Home বিনোদন আমি জমিদার বংশের মেয়ে: শ্রীলেখা

আমি জমিদার বংশের মেয়ে: শ্রীলেখা

2



বিনোদন ডেস্ক ||

টলিউডের আলোচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। ‘ডোন্ট কেয়ার’—স্বভাবের কারণে বরাবরই আলোচনায় থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ সরব শ্রীলেখা। সমসাময়িক নানা ইস্যু নিয়ে এ মাধ্যমে কথা বলে থাকেন তিনি। কখনো কখনো ব্যক্তিগত অনুভূতিও এ মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করতে দেখা যায় এই অভিনেত্রীকে।

শুক্রবার (২৬ জুন) শ্রীলেখা তার সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন। তাতে জানান, তিনি জমিদার বংশের মেয়ে। পাশাপাশি জেন-জি ও তার বাবাকে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন পঞ্চাশ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী।

শ্রীলেখা বলেন, “এখন তো অনেক কিছু বললেই অনেক কিছু শুনতে হয়—‘রেসিস্ট’, ‘জাজমেন্টাল’। বিশেষ করে যাদের জেন-জি ছেলেমেয়ে আছে, তারা জানেন। হঠাৎই বলে উঠবে, ‘মা, জাজমেন্টাল হয়ে যাচ্ছো!’, ‘মা, এটাকে গ্যাসলাইটিং বলে!’, ‘মা, এটা একটু রেসিস্ট হয়ে গেল না?” তাই এখন কথা বলতেও বেশ বুঝেশুনে বলতে হয়। অবশ্য বিষয়টা একদিক থেকে শেখারও। আমরা অনেক কিছু নতুন করে শিখছি। তবে মাঝে মাঝে মনে পড়ে সেই সময়টার কথা, যখন সোশ্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেট ছিল না, আর এত ভেবে-চিন্তে কথাও বলতে হতো না।”

শ্রীলেখা জমিদার বংশের মেয়ে। তার স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “হ্যাঁ, আমরা জমিদার বংশের—এ কথাটা আগেও বলেছি, আবারো বলছি। কিন্তু মজার বিষয় হলো, সেই পরিবারের হয়েও আমার বাবা ছিলেন সিপিএমের সমর্থক, শুধু সমর্থকই নন, পার্টির সদস্যও ছিলেন। সাম্যবাদে গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন। আমার ঠাকুরদা ছিলেন তার সময়ের একজন অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী। বাবার মৃত্যুর পর তার লেখা একটি বই আমি প্রকাশ করি। সেই বই পড়েই ঠাকুরদার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারি, কারণ তাকে আমি দেখার সুযোগ পাইনি।”

শ্রীলেখা তার ‘হা হা পিসি’ সম্পর্কে বলেন, “একদিকে জমিদার পরিবারের ঐতিহ্য, অন্যদিকে বাবার আদর্শ—এই দুইয়ের মধ্যেই বড় হয়েছি। বাবা, পিসিরা—দেখতে সবাই ছিলেন অসম্ভব সুন্দর। আমার এক পিসি ছিলেন, যিনি এত হাসতেন আর সবাইকে এত হাসাতেন যে, আমি তার নামই দিয়েছিলাম ‘হা হা পিসি’। তার একটা মজার অভ্যাস ছিল। কোনো বিয়েবাড়িতে নিমন্ত্রণ থাকলে, বর বা কনে যদি তার চোখে খুব একটা সুন্দর না হতো, তাহলে তিনি না কি না খেয়েই বাড়ি ফিরে আসতেন।”

শ্রীলেখার পরিবারে শরীরের রং নিয়ে পক্ষপাত ছিল। তা স্বীকার করে এই অভিনেত্রী বলেন, “এখন ভাবলে বুঝি, আমাদের পরিবারে চেহারার গুরুত্বটা খুব বেশি ছিল। তার মধ্যে গায়ের রং নিয়েও এক ধরনের পক্ষপাত ছিল। আমার ঠাকুমা খুব ফর্সা ছিলেন বলে সবাই তাকে ডাকত—‘ধলা কাকিমা’। ‘ধলা’ মানে ফর্সা। এসবের কিছু শুনে মজা পেয়েছি, কিছুতে রাগ করেছি, কিছু নিয়ে তখনই তর্ক করেছি—‘এভাবে ভাবো কেন?”

বংশপরিচয় তুলে ধরার কারণ ব্যাখ্যা করে শ্রীলেখা বলেন, “এত কথা বলার কারণ, আজ বাবার এই ছবিটা দেখে আপনাদের একটা প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হলো। এত সুন্দর দেখতে একজন মানুষ, শুধু চেহারায় নয়, মানুষ হিসেবেও এত বড়—তিনি ছিলেন আমার বাবা। হয়তো আমার মধ্যে একটু ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্স কাজ করে।”

আজকাল শ্রীলেখা তার বাবার মতো কোনো মানুষ খুঁজে পান না। তার স্মরণ করে তিনি বলেন, “বাবাই তো আমার জীবনের প্রথম পুরুষ। তাই কোনো পুরুষকে দেখলেই কোথাও না কোথাও বাবার সঙ্গে একটা তুলনা চলে আসে। আমার বাবার মতো দেখতে? বাবার থেকেও ভালো মানুষ? বাবার মতো ব্যক্তিত্ব? বাবার মতো মেরুদণ্ড, সততা আর মানবিকতা? সেই তুলনায় বারবার হতাশ হয়ে যাই। আজকাল বাবার মতো মানুষ সত্যিই আর পাওয়া যায় না।”

শ্রীলেখার বাবার নাম সন্তোষ মিত্র। ২০২১ সালে মারা যান তিনি। তার কয়েক বছর আগে মাকে হারিয়েছেন শ্রীলেখা। মা চলে যাওয়ার পর বাবাকে আগলে রাখতেন তিনি। বাবার সঙ্গে বন্ধুর মতো সম্পর্ক ছিল তার।