Home আলোচিত সংবাদ বাংলাদেশ-চীন ১৫ দফার যৌথ ইশতেহার ঘোষণা

বাংলাদেশ-চীন ১৫ দফার যৌথ ইশতেহার ঘোষণা

1

ঢাকা অফিস।।

নিজেদের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করা এবং যৌথভাবে অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার মাধ্যমে উভয় দেশ ও জনগণের জন্য আরও বেশি সুফল বয়ে আনতে সম্মত বাংলাদেশ ও চীন।

শুক্রবার (২৬ জুন) চীন এবং বাংলাদেশের মধ্যে ১৫ দফার যৌথ ইশতেহারে এই কথা বলা হয়েছে।

যৌথ ইশতেহারের প্রথমেই বলা হয়েছে, চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং-এর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমনন্ত্রী তারেক রহমান ২২ থেকে ২৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চীন সফর করেন এবং তিনি চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস ২০২৬’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস) যোগ দেন।


সফরকালে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ার লি ছিয়াং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন। ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করেন। উভয়পক্ষ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়াবলি নিয়ে গভীর মতবিনিময় করেন এবং নানা বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান।

উভয়পক্ষ এই অভিমত ব্যক্ত করেছে, গত ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে চীন ও বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে তাদের পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা ও ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব জোরদার করেছে। এ ছাড়া ফলপ্রসূ ও বাস্তবসম্মত সহযোগিতা চালিয়ে গেছে; আর তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। চীন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠুভাবে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের শাসনকার্যের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ সবার আগে’ নীতি বাস্তবায়নের বিষয়টি স্বীকার করেছে।

বাংলাদেশ পক্ষ মনে করে, চীনের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বয়ে আনবে। উভয়পক্ষ তাদের ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব’-কে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করতে এবং নতুন যুগে যৌথভাবে ‘চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার মাধ্যমে উভয় দেশ ও জনগণের জন্য আরও বেশি সুফল বয়ে আনতে সম্মত হয়েছে।

উভয়পক্ষ উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের গতি বজায় রাখা, শাসন-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান বৃদ্ধি এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদান ও সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। উভয়পক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কৌশলগত সংলাপের একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া, কূটনীতি ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক ‘২+২’ সংলাপ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি খতিয়ে দেখতেও উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে।

উভয়পক্ষ তাদের নিজ নিজ মূল স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলোতে একে অপরের প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের কর্তৃত্ব প্রশ্নাতীত এবং তা কোনোভাবেই চ্যালেঞ্জ করা যায় না। বাংলাদেশ ‘এক-চীন নীতি’র প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং স্বীকার করেছে যে, বিশ্বে কেবল একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং চীনের সরকারই সমগ্র চীনের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র বৈধ সরকার। বাংলাদেশ যেকোনো ধরনের ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র দৃঢ় বিরোধিতা করেছে এবং জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্যে চীনা সরকারের প্রচেষ্টাকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে।

চীন বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে, বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে এবং বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব জাতীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বাধীন উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার বিষয়টিকে সম্মান জানিয়েছে।

উভয়পক্ষ ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এবং আধুনিকীকরণের লক্ষ্য অর্জনে যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে আরও নিবিড় সমন্বয় গড়ে তুলবে, বড় আকারের প্রধান প্রকল্প এবং ‘ছোট অথচ চমৎকার’ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প—উভয় ধরনের উদ্যোগকেই এগিয়ে নেবে এবং বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও কৃষি খাতের আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে চীন তার সাধ্যমতো সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথভাবে বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে চীন বাণিজ্য, ই-কমার্স, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতা জোরদার করবে। শতভাগ ট্যারিফ লাইনের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলবে। উভয়পক্ষ যৌথভাবে ‘মোংলা বন্দর সুবিধা আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্প’ এবং চট্টগ্রামে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

উভয়পক্ষ যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, তথ্য ও যোগাযোগ, সবুজ শক্তি, ফটোভোলটাইক প্রযুক্তি, দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা—এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগসহ আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন নতুন উপায় অন্বেষণ করতেও উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে।

উভয়পক্ষ সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ পরিকল্পনা, জলবিজ্ঞান বিষয়ক পূর্বাভাস প্রদান, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগ প্রশমন, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছে। চীন ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ -এর ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদান করবে এবং প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কাজের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে উভয় দেশের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা করবে। এ ছাড়া তারা সামুদ্রিক বিষয়াবলিতে সহযোগিতা জোরদারেও সম্মত হয়েছে।

উভয় দেশ পারস্পরিক সফর ও প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রমসহ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

চীন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি এবং ২০২৫ সালে ‘চীন-বাংলাদেশ জনগণ-থেকে-জনগণ পর্যায়ে বিনিময় বর্ষ’ উদযাপনের সফল আয়োজনের বিষয়টি উভয়পক্ষই ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করেছে। তারা গণমাধ্যম, থিংক-ট্যাঙ্ক, শিক্ষা, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, যুবসমাজ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির মতো ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময় ও সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

উভয়পক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি কলেজগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে সহায়তা প্রদান করবে। চীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সে দেশে পড়াশোনার সুযোগ প্রদান অব্যাহত রাখবে। এছাড়া, জনস্বাস্থ্য ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির মতো ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে চীনের ইউনান প্রদেশের মতো স্থানীয় বা আঞ্চলিক পর্যায়ে চীনের সহযোগিতাকে বাংলাদেশ স্বাগত ও সাধুবাদ জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ‘মানবজাতির জন্য একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎ-বিশিষ্ট সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার যে রূপকল্প এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কর্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন ‘বৈশ্বিক উদ্যোগ’ তার প্রশংসা ও সমর্থন জানিয়েছে এবং চীনের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছে। চীন জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক সংস্থায় বাংলাদেশের অধিকতর ভূমিকা পালনকে সমর্থন করেছে; পাশাপাশি ব্রিকস-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় অংশীদার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদনকেও সমর্থন জানিয়েছে। উভয়পক্ষই এই অঞ্চলে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে তাদের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং এই প্রক্রিয়ায় অঞ্চলের আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে।

উভয়পক্ষ জাতিসংঘ-কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং জাতিসংঘের সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালার আলোকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনাকারী মৌলিক রীতিনীতি দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রাখতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি তারা একটি সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বহু-মেরু বিশ্ব এবং সর্বজনীনভাবে লাভজনক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়েও একমত হয়েছে।

উভয়পক্ষই একমত হয়েছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অর্জিত বিজয়ের ফলাফল দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রাখা এবং ফ্যাসিবাদী ও সামরিকবাদী পুনরুত্থানের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা অপরিহার্য। কায়রো ঘোষণা, পটসডাম ঘোষণা এবং জাতিসংঘ সনদসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইনি দলিলের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি উভয়পক্ষই সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের সমস্যার সমাধানে চীন যে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে, বাংলাদেশ তার প্রশংসা করেছে। চীনও এই মানুষদের মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সমর্থন জানিয়েছে। চীন তার সাধ্যমতো এই প্রক্রিয়াকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।

সফরকালে উভয়পক্ষ উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ সহযোগিতা, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যম সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি সমঝোতা ও সহযোগিতা দলিল সই করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ও তার প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য চীনের সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য চীনের নেতাদের আমন্ত্রণ জানান।