স্পোর্টস রিপোর্টার
সময়টা এমন হওয়ার কথা ছিল না। ফিল সিমন্সের হাতে এখন থাকার কথা ছিল নোটবুক, মাথায় থাকার কথা ছিল রণকৌশল আর তার থাকার কথা ছিল মাঠের ডাগআউটে। অথচ তিনি এখন বিমানবন্দরে, গন্তব্য নিজের বাড়ি; তিনি ছুটিতে যাচ্ছেন, তবে এই ছুটি কাক্সিক্ষত ছিল না, ছিল না কোনো পূর্বপরিকল্পনাও। একরাশ হতাশা আর বিষণ্নতা নিয়েই ঢাকা ছাড়লেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ। কারণ একটাই- বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলছে না। বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের জার্সি দেখা যাবে না, যা কোচের জন্য এক বিশাল আক্ষেপ। সিমন্স বিপিএলের শেষ ভাগে ঢাকায় এসেছিলেন পরিষ্কার উদ্দেশ্য নিয়ে। ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি আসর শেষেই জাতীয় দলের দায়িত্ব নেবেন। দলকে প্রস্তুত করবেন বিশ্বকাপের জন্য। কিন্তু ঢাকায় পা রেখেই তিনি ধাক্কা খান। আবহাওয়ায় ছিল অনিশ্চয়তার গন্ধ; বাংলাদেশ কি আদৌ বিশ্বকাপ খেলবে- এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো চারদিকে। বিপিএলের উত্তেজনার মাঝেও সিমন্সের কপালে ছিল চিন্তার ভাঁজ। মিরপুরের একাডেমি মাঠে তাকে পায়চারি করতে দেখা গেছে, কখনো বা প্রেস বক্সের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন শুকনো হাসি মুখে। সেই হাসিতেও ছিল শঙ্কার ছাপ; তিনি তখনই হয়তো বুঝতে পারছিলেন- কিছু একটা ঠিক নেই। অবশেষে সেই শঙ্কাই সত্যি হলো, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে দুঃসংবাদটি- বাংলাদেশ এবার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না, তাই কোচেরও কোনো কাজ নেই, হাতে নেই কোনো অ্যাসাইনমেন্ট, সামনে নেই কোনো অনুশীলন সেশন। গতকাল সংবাদ মাধ্যমকে এই কোচ বলেন, ‘আজ (গতকাল) আমি ফিরে যাচ্ছি। মার্চে আমাদের পরের সিরিজ, তখন নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হবে। আশা করি তখনই আবার ফেরা হবে।’ জানা গেছে, জাতীয় দলের অন্যান্য কোচিং স্টাফরাও পেয়েছেন অপ্রত্যাশিত ছুটি। অপ্রত্যাশিত অবসর এখন তার সঙ্গী, তাই কিছুটা বিষণ্নতা সঙ্গী করেই ছুটিতে পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছেন সিমন্স। পরিবারের কাছে ফেরা সবসময়ই আনন্দের, দীর্ঘ ট্যুর শেষে ক্রিকেটার বা কোচরা যখন বাড়ি ফিরেন, তখন তাদের চোখেমুখে থাকে প্রশান্তি, কিন্তু এবারের চিত্রটা ভিন্ন। সিমন্স ফিরছেন এক বুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে, কারণ একজন পেশাদার কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে দলের না থাকাটা তার জন্য বিশাল এক ধাক্কা। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ মিস করাটা চরম হতাশার।’ শুধু সিমন্স নন, দলের অন্য বিদেশি কোচরাও ফিরে যাচ্ছেন, তারাও পেয়েছেন অনাকাক্সিক্ষত ছুটি। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম এখন নিস্তব্ধ, কয়েকদিন আগেই যেখানে ছিল বিপিএলের উৎসব, গ্যালারিতে ছিল দর্শকদের কোলাহল, এখন সেখানে পিনপতন নীরবতা। ক্রিকেটারদেরও কোনো কাজ নেই, কোনো ক্যাম্প নেই, সবাই যে যার মতো সময় কাটাচ্ছেন, কেউ কেউ ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, কারণ জাতীয় দলের ব্যস্ততা শুরু হতে সেই মার্চ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিশ্বকাপে অংশ না নেয়ায় বাংলাদেশ দল এখন দীর্ঘ বিরতিতে। ফলে মার্চ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের কোনো ব্যস্ততা থাকছে না। এরপর এফটিপি অনুযায়ী পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ রয়েছে, যা অনুষ্ঠিত হবে দেশের মাটিতে। সূচি অনুযায়ী আগামী ১২, ১৪ ও ১৬ই মার্চ অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ, এরপর আবারো বিরতি এবং সিরিজের বাকি অংশ অর্থাৎ টেস্ট ম্যাচগুলো হবে মে মাসে। পাকিস্তান সুপার লীগ (পিএসএল) এর কারণে এই সিরিজটি দুই ভাগে খেলার প্রস্তাব দিয়েছে পিসিবি এবং বিসিবি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে বলেই জানা গেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই লম্বা বিরতি খেলোয়াড়দের ছন্দপতনের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, তবুও বাস্তবতা মেনে নেয়া ছাড়া উপায় নেই। পাকিস্তান সিরিজের আগে দলকে পুনরায় সংগঠিত করাই হবে তখন প্রধান চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে নেমে পারফর্ম করাটা সবসময়ই কঠিন।











































