Home আঞ্চলিক খুলনা বিভাগীয় শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০২৫ উপস্থাপন

খুলনা বিভাগীয় শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০২৫ উপস্থাপন

45


স্টাফ রিপোর্টার
সুবিধাবঞ্চিত শিশু, শ্রমে নিয়োজিত শিশুসহ সামগ্রিকভাবে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। গবেষণা ফলাফল ‘খুলনা বিভাগের শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০২৫’ তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) আর্থিক ও স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্টস নেটওয়ার্ক (স্ক্যান) বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘সচেতন সংস্থা’।
সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফিরোজ শাহ, খুলনার ডিআইজি মো. রেজাউল হক, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খান মোতাহের হোসেন, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন, খুলনা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এনামূল হক, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান, মানুষের জন্য ফাউণ্ডেশনের ইয়ুথ এন্ড সোস্যাল কোহিশন বিভাগের প্রধান ওয়াসিউর রহমান তন্ময় ও ডেপুটি প্রগ্রাম ম্যানেজার পাবলো নেরুদা, সুশীলনের নির্বাহী প্রধান মোস্তফা নূরুজ্জামান, খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হওলাদার, কোষ্টাল ভয়েসের সভাপতি মোস্তফা জামাল পপলু, ও সাধারণ সম্পাদক কৌশিক দে, আইআরভির নির্বাহী পরিচালক মেরিনা যুথী, এসওএস শিশু পল্লীর সহকারি পরিচালক জুবায়ের রহমান, খুলনা ওয়াসার কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সরদার, ্এওসেড কর্মকর্তা বাহালুল আলম, সাংবাদিক এইচ. এম. আলাউদ্দিন ও দীপংকর রায়, সুশীলনের সহকারি পরিচালক শাহিনা পারভীন, যুব অধিকার কর্মী মো. আলভী শেখ, শিশু প্রতিনিধি তন্দ্রা দাস, ছাত্র নেতা নাহিদ ইসলাম প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে উত্থাপিত প্রতিবেদনে মানুষের জন্য ফাউণ্ডেশনের কর্মকর্তা ওয়াসিউর রহমান তন্ময় বলেন, সংবাদপত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ২০২৫ সালে শিশুরা চরম নিরাপত্তাহীনতা, সহিংসতা এবং কাঠামোগত দুর্বলতার শিকার হয়েছে। যদিও শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষায় কিছু সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের ইতিবাচক দিকও প্রকাশিত হয়েছে, তবে শিশুদের প্রতি সহিংসতা, বিশেষ করে যৌন শোষণ এবং দূর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, ক্রমাগত উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। শিশুদের সামগ্রিক সুরক্ষার জন্য আইনের দ্রুত ও কার্যকর প্রয়োগ, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে শিশু-বান্ধব করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।
প্রতিবেদনের সুপারিশমালায় বলা হয়, শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নিপীড়নের মতো চরম সহিংসতা রোধে বিচার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের শোষণ, হয়রানি এবং অনুপযুক্ত কন্টেন্ট থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি ব্যাপক জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। স্থানীয় পুলিশ ও সমাজসেবা দপ্তরকে নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা ইউনিট গঠন করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিতে শিশুদের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে তাদের সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট কৌশল যুক্ত করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় নিরাপদ স্কুল রুট নিশ্চিত করতে হবে।