নাজমুল হক লাকি>>
সুর তাঁকে আলোড়িত করে। আন্দোলিত করে। হৃদয়ের প্রান্তরব্যাপি ছড়িয়ে আছে সুরের প্রতি ভালবাসা। সে কারণেই বাংলা গানের ক্ষেত্রে শুদ্ধ চেতনা ধারণ করে তাঁর শিল্প-সৃজন হয়ে উঠেছে গহন ও গভীর। কোন কাজে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, শৈলী ও সৌন্দর্য্য যে কাউকে আকৃষ্ট করে। অত্যন্ত আন্তরিক, মার্জিত ও রুচিবান মানুষ। তাঁর সঙ্গে পরিচয় হলে কারো পক্ষেই তাঁকে ভুলে যাওয়া সহজ নয়। তিনি বরেণ্য মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সঙ্গীত শিল্পী কামাল আহমেদ।
ছেলেবেলা কেটেছে শান্ত-¯িœগ্ধ উদার আকাশের কোলঘেঁষা পাবনার খোঁকড়া গ্রামে। সেখানকার খাল-বিল-নদী, রাতের তারায়, হলুদ সরষে ক্ষেতে, ভোরের শিশির ভেজা ঘাসে জড়িয়ে আছে বরেণ্য শিল্পী কামাল আহমেদের রঙিন শৈশব। এই শৈশবই তাঁকে গভীরভাবে টেনেছিল সুরের মোহময় ভুবনে। এরপর চোখে সুরের স্বপ্ন নিয়েই চলে এলেন ঢাকায়। ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পাশাপাশি সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছায়ানটে। এখানেই পেলেন ওয়াহিদুল হক, সনজিদা খাতুন, ইখতিয়ার ওমর, সিরাজুস সালেকিন এবং ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ এর মত গুণী-শিল্পীর সান্নিধ্য। রবীন্দ্র, নজরুল, আধুনিক আর হারানো দিনের গানের এক-একটি ঘাট পেরিয়ে এগিয়ে চললো তাঁর সুরের তরী। রবীন্দ্র সরোবরের সৌন্দর্য্য আর বিশালত্বে অভিভূত হলেন শিল্পী কামাল আহমেদ। থেকে গেলেন এখানেই। নতুৃন স্বপ্নে, ভিন্ন মেজাজে যাত্রা শুরু করলো তাঁর সুরের তরী।
বাংলাদেশ বেতারের প্রতি শিক্ষাজীবন থেকেই ছিল তাঁর দারুণ আগ্রহ। অনি:শেষ ভালবাসা। বিসিএস-এ তাই পছন্দের শীর্ষে স্থান পেলো তথ্য ক্যাডারই। কর্মজীবনে বেতারে প্রবেশে তাঁর স্বপ্নগুলো ডানা মেললো অসীম আকাশে। এখানে সুর ও সংগীতায়োজনের নান্দনিক ও বৈচিত্র্যময় প্রভাবে তাঁর প্রতিটি দিন আসতো নতুন কোন বার্তা নিয়ে। নতুন কোন কিছু করার উদ্দীপনা নিয়ে। এ পর্যন্ত তাঁর ১৬ টি গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রসঙ্গগীত, তিন কবির গান, আধুনিক গান এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিবেদিত গানের অ্যালবাম ‘মহাকাব্যের কবি’।

শ্রীলঙ্কা, ভারত এবং কানাডার একাধিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল-ডাকসুর প্রতিনিধি হয়ে ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কলকাতার একাধিক মিলনায়তনে গান গেয়েছেন। বাংলাদেশ বেতারের ডিরেক্টর(প্রোগ্রাম) কামাল আহমেদ বর্তমানে তাঁর পেশাজীবী সংগঠন নবম বিসিএস ফোরামের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্ণিল সঙ্গীত জীবনে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কামাল আহমেদ সার্ক কালচারাল সোসাইটি অ্যাওয়ার্ড, বঙ্গবন্ধু গবেষণা ফাউন্ডেশন পুরষ্কার, ফোবানা অ্যাওয়ার্ড (কানাডা), ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সম্মাননা, অদ্বৈত মলবর্মণ সম্মাননা, জাতীয় রবীন্দ্র গবেষণা ও চর্চাকেন্দ্র অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য পুরষ্কারে ভূষিত হন।

কর্মজীবনের একটা সময় খুলনায় কেটেছে তাঁর নানা রঙের দিনগুলি…। ‘একজন শিল্পী বেঁচে থাকেন তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে।’ এই সৃষ্টি শুধু শৈল্পিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয়, এর ব্যাপ্তি আরও বিশাল-যা অনায়াসে ছুঁতে পারে মানবতার আঁচল-তার প্রত্যক্ষ উদাহরণ কামাল আহমেদ। দেশবরেণ্য সঙ্গীত শিল্পী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কামাল আহমেদ-এর জন্মদিনে দৈনিক খুলনাঞ্চল পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও শুভ কামনা।











































