স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন মোল্লাপাড়া এলাকায় কিশোর গ্যাং ও কথিত মাদক সিন্ডিকেটের তৎপরতা আবারও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের বিশেষ অভিযানের সময় এসব চক্রের সদস্যরা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও অভিযান শেষ হলেই পুনরায় সক্রিয় হয়ে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছে।
শুক্রবার সকালে মোল্লাপাড়া কমিশনার কালভার্ট এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে সাকিল, রনি ও মোটরসাইকেল মেকানিক রাজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাকিল ও রনি রাজনকে ধাক্কা দিলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরে রাজনের ভাই, মাংস ব্যবসায়ী রায়হান মোটরসাইকেলে টুটপাড়া কবরখানা এলাকায় মাংস পৌঁছে দিতে গেলে সেখানে সাকিল, রনিসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে একটি ইজিবাইকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সাকিলের মাথায় আঘাত লাগে। সেখানেও স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সন্ধ্যায় ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মীমাংসার আগেই কমিশনার কালভার্ট এলাকার সায়েম, সাকিল, রুবেল, সোহেল, দিপু, দিপ্ত, শাহাদাত, শোহান, আবির, রাব্বিসহ ১০-১২ জনের একটি দল রায়হানের বাড়িতে হামলা চালায়। রায়হানকে না পেয়ে তারা ফিরে যায়।
পরে রায়হান মাংস ব্যবসার টাকা সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরার পথে কমিশনার কালভার্ট এলাকায় ওই দলটি তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, তার কাছে থাকা (মাংস ব্যবসার) নগদ টাকা নেই ও মোটরসাইকেল ঘটনাস্থলেই পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের সাথে নিয়ে টাকা ও মোটরসাইকেল উদ্ধারে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা আবারও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রায়হানের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে পাশের খালে ফেলে মারধর করে।
খবর পেয়ে রাজন ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত রায়হান ও রাজনকে উদ্ধার করে প্রথমে খুলনা সদর হাসপাতালে এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে সংঘর্ষে আহত সাকিল ও সায়েম গ্রুপের কয়েকজনও হাসপাতালে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যান বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সায়েম, সাকিল, রুবেল, সোহেল, দিপু, দিপ্ত, শাহাদাত, শোহান, আবির, রাব্বিসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। তারা বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
আহত রায়হানের মা রাহেলা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে মারধরের পাশাপাশি তার কাছে থাকা টাকা নিয়ে গেছে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। তার হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে গেছে, হাতের শিরা কেটে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ও জখমের চিহ্ন রয়েছে। চোখের নিচে সেলাই লেগেছে। এখনো সে ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না।
রাজন বলেন, আমার কোনো দোষ ছিল না। তারপরও আমি তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। বলেছি, সন্ধ্যায় বসাবাসি করে মুরুব্বিরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি মেনে নেব। কিন্তু তারা শুনেনি। রায়হান ভাইয়ের প্রায় ১ লাখ ৬৫ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে, আমাকেও মারধর করেছে।
এ বিষয়ে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।










































