স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন মশিয়ালী এলাকায় গুলি করে তিনজনকে হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি মো. আলমগীর শেখ (৩৮) এর ৩ দিনের রিমা- মঞ্জুর করেছে আদালত।
গতকাল বুধবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম রিমা-ের আদেশ প্রদান করেছেন। আলমগীর মশিয়ালী গ্রামের মো. মোকছেদ শেখের ছেলে। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল হক আসামি আলমগীর শেখকে আদালতে হাজির করে ১০দিনের রিমা-ের আবেদন করেন।
গত ১৯ জুলাই মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা খানজাহান আলী থানার এসআই মো. লুৎফুল হায়দার ৩আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০দিনের রিমা-ের আবেদন করেছিলেন। আদালত আসামি মশিয়ালী গ্রামের মৃত. হাসান আলি শেখের ছেলে মো. জাফরিন শেখ (৩২) এর ৮দিন এবং মো. কুরবান শেখের ছেলে মো. আরমান শেখ (২০) ও মো. মোকছেদ শেখের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর শেখ (৩৫) এর ৭দিন করে রিমা- মঞ্জুর করেছিল। ৭দিনের রিমা- শেষে গত ৩০ জুলাই আরমান শেখ ও জাহাঙ্গীর শেখকে আদালতে হাজির করেন মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল হক। ওই দিন মো. আরমান শেখ আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরের দিন মো. জাফরিন শেখকে আদালতে হাজির করে ১০দিনের রিমা-ের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. এনামুল হক। আদালত ৫দিনের রিমা- মঞ্জুর করেন। গতকাল সোমবার জাফরিনকে আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল হক জানান, ঘটনার পর আলমগীর পালিয়ে যায়। তাকে গতকাল বুধবার যশোর কোতয়ালী থানার খড়কি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে অত্যন্ত ভয়নক প্রকৃতির খারাপ লোক। তার অত্যাচারে গ্রামবাসী অতিষ্ট। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৮জুলাই রাতে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত সাইফুলের পিতা মো. শাহিদুল শেখ বাদী হয়ে মশিয়ালী গ্রামের মৃত. হাসান আলি শেখের ৪ছেলে মো. মিল্টন শেখ (৪৫), মো. জাকারিয়া শেখ (৩৭), মো. জাফরিন শেখ (৩২) ও মো. কবির শেখ (৫০) সহ ২২জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ১৫/১৬জনকে আসামি করে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন যার নং-১২। মামলার অপর আসামিরা হলেন মশিয়ালী গ্রামের মো. নুরু শেখের ছেলে মো. রাজু শেখ (২৮), মো. ইলিয়াসের ছেলে মো. আশিক (২২), মো. মোকছেদ শেখের ৪ ছেলে মো. জুয়েল শেখ (৪০), মো. আলমগীর শেখ (৩৮), মো. জাহাঙ্গীর শেখ (৩৫) ও মো. মুরাদ শেখ (৩২), আব্দুল জব্বারের ছেলে মো. আরিফ (৩৩), মো. নুর ইসলামের ছেলে মো. হাসান (২০), মো. ফারুকের ছেলে মো. রবিন (২০), মো. ইনছার আলি ছেলে মো. বাবু (২০), মৃত. আক্তার আকুঞ্জির ছেলে মো. রহিম আকুঞ্জি (২২), মৃত. সালাম আকুঞ্জির ছেলে মো. তৌহিদ আকুঞ্জি (২২), মো. বাবুল শেখের ছেলে মো. মিঠু শেখ (৩৩), মৃত আদিল শেখের ছেলে মো. আজিম শেখ (৩৫), মো. নিজার শেখের ছেলে মো. নাজমুল শেখ (২২), মো. কুরবান শেখের ছেলে মো. আরমান শেখ (২০), মো. জমির উদ্দিনের ছেলে মো. মনিরুল (২৭) ও ইব্রাহিম শেখের ছেলে মো. নুর ইসলাম (২০)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৬জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মো. জাকারিয়া শেখ মশিয়ালী সিএন্ডবি’র ঘরের একটি কক্ষে ৩রাউন্ড বন্দুকের গুলি ও ২রাউন্ড পিস্তলের গুলি নিজে রেখে বাদীর চাচাতো ভাই মুজিবর শেখকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাদীসহ পাড়ার আরো কিছু লোক মুজিবরকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার কারণ জানতে জাফরিনদের বাড়ির সামনে যায়। এসময় তাদের সঙ্গে বাক-বিতন্ডার একপর্যায়ে মিল্টন শেখ গলি করলে নজরুল শেখ মারা যায়। জাফরিন শেখ গুলি করলে গোলাম রসুল মারা যায়। জাকারিয়ার গলিতে আহত হয় বাদীর ছেলে সাইফুল। পরে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যায় সাইফুল। তাদের অন্যান্য সহযোগিদের গুলিবষর্ণে বাদীসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আফসার উদ্দিন, তার ছেলে রবি, শামীম, খলিল, রানা, সুজন শেখসহ আরো অনেকে। এঘটনায় নিহত সাইফুলের পিতা মো. শাহিদুল শেখ বাদী হয়ে মশিয়ালী গ্রামের মৃত. হাসান আলি শেখের ৪ছেলেসহ ২২জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ১৫/১৬জনকে আসামি করে খানজাহান আলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন যার নং-১২।











































