাপে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে আবারো লাল-সবুজের পতাকা উড়ানোর সুযোগ পেলো বাংলাদেশের মেয়েরা।