Home আঞ্চলিক ডিলারদের ক্ষোভে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন, পিঠ বাঁচাতে দৌড়ঝাঁপ অভিযুক্তের

ডিলারদের ক্ষোভে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন, পিঠ বাঁচাতে দৌড়ঝাঁপ অভিযুক্তের

33


মো. জাহিদুর রহমান।।


হাইকোর্টে মামলা ও অনুকূলে আদেশ এনে দেওয়ার নামে খুলনা বিভাগের ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ডিলারদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সংবাদ প্রকাশের পর মাঠ পর্যায়ে তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। অন্যদিকে, ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে নিজের পিঠ বাঁচাতে বিভিন্ন প্রভাবশালী দরবারে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অভিযুক্ত কথিত ডিলার নেতা।


স্থানীয় ভুক্তভোগী ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন মন্ত্রীর বন্ধু পরিচয়ধারী ওই ডিলার নেতার (আদ্যক্ষর “খ”) বিরুদ্ধে ওএমএস ডিলারদের বিভিন্ন জটিলতা সমাধানের কথা বলে আনুমানিক এক থেকে দেড় কোটি টাকা তোলার অভিযোগ ওঠে। খুলনা বিভাগীয় ওএমএস ডিলারদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কথোপকথন ফাঁসের মাধ্যমে এই জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসে।


তদন্তে নেমেছে একাধিক টিম: খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট তদন্তে নেমেছে বিভিন্ন সরকারি ও গোয়েন্দা সংস্থা। ডিলারদের কাছ থেকে কীভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে, লেনদেনের মাধ্যম কী ছিল এবং এই সিন্ডিকেটের পেছনে আর কারা জড়িত—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখতে মাঠে কাজ করছে একাধিক টিম। গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, সাধারণ ডিলারদের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী এই চক্রের আর্থিক লেনদেনের সমস্ত তথ্য-উপাত্ত ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।


পিঠ বাঁচাতে মরিয়া অভিযুক্ত: এদিকে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসায় এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। নিজের অপরাধ আড়াল করতে এবং আইনি ব্যবস্থা থেকে বাঁচতে তিনি এখন বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে ও রাজনৈতিক দরবারে দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা গেছে। তবে ভুক্তভোগী ডিলারদের দাবি, কোনো তদবিরের কাছে যেন প্রশাসন নতি স্বীকার না করে।


হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ডিলারদের ক্ষোভের আগুন: ফাঁস হওয়া চ্যাটের বিবরণ অনুযায়ী, বাগেরহাটের মাসুফ নামের এক ওএমএস ডিলার গ্রুপে লিখেছিলেন, “মামলার কথা বলে খালিদ ভাই টাকা নিলেন ৮২ হাজার টাকা। জুলাই মাসের ২ তারিখ ফোন দিয়ে বলেন মামলার রায় পেয়েছি তাড়াতাড়ি ৩০ হাজার পাঠান।” টাকা পাঠানোর পর রায়ের কপি কিংবা টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়। মেহেরপুর জেলার ডিলার মো. তুফান জানান, রায় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।


ডিলারদের অভিযোগ, হাইকোর্টের ১০ নম্বর কোর্টে মামলা সচল আছে বলে তাঁদের জানানো হলেও দীর্ঘ ১৫ দিন তল্লাশি চালিয়েও উক্ত কোর্টে এই সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। হাইকোর্টে একটি কেস ফাইল করতে যেখানে মাত্র ২০-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে পুরো বিভাগ থেকে কোটি টাকা তুলে তা দিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ডিলারদের।


রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: ভুক্তভোগী ওএমএস ডিলাররা তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতে এবং এই কথিত মামলার নামে চলা প্রতারণার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। ডিলাররা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত টাকা ফেরত এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে তারা সম্মিলিতভাবে খুলনায় এসে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের ডাক দেবেন।