Home Lead খুলনায় অচেনা মুখের ভিড়: নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা

খুলনায় অচেনা মুখের ভিড়: নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা

106
রাতের নগরী ময়লাপোতা মোড়


শামিম শিকদার।।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬কে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বিগত চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে একদিকে যেমন সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, অন্যদিকে এই অপরিচিতদের চলাচল নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।


নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা, রাজনৈতিক কার্যালয়ের আশপাশ, বাস টার্মিনাল ও জনসমাগমস্থলে অচেনা লোকজনের সন্দেহজনক অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেক ক্ষেত্রে রাতের বেলায় এসব ব্যক্তির গতিবিধি আরও বেশি চোখে পড়ছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে খুলনায় একের পর এক সহিংসতা, খুন, ছিনতাই, গুলি ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটলেও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতা তেমনভাবে চোখে পড়ছে না। এর মধ্যেই হঠাৎ করে অপরিচিত লোকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই এটিকে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত করছেন।
সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনী সময় ঘনিয়ে এলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করতে পারে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অপরিচিত এসব লোকজনের পেছনে কোনো সংগঠিত উদ্দেশ্য আছে কি না, তা দ্রুত খতিয়ে দেখা জরুরি।


এ বিষয়ে নগরীর একাধিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে খুলনায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হয়ে অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই, নজরদারি বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করার দাবি জানান তারা।


সাধারণ মানুষের ভাষ্য, নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি নিয়ে কেউই নির্বাচনমুখী বাংলাদেশ দেখতে চায় না। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে খুলনাকে আতঙ্কমুক্ত ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


নগরবাসীর প্রত্যাশা-আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা বা ষড়যন্ত্র রুখতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সময়োপযোগী ও দৃঢ় ভূমিকা পালন করবে।