Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

64
তিস্তা নদীর পানি কমে যাওয়ায় মাছ ধরছেন জেলেরা

 

রামপালে মরিয়ম বেগম মেমোরিয়াল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’র উদ্বোধন

খবর বিজ্ঞপ্তি

গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের কাছে দেশের সুনামখ্যাত চিকিৎসকগণের স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বাগেরহাটের রামপালে আধুনিক মানের সুবিধা সম্বলিত মরিয়ম বেগম মেমোরিয়াল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২ টায় উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের গিলাতলা বাজারে মরিয়ম বেগম মেমোরিয়াল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’র প্রতিষ্ঠাতা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর হারুনঅর রশিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্লিনিকের উদ্বোধন করেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোল্লা আঃ রউফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর শেখ আব্দুস সালাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামিল হাসান জামু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুকান্ত কুমার পাল, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল্লাহ ফকির, অধ্যক্ষ অলিউর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা হাওলাদার আবু তালেব, কুদরতি ইনামুল বাশার বাচ্চু, প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরহাদ হোসেন, শেখ বেলাল উদ্দিন, সুশান্ত কুমার পাল, মল্লিক আনোয়ার প্রমুখ।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন,দেশে স্বাস্থ্য সেবার যে উন্নয়ন হয়েছে, তার সবই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে চিকিৎসা পেতে পারে,  সে লক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুধু ক্লিনিকই স্থাপন করেন নাই,  এখান থেকে ৩০ প্রকার ঔষধ বিনামূল্যে দেয়ার ব্যবস্থা ও করেছেন। তিনি আরো বলেন যে,  চিকিৎসার মান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী ভাবেও হাসপাতাল স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন যে,  এ হাসপাতাল এ এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

 

সংবাদ প্রকাশের পর রাস্তার কাজ শুরু

বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি

মোংলার দিগরাজ খেয়াঘাট থেকে কোষ্টগার্ড,বিজিবি হয়ে বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা যেন দেখার কেউ নেই জনভোগান্তিতে এলাকাবাসী। এই শিরোনামে নিউজ প্রকাশের পর রাস্তার কাজ শুরু করায় এলাকাবাসী দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকা,  অভিযান নিউজ টিভিসহ যে সকল মিডিয়া ও সংবাদ পত্র, অনলাইন পত্রিকায় খবর প্রকাশ করা হয়েছে তাদের সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সাথে সাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যারা এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে রাস্তা নির্মাণের বাজেট দেওয়ায় এবং কাজ শুরু করায় এলাকার সকল জনগণ তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে রাস্তার সাথে সাথে পাশের ড্রেন করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসী বলেন রাস্তার সাথে সাথে ড্রেনের কাজ করলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হবে ফলে রাস্তা বৃষ্টির পানি, জলোচ্ছ্বাস ও অতিরিক্ত জোয়ারের পানির চাপে আর তলিয়ে যাবে না। তারা আরো বলেন প্রতি বছর পানির চাপে রাস্তা তলিয়ে যেয়ে রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়। কেননা পানি উঠার পর রাস্তার বালি সরে যেয়ে বড় বড় গর্ত ও ইটের তলা থেকে পানির চাপে বালি সরে যেয়ে রাস্তা ভেঙে চুরমার হয়ে যায় ফলে রাস্তায় যানবাহন ও লোক চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই রাস্তার সাথে সাথে ড্রেন করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ইউপি চেয়ারম্যান ও সরকারের সংশ্লিষ্ট উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট।

 

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন খুলনা ২৪নং ওয়ার্ড সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সভাপতি-নাফিস, সম্পাদক-সিয়াম

খবর বিজ্ঞপ্তি

গতকাল শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৩ টায় আমতলা মোড়স্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা সদর থানার ২৪ নং ওয়ার্ড এর সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত এর সভাপতিত্বে ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক নুরুল করীম আজাদীর সঞ্চালনায় ওয়ার্ড সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সহ-সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন ।

প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সদর থানার সভাপতি মুহা. হাবিবুল্লাহ মেসবাহ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সদর থানার সহ-সভাপতি মোঃ মাহবুবুল হক মিশকাত, সাধারণ সম্পাদক সজল হাওলাদার আব্দুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাসুম বিল্লাহ ।

 

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ২৪ নং ওয়ার্ড এর সহ-সভাপতি শেখ শাহরিয়ার নাফিস, দাওয়াহ সম্পাদক মাহমুদ হাসান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মানসুরুল হক সিয়াম, সদস্য জি এম আব্দুল্লাহ।

 

আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ মিরাজ, রাকিব, নাজমুল, আবির, রবিউল, আরাফাত,নীরব নিঝুম, রায়হান সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সদর থানার সভাপতি সর্বসম্মতিক্রমে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ২৪ নং ওয়ার্ডের ২০২৩ সেশনের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ২০২৪ সেশনের জন্য সভাপতি হিসেবে শেখ শাহরিয়ার নাফিস, সহ-সভাপতি মো. নুরুল করীম আজাদী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মানসুরুল হক সিয়াম ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে জি এম আব্দুল্লাহর নাম ঘোষণা করা হয়।

 

কালিগঞ্জের পল্লীতে ঘের করতে গিয়ে দুই সংবাদকর্মী ষড়যন্ত্রের স্বীকার

কালিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

কালিগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে জমি লীজ নিয়ে মৎস্যঘের করার কারণে মামলাবাজ মোনায়েমের ষড়যন্ত্রের স্বীকার দুই গনমাধ্যমকর্মী। নানান অপ প্রচার ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করার হুমকীর অভিযোগ উঠেছে মোনায়েমের উপর। প্রতিকার চেয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন বর্তমান ঘের মালিকদ্বয়।

 

অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বন্দকাটি গ্ৰামের মৃত আলহাজ্ব আনসার উদ্দিনের ৩ পুত্র ও ২ কন্যা ২০২৪ সালের জানুয়ারী থেকে পাঁচ বছরের জন্য প্রচলিত নিয়মে আব্দুল আজিজ গাজী, মোকাররম হোসেন, মোয়াজ্জাম হোসেন, রেহানা পারভীন ও তাহমীনা পারভীন এর

কাছ থেকে পৈতৃক সম্পত্তি ৫০ খতিয়ানের ১১৭৮, ১৪৭৭, ১৪৮০ দাগ থেকে ১ একর ৪২ শতক জমি পাঁচ বছরের জন্য  ডিড নেয় উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্ৰামের মৃত আবুল কাশেম শেখের পুত্র শিমুল হোসেন, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শ্রীধরকাটি গ্রামের মৃত চন্দ্রকান্ত ঘোষের পুত্র তাপস কুমার ঘোষ ও মুকুন্দ মধুসূদনপুর গ্রামের বাকের আলী মোড়লের পুত্র আনারুল ইসলাম। উপরোক্ত দাগ খতিয়ানের জমি ডিড মালিকগণ ঘেরের জমি পরিচর্চা করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ শুরু করে দেয়। কিছুদিন পর থেকে বন্দকাটি গ্ৰামের মৃত মুরালি গাজীর পুত্র আব্দুল খালেক (৪৫) কুখ্যাত ভূমিদস্যু চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করে জোরপূর্বক জমি দখল করার পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন রকমের ভয়-ভীতি মারধর ও জীবননাশের হুমকি ধমকি দিয়ে ঘের ডিড মালিকগণকে বিতাড়িত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকত বন্দকাটি গ্রামের মৃত আলহাজ্ব আনসার উদ্দিন এর পুত্র মোনায়েম হোসেন (৫৫) ১৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি পত্রিকায় ডিড মালিক সাংবাদিক শিমুল হোসেন, সাংবাদিক তাপস কুমার ঘোষ, আনারুল ইসলাম ও গিয়াস উদ্দিনসহ ৭-৮ জনের নামে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে নীল নকশা আটতে থাকে। এমনকি ঘেরে মাছের পোনা অবমুক্ত করার চেষ্টা করলে বিভিন্ন অজুহাতে বাঁধা সৃষ্টি করছে। ধুরন্ধর এই মোনায়েম চিহৃিত মামলাবাজ ও বিশ্বাসঘাতক। তার আপন ভাই বোনেদেরকেও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘদিন যাবত হয়রানী করে আসছে। এ ব্যাপারে মোনায়েমের সাথে মুঠোফোনে ০১৭১৮৬০৮৭৫২ নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

ডুমুরিয়ায় স্টক হোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভা 

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি

ডুমুরিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ের স্টক হোল্ডারদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা সিএসও ফোরামের আয়োজনে রাইট টু গ্রো প্রকল্প ও দি হাঙ্গার প্রজেক্টের সহযোগিতায় শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলা শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সিএসও ফোরামের সভাপতি এস এম মেসবাহ উল আলম টুটুল। প্রধান অতিথি ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট এন্ড সিইও টিমোথি ওয়ার্ড। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুজনের পরিচালক এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ বদিউল আযম মজুমদার, দি হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ফিন্যান্স ম্যানেজার জেথ্রো ক্যালিবিউকার। সিএসও ফোরামের সভাপতি আশীষ কবিরাজের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী খোরশেদ আলম, মাসুদুর রহমান রঞ্জু, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ দিদারুল হোসেন দিদার, শেখ রফিকুল ইসলাম হেলাল, অধ্যক্ষ সমরেশ মন্ডল, মিপস প্রজেক্টের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর নাজমুন নুর, রাইট টু গ্রো প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী ইসরাত হাসান, প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, প্রদীপ সরকার, সামিউল আলম, শারমিন নাহার, মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।

 

 

মাগুরার শালিখাতে “ওপেন হাউজ ডে”২০২৪ অনুষ্ঠিত

নওয়াব আলী মাগুরাঃ

মাগুরার শালিখার সীমাখালী বাজারে শনিবার বিকাল তিনটায় স্মার্ট পুলিশ স্মার্ট দেশ শান্তি প্রগতির বাংলাদেশ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে “ওপেন হাউজ ডে” অনুষ্ঠিত হয়েছে। শালিখা থানার ৪নং শতখালী ইউনিয়ন  বিটের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে  সভাপতিত্ব করেন বিট পুলিশিং অফিসার এসআই মোঃইমরান হোসেন,এবং সার্বিক দ্বায়িত্ব পালন করেন এসআই রাকিবুল ইসলাম সহ এ এস আই লিটন হোসেন, এ এস আই রিপন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন শালিখা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃনাসির উদ্দীন ও সীমাখালী হাটবাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ কাজী।ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠানে অফিসার ইনচার্জ শালিখা উপস্থিত সাধারণ জনগণের অভিযোগ শুনতে চান এবং পুলিশ জনগণের বন্ধু ও কাছাকাছি থেকে পুলিশের সেবা প্রদানের আশ্বস্ত করেন।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শতখালী বিটের দায়িত্ব প্রাপ্ত  স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ,কমিউনিটি পুলিশের সদস্যবৃন্দ।

 

পাইকগাছায় চিংড়ি ঘেরে বাসা বেঁধে দখল চেষ্টার অভিযোগ

পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধি:

পাইকগাছায় আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে চিংড়ি ঘেরে বাসাবাড়ি বেঁধে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার লতা ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার লতা ইউনিয়নের হাড়িয়ায় পানি উন্নয় বোর্ডের ওয়াবদার একোয়ার জমিতে ওই এলাকার মকবুল হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে চিংড়ি ঘের করে আসছে। বুধবার সকালে গাদাইপুর ইউনিয়নের মালেক শেখ(৬০) প্রভেজালের জমি দাবী করে ওই চিংড়ি ঘেরে বাঁসা তৈরী করে দখলের চেষ্টা করে। ঘের মালিক মকুল হাউদার জানান, ওয়াবপদা কর্তৃপক্ষ আমাকে এফ সি ডি আই প্রদান করে। সে অনুযায়ী আমি ২৩ বছর দখলে রয়েছি। এর আগেও তারা আমার দখলীও জমিতে ঘর বাঁধার চেষ্টা করে। সে কারণে আমি উপজেলা নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারা মামলা করি। সে মামলায় দখল ভিত্তিক স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার জন্য আদেশ দেন। কিন্ত প্রতিপক্ষ ওই আদেশ উপেক্ষা করে বুধবার সকালে বহিরাগত কিছু লোক নিয়ে আমার ঘেরে ঘর বাঁধার চেষ্টা করে। এ সংক্রান্তে আমি থানায় অভিযোগ করেছি। এ বিষয মালেক শেখ জানান, আমি প্রভেজাল অনুযায়ী জমি দাবী করছি। আমার নামে বর্তমান জরিপ হয়েছে। তারা আমার জমিতে দীর্ঘদিন মাছ চাষ করে খাচ্ছে। পাইকগাছা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক উত্তম চক্রবর্তি টজানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। পরবর্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

পাইকগাছায় প্রতিবন্ধি কল্যান ট্রস্ট এর  প্রতিবন্ধি সমাবেশ

পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধি:

 

পাইকগাছায় ব্রততী রায় শিশু ও প্রতিবন্ধি কল্যান ট্রস্ট এর ২৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রজত জয়ন্তী উদযাপন ও প্রতিবন্ধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০ টায় মটবাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ উপলক্ষে কেককাটা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিবন্ধি সমাবেশ হয়।  ব্রততী রায় শিশু ও প্রতিবন্ধি কল্যান ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা প্রজিৎ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লস্কর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্রতিবন্ধি অভিভাবক খ্যাত কে এম আরিফুজ্জামান তুহিন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যপক সেখ রুহুল কুদ্দুস, জগন্নাথ দেবনাথ এর পরিচালনায়, বিশেষ অতিথি ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন, প্রধান শিক্ষক শিবশংকর রায়, নির্মল কুমার অধিকারী, ব্যংক কর্মকর্তা বিকাশেন্দু সরকার, মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দীন, নুর আলী মোড়ল, মিলন রায় চৌধরী, হারান চন্দ্র অধিকারী, পঞ্চানন সরকার, প্রশান্ত সরকার, প্রশান্ত রায়, সিধার্থ মল্লিক, পিন্টু ধর, আশিষ বিশ্বাস।

 

দর্শনায় সড়ক দুর্ঘটনার আহত কলেজ ছাত্র’র চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু 

মাহমুদ হাসান রনি,দামুড়হুদা(চুয়াডাঙ্গা)

মটরসাইকেল নিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগা আহত কলেজ ছাত্রের চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু  হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৫ টায়  দর্শনা থানার  ছোট শলুয়া গ্রামের আশরাফুজ্জামান ওরফে সানাউল্লাহর ছেলে তুহিন ইমরান(১৮)’র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

দর্শনা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে তুহিন মোটরসাইকেলে করে বেগমপুর গ্রাম থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় বেগমপুর কেরুর ফার্মের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে  তুহিন গুরুতর আহত হন।পরে তাকে

বাড়ির লোকজন  উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ভর্তি রাখেন।

তুহিনের অবস্থার অবনতি হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করলে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

 

নড়াইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

মো: তাহের, নড়াইল প্রতিনিধি:

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) গোলক চন্দ্র বিশ্বাস ও সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন পিকুল বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়মে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় অতিষ্ট বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির একাংশ, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল হান্নান ও ওহিদুল মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, কোন ধরনের রশিদ প্রদান ছাড়াই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে। সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে কাউকে না জানিয়ে স্কুলের কম্পিউটার অপারেটর পদে এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অজানা কারণে স্কুলের পশ্চিমপাশের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার কাজ  বন্ধ করে রেখেছেন তারা। বেআইনিভাবে স্কুলের জমি ইজারা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ। তারা আরও অভিযোগ করেন, ম্যানেজিং কমেটির সদস্য হিসাবে প্রধান শিক্ষক গোলক চন্দ্র বিশ্বাসের নিকট স্কুল ফান্ডের অর্থের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেছেন সভাপতি সব টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি স্কুলের ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও পুরস্কার বিতরণ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে দূ,জন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বলেন, বিগত দিনে এই স্কুলের লেখাপড়ার মান ভালো থাকলেও এই সভাপতি অর্থ্যাৎ কমিটির আমলে লোখাপড়ার মান একেবারেই নিন্মমুখি রয়েছে। ম্যানেজিং কমিটি কোন মিটিং করে না। নিয়োগ বানিজ্য শেষ করে এখন আর তিনি বিদ্যালয়ে ঠিকমত খোঁজখবর রাখেন না। আমাদের জোর দাবি স্কুলের লেখাপড়ার মান এবং পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক। কালিয়া উপজেলার দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী পলি খানম শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রশিদ ছাড়াই প্রধান শিক্ষকের কথা মত অর্থ নেয়ার বিষয়টি স্বিকার করে বলেন, ষষ্ট শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা এবং অন্যসব শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে শিক্ষকদের অবসর ভাতার জন্য। কালিয়া উপজেলার দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) গোলক চন্দ্র বিশ্বাস তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, খেলাধুলার পুরস্কার ওই সময় না দেয়া হলেও আগামী ৭ই মার্চ দেয়া হবে।কম্পিউটার অপারেটর নিয়ম মেনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বিকার করে বলেন, শিক্ষকদের অবসর ভাতার জন্য এ টাকা নেয়া হয়েছে, শুধু আমরা নয় সারা দেশে নেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন পিকুল অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, বিদ্যালয় সরকারি নিয়ম নিতি মেনে পরিচালনা করা হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার বিষয়টি আমার  জানাননেই বলে জানান।

 

স্মার্ট নাগরিক গঠনে মানব সেবায় যাত্রাশুরু করলো লায়ন ফারিহা নারী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

খুলনার ফুলতলায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে লায়ন ফারিহা নারী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। গতকাল সকালে লায়ন্স ক্লাব  অব পায়গ্রাম কসবার নিজস্ব স্থাপনায় এটির উদ্বোধন হয়।

 

ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইন্জিনিয়র আবিদ হাবিবের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কন্দ্রেটি উদ্বোধন করেন  লায়ন্স  ইন্টারন্যাশনাল আন্তর্জাতিক ডিরেক্টর ডি জি নাজমুল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিথ ছিলেন  ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫এ১ এর সম্মানিত গভর্নর লায়ন ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাহউদ্দিন, ১ম ভিডিজি ইন্জিনিয়ার মোঃ সেলিম মিয়া,  ২য় ভিডিজি এ কে এম গোলাম ফারুক, ক্লাব প্রেসিডেন্ট মোঃ  আসাদুজ্জামান সেলিম,  ভাইস প্রেসিডেন্ট সরকার  নুমায়ন খালেদ ও ক্লাব সদস্য,   লায়ন লিডার গন,এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্কুলের প্রধান শিক্ষ্কক গন  ও বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট নাগরিক গড়ার প্রত্যয়ে এই সেন্টারে নারীদের এই কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষন দেয়া হবে। এখানে খুলনার প্রত্যন্ত এলাকায় নারী বিশেষ করে তনু সমাজ বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে পারবে। প্রতি ৬ মাসের কোর্সে এখনা থেকে ১২০জন প্রশিক্ষন গ্রহণ করতে পারবে। ইতমধ্যেই এই কেন্দ্র থেকে প্রথম ব্যাচ প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষ হয়েছে।  খুলনার এই প্রত্যন্ত গ্রামে বসেই যাতে বিশ্বায়নের এই যুগে নারীরা নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে পায়গ্রাম কসবা লায়ন্স ক্লাব। নতুন ট্রেনিং সেন্টারটি শত শত নারী শিক্ষার্থীকে যথার্থ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এখানে আধুনিক আইটি ভিলেজ প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী ভূমিকা রাখবে তা  বিশ্বাস করেন ক্লাব প্রতিষ্ঠাতা।

 

মোংলার পশুর নদীতে কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবি, জলজপ্রাণীর ক্ষতির আশংকা

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে ৯৫০মেট্টিক টন কয়লা নিয়ে এম,ভি ইশরা মাহমুদ নামের একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। এ সময় ওই জাহাজে থাকা ১১জন স্টাফ-কর্মচারী সাঁতরিয়ে কুলে উঠে গেলে প্রাণে বেঁচে যান তারা। অতিরিক্ত ড্রাফটের (ধারণক্ষমতার বেশি বোঝাই) কারণে ফাটল ধরে পানি ঢুকে ধীরে ধীরে ডুবতে থাকে কার্গোটি। ডুবে যাওয়া জাহাজটি হতে সাথে সাথেই কয়লা অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এদিকে কার্গোটি বন্দরের মুল চ্যানেলের (পশুর নদীর) অনেক বাহিরে চরে ডুবায় চ্যানেল নিরাপদ ও দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং সকল ধরণের নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

ডুবন্ত কার্গো জাহাজের মাস্টার কাজী কামরুল ইসলাম জানান, মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়ীয়ার ৬নম্বর এ্যাংকোরেজে থাকা মার্শাল আইল্যান্ড পতাকাবাহী বিদেশী জাহাজ এম,ভি প্যারাস থেকে কয়লা বোঝাই করে কার্গো জাহাজটি। পরে যশোরের নওয়পাড়ার একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথিমধ্যে পশুর নদীর বানীশান্তা নোঙ্গরে

অবস্থানরত কার্গোটি অতিরিক্ত বোঝাইয়ের ফলে তলা ফেটে পানি উঠে একদিকে কাত হয়ে যায়। এরপর পানি উঠতে থাকলে দ্রুত জাহাজটি চালিয়ে বানীশান্তা নোঙ্গর থেকে ছেড়ে চরকানা চরে উঠিয়ে দেয়া হয়। চরে উঠিয়ে দেয়ার পরও সেখানে ধীরে ধীরে ডুবে যায় জাহাজটি। এ সময় জাহাজে থাকা ১১স্টাফ-কর্মচারী দ্রুত সাঁতরিয়ে কুলে উঠে প্রাণে বেচে যান। এর পরপরই ডুবে যাওয়া এম,ভি ইশরা মাহমুদ কার্গো জাহাজ থেকে কয়লা অপসারণ করে পাশের একটি বার্জে (নৌযান) সরিয়ে নিচ্ছেন মালিকপক্ষ। মাস্টার কামরুল বলেন, শুক্রবার রাতে বিদেশী জাহাজ থেকে কয়লা বোঝাই করে কার্গোটি রাতেই বানীশান্তা নোঙ্গরে রাখা হয়। মুলত অতিরিক্ত ড্রাফটের (ধারণক্ষমতারিক্ত) বোঝাইয়ের কারণে শনিবার বেলা ১১টার দিকে তলা ফেটে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে দাবী করেন তিনি। তবে কি পরিমাণ কয়লা বোঝাই ছিলো সে সম্পর্কে মাস্টার কামরুল আরো বলেন, কয়লা বোঝাইয়ের বিদেশী জাহাজের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদলের বোট নোট পাইনি এখনও। তাই কি পরিমাণ কয়লা বোঝাই হয়েছিলো তা সঠিক বলতে পারছিনা। তবে এ জাহাজের ধারণক্ষমতা ১হাজার মেট্টিক টন। ধারণা করা হচ্ছে ৯শ থেকে সাড়ে ৯শ কিংবা তার চেয়ে কম-বেশি লোড হয়ে থাকতে পারে। তবে অতিরিক্ত লোড/ড্রাফট হয়েছিলে বলে মনে হচ্ছে বলে দাবী তার।

 

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ) মোঃ মাকরুজ্জামান বলেন, কয়লা নিয়ে কার্গো জাহাজটি পশুর নদীর চরে ডুবে যাওয়ায় বন্দরের মুল চ্যানেল নিরাপদ ও সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। এ দুর্ঘটনার পরও পশুর চ্যানেলে দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিকসহ সকল ধরণের নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

কয়লা নিয়ে জাহাজ ডুবির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ‘সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, কয়লা একটি দার্হ্যপদার্থ জাতীয় বিষাক্ত পণ্য। এ কয়লা জোয়ার-ভাটায় নদীর পানিতে ছড়িয়ে পড়ে জলজপ্রাণীর মারাত্মক ক্ষতি হবে। তাই দ্রুত এ কয়লা অপসারণ করাসহ কয়লাবাহী জাহাজের চালকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

 

উল্লেখ্য, এর আগে একই জায়গায় গত বছরের ১৭নভেম্বর ৮শ মেট্টিক টন কয়লা নিয়ে তলা ফেটে ডুবে ছিলো এম,ভি প্রিন্স অব ঘাষিয়াখালী-০১।

 

 

 

 

 

১০০ রকমের পিঠা নিয়ে বসন্ত বরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি

১০০ রকমের পিঠা নিয়ে ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গার আয়োজনে আয়োজন করা হয়েছে বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের।

 

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম. মোফাজ্জল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন।

 

 

পিঠা উৎসব উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের স্টলগুলো বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে বাড়ি থেকে গ্রাম বাংলার নানা ধরনের পিঠা পুলি তৈরি করে নিয়ে এসেছে। সুজি, পাকান, পুলি, হাড়ি, চিতই, ডিম, মোয়া, ভাঁপা, চালের আটার রুটি, হাঁসের মাংসসহ ১০০ রকমের পিঠা বিক্রি হচ্ছে স্টলগুলোতে। দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন পিঠার আকার ও স্বাদ বেশ ভালো।

 

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, নিজ হাতে রাত জেগে পিঠা-পুলি,পায়েস তৈরি করে নিয়ে এসেছি। নিজেরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে পিঠা তৈরি করে নিয়ে এসেছি। সবাইকে পিঠা খাওয়াতে পেরে আমরা খুশি। উৎসব ও আয়োজনে কোনো কমতি নেই। শিক্ষকরাও সহযোগিতা করছেন।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন জানান, প্রতি বছর পিঠা উৎসব আয়োজন করা হয়। এতে থাকে নানা রকমের পিঠা। তবে এবার বসন্তবরণ ও পিঠা উৎসব একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিবারের সহযোগিতায় এ পিঠা তৈরি করে নিয়ে আসে।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ক্যাম্পাস জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আয়োজনে কোনো কমতি আমরা রাখিনি। বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ।

 

 

প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি বলেন, আমাদের আজকালের মেয়েরা গ্রাম বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য পিঠা পুলি বানাতে ভুলে গেছে। পিঠা খেতে ইচ্ছা করলে বাজর থেকে কিনে এনে খায়। এখান থেকে আমাদের ভার্সিটির মেয়ের বের করে আনার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। পিঠার স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখলাম খুব ভাল লাগলো মেয়েদের নিজেদের বানানো পিঠা দেখে।

 

 

পিঠার স্টলগুলো ঘুরে দেখার সময় প্রধান অতিথি প্রতিটি স্টল থেকে ১০০০ টাকার পিঠা কিনেন।

 

 

বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসব উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

নতুন ভবন চালু হলে রোগীর চাপ সামলাতে কষ্ট হবে না: মাশরাফি

নড়াইল প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদের হুইপ ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, চিকিৎসা খাতে জনবল সংকট রয়েছে এটা যেমন সত্য, পাশাপাশি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে সংকট কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব। হাসপাতালে বেডের সংখ্যা ১০০ হলেও রোগী আছেন তিন শতাধিক। জুনে নির্মাণাধীন নতুন ভবনটি হস্তান্তরের কথা আছে। সেটি চালু হলেও ২৫০ বেডে উন্নীত হবেঅ। তখন আর রোগীর চাপ সামলাতে বর্তমানের মতো কষ্ট হবে না। সেটি যথেষ্ট না হলেও সমস্যা কিছুটা লাঘব হবে।

 

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নড়াইল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশের বিষয়ে মাশরাফি বলেন, হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিবেশ শুধু চিকিৎসক ও স্টাফদের ওপর ছেড়ে দিলেই ঠিক থাকে না। হাসপাতালে যারা আসেন তারা নিজের বাড়ি ও নিজস্ব সম্পদ মনে করে ব্যবহার করলে এসব সংকট অনেকাংশেই দূর হবে।

এসময় রোগীদের ওষুধসহ মৌলিক যেসব সমস্যা আছে তা সমাধানে গুরুত্ব সহকারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

 

শর্ত-নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে আটকে আছে খাদ্যদ্রব্য আমদানি

বেনাপোল (যশোর) উপজেলা প্রতিনিধি

রমজানকে কেন্দ্র করে শুল্ক কমানোর ঘোষণার পরও নানা জটিলতায় আটকে আছে ভারত থেকে খাদ্যদ্রব্য আমদানি। দীর্ঘদিন ধরে ভারত অংশে খাদ্যদ্রব্যের ওপর নানা শর্ত ও নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারছেন না আমদানিকারকরা।

 

ভারতের কঠিন শর্তে চলতি অর্থ বছরের ৬ মাস ও তার আগের অর্থ বছরের একই সময়ের ৬ মাসের তুলনায় আমদানি কমেছে এক লাখ ৬১ হাজার ১০৪ মেট্রিক টন। তবে বাণিজ্যিক সংশ্লিষ্টরা আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আমদানি সহজ হলে নিত্যপণ্যের দাম অনেকটা কমে আসবে।

বাণিজ্যিক সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক মন্দা ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে প্রতিদিন লাগামহীনভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। আর এ অবস্থায় আগামী মাসে শুরু হচ্ছে মাহে রমজান। তবে এ সময় নিম্নআয়ের মানুষ যাতে কম মূল্যে প্রয়োজনীয় কিনতে পারেন এ জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

 

চাল, পেঁয়াজ, চিনির ওপর থেকে আমদানি শুল্ক কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। খেজুর, পরিশোধিত ও অপরিশোধিত চিনি, চাল ও ভোজ্যতেলের আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। এতে খেজুরের আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ শতাংশ; যা আগে ছিল ২৫ শতাংশ। অপরিশোধিত প্রতি টন চিনির ওপরে এতদিন আমদানি শুল্ক ছিল তিন হাজার টাকা। সেটি কমিয়ে এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া চালের ওপর আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ শতাংশ; যা এতদিন ছিল ২৫ শতাংশ। আর পাম অয়েলের আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ছিল ১৫ শতাংশ, সেটি কমিয়ে পাঁচ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের জন্য প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন ভোজ্য তেল, দুই লাখ মেট্রিক টন চিনি এবং এক লাখ মেট্রিক টন ছোলার চাহিদা রয়েছে। এদিকে সরকারি নির্দেশনা এখনও পর্যন্ত বাণিজ্যিক সব ব্যাংকগুলোতে না আসায় অনেক আমদানিকারকরা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

খাদ্যদ্রব্য আমদানিকারক উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস জানান, আমরা চাহিদামতো খাদ্যদ্রব্য আমদানি করতে না পারায় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আমদানি স্বাভাবিক হলে এ সংকট কাটবে।

 

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, দ্রব্যমূল্যের বাজার স্বাভাবিক করতে আমদানি বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা কাটাতে সরকারকে দ্রুত ভূমিকা নিতে হবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুলতান মাহামুদ বিপুল জানান, ভারতের সঙ্গে বছরে ১৪ লাখ বিলিয়ন ডলারের আমদানি ও দুই লাখ বিলিয়ন ডলারের রফতানি বাণিজ্য হয়। ভারত পাশে থাকলে দেশে খাদ্যদ্রব্যের যে কোনো সংকট কাটানো সহজ হবে।

 

বেনাপোল আমদানি রপ্তানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, ২০২২ সালের ২০ জুলাই দেশের বাইরে সিদ্ধ ও আতপ চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। একই বছরের ১৩ মে থেকে দেশটি গমের এলসি নিচ্ছে না। গত বছরের ১৯ আগস্ট পেঁয়াজ রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং রপ্তানি মূল্য ১৫০-৮৫০ ডলারে বৃদ্ধি করায় সেই থেকে পেঁয়াজের স্বাভাবিক আমদানি বন্ধ রয়েছে।

 

২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনারি মিলস অ্যাসোসিয়েশনের একটি অভিযোগ দায়েরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে চিনি আমদানি বন্ধ রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা আমদানির সুযোগ পেলে এসব পণ্যের দাম কমবে বাজারে।

 

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, বাণিজ্যিক সব ব্যাংকগুলোতে নিত্যপণ্য আমদানিতে সরকারের নির্দেশনা না পৌঁছানোয় ব্যবসায়ীরা সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন।

 

বেনাপোল বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার সরকার জানান, অনেক দিন ধরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে চাল, চিনি, রসুন, আলু ও পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ আছে।

 

 

ব্যবসায়ীকে মারপিট করে ১৬০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে মারপিট করে ১৬০ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলা সদরের সেরেস্তাদারবাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে থাকা স্বর্ণ, নগদ আড়াই লাখ টাকা ও মোটরসাইকেল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার ১৩ ঘণ্টা পর শনিবার সকালে উপজেলা সদরের কুঠিবাড়ি এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক বা ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার করা যায়নি।

 

 

জুয়েলারি ব্যবসায়ী মিলন কর্মকার জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাত ৯টার দিকে জুয়েলারি দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে সেরেস্তাদারবাড়ি এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে ছিনতাইকারীরা আমাকে মারপিট করে। এসময় আমার সঙ্গে ৩টি ব্যাগে রাখা ১৬০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ আড়াই লাখ টাকা ও মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়।

 

ছিনতাইয়ের ঘটনার পর থানা পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুদ্দিন জানান, জুয়েলারি ব্যবসায়ীর ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি উপজেলা সদরের কুঠিবাড়ি এলাকায় পানগুছি নদীর চর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

 

 

ইউরোপ যাচ্ছে বাগেরহাটের কাঠের সাইকেল

রিফাত আল মাহমুদ, বাগেরহাট।।

 

বাগেরহাটে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব কাঠের বেবি ব্যালান্স সাইকেল। চাকা থেকে শুরু করে এর পুরো কাঠামোই তৈরি কাঠ দিয়ে। এসব সাইকেল বাংলাদেশের কোনো বাজারে বিক্রি না হলেও সরাসরি যাচ্ছে ইউরোপের বাজারে। এগুলোকে দেখে অবিকল খেলনা বলে মনে হলেও পরিবেশবান্ধব এ ‘বেবি ব্যালেন্স’ ইউরোপে ব্যবহার হচ্ছে দৈনন্দিনের যাতায়াতের বাহন হিসেবে।

 

কাঠ দিয়ে নিপুন হাতে বেবি ব্যালেন্স সাইকেলটি তৈরি করছেন বাগেরহাটে। স্থানীয় ৪০-৫০ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক মিলে প্রতিদিন তৈরি করেন অন্তত ৩০টি সাইকেল। কাঠের তৈরি সাইকেল যা চলে য়ায় যাচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন বাজার ও কর্মসংস্থান আসছে বৈদেশিক মুদ্রা।

 

বাগেরহাট বিসিক শিল্প নগরীর ন্যাচারাল ফাইবার নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই সাইকেল তৈরি ও রফতানি করে। শুধু এই সাইকেল নয়, কাঠ দিয়ে তারা তৈরি করছে সান বেড, হোটেল বেড ও কুকুর বিড়ালের খেলনাসহ পরিবেশবান্ধব আরো বেশকিছু আকর্ষণীয় ফার্নিচার। যার চাহিদা তৈরি হয়েছে বিশ্ববাজারে। প্রথমবারের মতো নিজ দেশের পণ্য ইউরোপের বাজারে রফতানি করতে পেরে খুশি শ্রমিকরা। এদিকে দেশীয় পণ্যের বিদেশের বাজারে রফতানি করতে ইচ্ছুক উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে চায় বিসিক কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

 

 

কাঠ দিয়ে সাইকেল তৈরি কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, কেউ তৈরি করছেন ফ্রেম, কেউ চাকা, কেউ আবার হ্যান্ডেল। এভাবেই তৈরি হচ্ছে কাঠের সাইকেল। সবশেষে শ্রমিকদের নিপুন হাতে কাঠের সাইকেলে দেওয়া হয় রং। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা কাঠ দিয়ে গত ছয়মাস ধরে তৈরি করা হচ্ছে এসব সাইকেল। এই কাজে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় অর্ধশত শ্রমিক। প্রতিদিন এই কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে প্রায় ৪০টি সাইকেল। যার মূল ক্রেতা গ্রীসের বিখ্যাত কোকো মেট কোম্পানি।

 

কারখানায় সুপার ভাইজান আব্বাস বলেন, আকাশমণি, মেহগনি ও গামারিসহ বিভিন্ন ভালো মানের কাঠ দিয়ে বিদেশি শিশুদের জন্য বেবি ব্যালেন্স সাইকেল তৈরি করি। এই সাইকেল তৈরি করতে দেড় থেকে দুইদিন লেগে যায়। সাইকেলটি তৈরি করতে ১১টি পার্টের প্রয়োজন হয়। কারখানার বিভিন্ন স্থানে পার্টগুলো তৈরি করা হয়। নির্দিষ্ট একটি স্থানে পার্টগুলোকে একত্রে করে একটি সাইকেলে রুপান্তরিত করা হয়। পরে রং করে বিদেশি শিশুদের জন্য তৈরি হয় বেবি ব্যালেন্স সাইকেল।

 

 

 

 

কারখানায় নারী শ্রমিক রুপা সেন বলেন, আমাদের হাতে তৈরি করা সাইকেল বিদেশে যায়, এটাই আমাদের অনেক খুশি। এই কারখানায় কাজ করে যে, বেতন পাই তাতে আমার সংসার এবং ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া খরচ চলে।

 

রংমিস্ত্রি মামুন শেখ বলেন, কারখানায় প্রতিদিন তৈরি করা হচ্ছে প্রায় ৩০টি সাইকেল। কাঠের সাইকেল তৈরির কাজগুলো করে আনন্দিত আমি। ভাবতেই অবাক লাগে আমার হাতের রঙের ছোঁয়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। আমাদের দেশে যদি এসব কাজের সুযোগ আরো বৃদ্ধি পায় তাহলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

 

 

ন্যাচারাল ফাইবার প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক মুজাহিদ আহম্মেদ বলেন, আমরা সাধারণতো নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে পণ্য তৈরি করতাম। অতি সম্প্রতি ইউরোপের কাস্টমার পেয়েছি, যারা পরিবেশবান্ধব পণ্য বাজারজাত করতে আগ্রহী। যারা কাঠের কিছু প্রোডাক্ট নিতে চায়, তাদের কাছ থেকে কাঠের বেবি ব্যালেন্স সাইকেল অর্ডার পাই। তারা ৪০ হাজার পিস অর্ডার দিলে আমরা ২০ হাজার পিস এক্সপোর্ট করেছি। আরো ২০ হাজার পিস খুব দ্রুত পাঠানো হবে।

 

 

 

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের বাগেরহাটের প্রমোশন অফিসে শরিফ সরদার বলেন, বিসিক শিল্প নগরীতে মুস্তাফিজুর রহমান সবসময়ই ইউনিক আইডিয়ায় কাজ করেন। বর্তমানে কাঠের সাইকেল তৈরি করে ইউরোপে রফতানি করছে। এর মাধ্যমে যে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে সেটা নয়, স্থানীয়ভাবে অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করছে। আমরা সব সময় উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে যাচ্ছি। এ ধরনের পণ্য বিদেশে গেলে আমাদের দেশের সুনাম বাড়ে। দেশীয় পণ্য বিদেশের বাজারে রফতানি করতে ইচ্ছুক উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

 

৬৪ জেলার পত্রিকাই সংগ্রহে রেখেছেন লুৎফর

স্টাফ রিপোর্টার।।

 

টেবিলে থরে থরে সাজানো হরেক রকম দৈনিক পত্রিকা। কোনোটি সাদাকালো, কোনোটি রঙিন। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের সব জেলা থেকে প্রকাশিত এক হাজারেরও বেশি পত্রিকা সংগ্রহে রয়েছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার লুৎফর রহমান লাল্টুর কাছে।

 

যশোরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা লুৎফর দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সংগ্রহ করছেন এসব পত্রিকা।

 

খুলনা থেকে নিয়মিত বাসে যাতায়াত করে যশোরের কর্মস্থলে যাওয়া হয় তার। বাসে প্রায়ই হকার নানা রকম সংবাদের শিরোনাম বলে পত্রিকা বিক্রি করেন। এই দৃশ্য দেখতে দেখতে লুৎফর রহমানের শখ জাগে পত্রিকা সংগ্রহের।

 

 

 

২০১৪ সাল থেকে তিনি এই পত্রিকা সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। প্রথমে স্থানীয় পত্রিকা পরে জাতীয় পত্রিকা সংগ্রহ করেন। এরপর সারাদেশ থেকে পত্রিকা সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। পুরোনো পত্রিকাও সংগ্রহ করতে থাকেন। এভাবে এখন দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রকাশিত এক হাজারেরও বেশি পত্রিকা আছে তার সংগ্রহে।

 

আধুনিক যুগে খবর যখন মোবাইলে বন্দী, মানুষ যখন ভুলতে বসেছে ছাপা কাগজের পত্রিকার কথা, তখন নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সাক্ষী করতে লুৎফর রহমানের এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

লুৎফর রহমান বলেন, ‘একটা সময় পত্রিকা ছিল জ্ঞান অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে পত্রিকা পড়তো। এখন তো সবাই মোবাইলেই খবর দেখে নেয়। নতুন প্রজন্মকে তা জানানোর জন্যই আমার এ উদ্যোগ।’

 

শুধু রাজধানী থেকে নয়, সারাদেশ থেকেই হরেক রকম পত্রিকা প্রকাশ হয়। এক অঞ্চলের মানুষের অন্য অঞ্চলের পত্রিকা সম্পর্কে খুব একটা ধারণা নেই। একেক অঞ্চলের সংস্কৃতি মিশে থাকে এসব পত্রিকায়। তাই সব অঞ্চলের সব পত্রিকাও সংগ্রহ শুরু করেন তিনি।

 

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কত ধরনের খবর থাকে পত্রিকায়, একেক অঞ্চলের পত্রিকা একেকভাবে তাদের পত্রিকার শিরোনাম তৈরি করে। বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক সংস্কৃতিও উঠে আসে ওইসব আঞ্চলিক পত্রিকার মাধ্যমে। সব আঞ্চলের এসব বিষয় দেখার ও দেখানোর আগ্রহ থেকেই আমি সারাদেশ থেকে পত্রিকা সংগ্রহ শুরু করি। বিভিন্ন জেলা থেকে পরিচিত মানুষ আমার কাছে পত্রিকা পাঠিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

 

মাঝে মধ্যেই এসব পত্রিকা প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা করেন তিনি। এই সংগ্রহ আরও বাড়িয়ে বৃহৎ পরিসরে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

 

ভৈরব সেতু নির্মাণ: তিন বছরে অগ্রগতি শুধু ৯টি পিলার

স্টাফ রিপোর্টার।।

 

খুলনার ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু করোনা মহামারি এবং জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতায় কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এর পরও কাজ শেষ হয়নি। সেতু নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ তৃতীয় দফায় আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ফলে সেতুর জন্য খুলনাবাসীকে অন্তত আরও আড়াই বছর অপেক্ষা করতে হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সেতুর মোট দৈর্ঘ্য হবে ১ দশমিক ৩১৬ কিলোমিটার। ২০২০ সালের ২৭ জুলাই প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এর পর ২০২১ সালের ২৪ মে টেস্ট পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব সেতুর পিলার বসবে মোট ৩০টি। এর মধ্যে শহরাংশে কুলিবাগান থেকে রেলিগেট ভৈরব নদের তীর পর্যন্ত ১ থেকে ১৪ নম্বর পিলার এবং সেতুর দিঘলিয়া প্রান্তে ১৭ থেকে ২৮ নম্বর পিলার বসবে। সেতুর রেলিগেট প্রান্তে নদের পাড় থেকে ৪২ মিটার ভেতরে ১৫ নম্বর এবং দিঘলিয়া প্রান্তে নদের পাড় থেকে ১৮ মিটার ভেতরে ১৬ নম্বর পিলার বসবে। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ৯টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। দিঘলিয়া প্রান্তে কাজ চলমান থাকলেও অপর প্রান্ত রেলিগেট থেকে দৌলতপুর মুহসিন মোড় পর্যন্ত সেতুর শহরাংশে নির্মাণকাজ থমকে রয়েছে। এ প্রান্তে সেতু নির্মাণের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা অধিগ্রহণ করা হলেও স্থাপনা সরানো হয়নি। এখনও জায়গা বুঝে পায়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজে ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বলছেন, নদ পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক এস এম নাজমুল জানান, সেতুর দিঘলিয়া প্রান্তে ১৩টি পিলারের মধ্যে সাতটির কলাম ঢালাই ও ৯টির পাইল ক্যাপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সেতুর শহরাংশে জায়গা বুঝে না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

 

 

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, সেতুর শহরাংশে অধিগ্রহণ করা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর থেকে স্থাপনা অপসারণের দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। আর রেলওয়ের জায়গা লিজ নেওয়া ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণের ৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা অনুমোদনের জন্য আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে রেলের জায়গাও দ্রুত সময়ের মধ্যে পেয়ে যাব। তিনি আরও বলেন, সেতু নির্মাণকাজে ধীরগতির জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেরও গাফিলতি রয়েছে। কাজের গতি বাড়াতে তাদের সতর্কীকরণ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়াতে ঢাকায় প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এখনও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়নি।

 

দাকোপের হাট বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি

বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের আশে পাশের বিভিন্ন নদ-নদীতে অবাধে ধরা হচ্ছে নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ। এ মাছ আবার সুন্দরবনের উপকূলিয় অন্যান্য অঞ্চলের মতো খুলনার দাকোপের বিভিন্ন হাট বাজারেও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে এই মাছ শিকার ও বিক্রি  নিষিদ্ধ তা জানেন না বলে দাবী করেছেন বিক্রেতারা। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বনবিভাগের কতিপয় কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অসাধু জেলেরা এ মাছ শিকার করে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে শাপলাপাতা মাছ শিকার ও বিক্রি নিষিদ্ধ শুধু কাগজ কলমে সীমাবদ্ধ থাকছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মাছটির আকৃতি শাপলা পাতার মতো হওয়ায় এটি শাপলা পাতা মাছ নামে পরিচিত। এছাড়া শাপলাপাতা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম ষ্টিংরে ফিস। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) শাপলাপাতা মাছকে প্রায় বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অন্তরর্ভূক্ত করেছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ প্রজাতির শাপলাপাতা থাকলেও বাংলাদেশে ৫৬ প্রজাতির শাপলাপাতা মাছ পাওয়া যায়। এই মাছ প্রজাতি ভেদে ৮০০ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে। ২০১২ সালের বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী এই মাছ শিকার ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বনবিভাগের কতিপয় কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বঙ্গোপসাগরের মোহনা ও সুন্দরবনের আশে পাশের বিভিন্ন নদ-নদীতে অসাধু জেলেরা ছোট বড় এ মাছ বরশি দিয়ে শিকার করছেন। এছাড়া শাপলাপাতা মাছ সাগরের গভীরে বিচরণ করলেও বংশ বিস্তারের সময় মাছগুলো তীরের কাছাকাছি আসে। আর আটকে পড়ে জেলেদের জালে। এ মাছ আবার সুন্দরবনের উপকূলিয় অন্যান্য অঞ্চলের মতো দাকোপ উপজেলা সদর চালনা বৌমার গাছতলা মাছ বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। সমুদ্রবেষ্টিত অঞ্চলের মানুষের কাছে এই শাপলাপাতা মাছ খুবই সুস্বাদু ও জনপ্রিয়। এছাড়া প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ হওয়ায় বাজারে মাছটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে ক্রেতারাও খুচরা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে ক্রয়ে করছেন। স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও বনবিভাগের নিরব ভূমিকায় শিকার নিষিদ্ধ এ মাছের অবাধ বাজারজাত দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে সমুদ্রের জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ শিকার চলতে থাকলে এক সময় এ মাছ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বিরাজমান।

চালনা বৌমার গাছতলা মাছ বাজারের ব্যবসায়ী মাজেদুল ইসলাম শেখ জানান, খুলনার মাছের আড়ৎ থেকে ৫০০ কেজি পাইকারি দরে শাপলাপাতা মাছ কিনে এনে ৬০০ টাকা কেজি খুচরা বিক্রি করছেন। তবে এই মাছ ধরা বা বিক্রি নিষিদ্ধ তা তিনি জানেন না।

উপজেলার শ্রীনগর নব জাগ্রত যুব সংঘের সভাপতি সমাজসেবক প্রসেনজিৎ রায় বলেন, বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের আশে পাশের নদ-নদীতে দিনের পর দিন এভাবে নিধন চলতে থাকলে এক সময় এই শাপলাপাতা মাছ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বনবিভাগের কতিপয় কর্মকর্তাদের সহযোগিতার কারণেই এ মাছ শিকার বন্ধ হচ্ছে না। জীববৈচিত্র রক্ষায় মারাত্মক ভুমিকা রাখা এই মাছের নিধন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল জানান, শাপলাপাতা মাছ একটি জন সম্পদ। এই জন সম্পদ সংরক্ষণের দায়িত্ব সকলেরই। জীববৈচিত্র রক্ষায় এই মাছ সংরক্ষনের প্রয়োজন।

এ বিষয়ে খুলনাঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো বলেন, শাপলাপাতা মাছ সারাদেশেই শিকার নিষিদ্ধ। এবিষয়ে প্রচার প্রচারণা করে জন সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া শাপলাপাতা মাছ শিকার বন্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। আর যে সব বন কর্মকর্তা এ কাজে সহযোগিতা করেন খোঁজ খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

চালনা পৌরসভা হোমিও পরিষদর ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন

দাকোপ প্রতিনিধি

চালনা পৌরসভা হোমিও পরিষদর ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার বিকাল ৫টায় চালনা বাজারস্থ সুফিয়া হোমিও হলে ডাঃ সরোয়ার জ্জামানের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে ডাঃ নিতাই চন্দ্র মন্ডলকে সভাপতি, ডাঃ সরোয়ার জ্জামাল, ডাঃ বিজন রায়কে সহ-সভাপতি, ডাঃ নিক্সন মন্ডলকে সাধারণ সম্পাদক, ডাঃ কৃষপদ মন্ডলকে সহ-সাধারণ সম্পাদক, ডাঃ আদিত্য রায়কে দপ্তর সম্পাদক, ডাঃ মৃন্ময় মোহন দাশকে প্রচার সম্পাদক এবং ডাঃ শেখর রায়কে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট চালনা পৌসভা হোমিও পরিষদ কমিটি গঠন করা হয়।

 

 

ফকিরহাটে তপন স্মৃতি ৪দলীয় ফুটবল টুর্ণামেন্ট খেলার উদ্ভোধন ও পুরস্কার বিতরনী

ফকিরহাট প্রতিনিধি।

বাগেরহাটের ফকিরহাটে চতুর্থ তপন স্মৃতি চার দলীয় ফুটবল টুর্ণামেন্ট খেলার শুভ উদ্ভোধন ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) দিনব্যাপী বেতাগা ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেসার্স বেতাগা ট্রের্ডাস এর আয়োজনে এ খেলার শুভ উদ্ভোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি স্বপন দাশ। জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় হৃষিকেশ কুমার দাশ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত সির্ভিল সার্জন জীবন কৃষ্ণ দাশ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ক্রীড়া সাংস্থার সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আলতাপ হোসেন টিপু, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মুস্তাহীদ সুজা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তহুরা খানম। মোঃ নাজমুল হুদার সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তৃতা করেন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস আলী শেখ, খুবির সিনেট সদস্য আহম্মেদুল কবির চায়নিস, মের্সাস বেতাগা ট্রের্ডাস এর পরিচালক আনন্দ কুমার দাশ ও বিসমিল্লাহ ফিস মিলস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান মনি। ফাইনাল খেলায় ফকিরহাট বিসমিল্লাহ ফিড মিলস লিমিটেড-৪-২ গোলে কাজদিয়া মুনসুর স্মৃতি স্পটিং ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। রার্নাস আপ হয়েছে কাজদিয়া মুনসুর স্মৃতি স্পটিং ক্লাব। খেলা পরিচালনা করেন আজমল হোসেন, আঃ রহমান ঢালী, নাজমুল হোসেন ও পারভেজ আলম। ধারাভাষ্য প্রদান করেন, মোঃ আবুল হাসানাত রিপন ও আব্দুল জলিল। খেলায় আফ্রিকা ও নাইজেরিয়া সহ জাতীয় দলের বিভিন্ন খেলোয়াড়রা অংশ গ্রহন করেন।

 

 

 ফকিরহাটে ২৪কেজি গাঁজা ও ৩৬০ পিস ইয়াবাসহ চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফকিরহাট প্রতিনিধি।

বাগেরহাটের ফকিরহাটে ২৪ কেজি গাঁজা ও ৩৬০ পিস ইয়াবাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছেন মডেল থানা পুলিশ। শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) ভোর রাতে উপজেলার ফকিরহাট সদর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে মদকসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, সদর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের লেগীর পুকুরের পাশে মৃত হামিজ উদ্দিন গাজীর ছেলে ইব্রাহিম গাজীর বাসা ভাড়া নিয়ে মাদক কারবারী করছিলেন গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোর রাতে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. আশরাফুল আলম এর নেতৃত্বে এসআই ওহিদুজ্জামান, এসআই অনুপ রায়, এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে মাদক উদ্ধার ও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন খুলনার রূপসা থানার রামনগর গ্রামের জালাল মোল্লার ছেলে সাজ্জাদ মোল্লা (৩৫), কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার জগরখালী গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে আলী আলম (২৮), যশোর জেলার কোতোয়ালি সদর থানার মোড়ালী মোড় এলাকার সোহরাব এর ছেলে সাগর (২৮), ও বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার উওরপাড়া গ্রামের গাজী রজব আলীর ছেলে গাজী বদরুল ( ৫০)। এসময় পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের ভাড়া কক্ষে ২৪ কেজি গাঁজা, ৩৬০ পিস ইয়াবা ও ক্রয় বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি মটর সাইকেল জব্দ করেন। ##

 

 

ইন্দুরকানীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রের মৃত্যু

ইন্দুরকানী(পিরোজপুর) সংবাদদাতা ঃ

ইন্দুরকানীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার পশ্চিম চরবলেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে । নিহত হান্নান উত্তর কলারন দাখিল মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেনী ছাত্র।  চরবলেশ্বর গ্রামের মোহাম্মদ আবু তালেবের ছেলে মোঃ হান্নান ফকির সকালে তাদের বোরো ধানে জগ মটার দিয়ে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুস্পৃষ্টে  হয় । এসময় স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্ত্যবরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন । । তিনি বাবার কৃষি কাজে সাহায্যে করার জন্য প্রায় সহযোগীতা করেন। মোঃ হান্নান তার বাবার একমাত্র ভরসা

 

 

মহেশপুরে কৃষি ফার্মের জমি দখল করে ইউপি সদস্যের দোকান নির্মান

মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর বাজারে দত্তনগর কৃষি ফার্মের জমি দখল করে পাকা দোকান ঘর নির্মান করার অভিযোগ উঠেছে স্বরুপপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে।

এশিয়ার বৃহত্তম দত্তনগর কৃষি ফার্মের আওতায় রয়েছে গোকুলনগর,পাথিলা,করিঞ্চা ও কুশাডাঙ্গা ফার্ম। কৃষি ফার্ম গুলোর মোট জমির পরিমান ২ হাজার ৭৩৭ একর। এর মধ্যে আবাদি জমি পরিমান রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার একর। নিচু জমির পরিমান রয়েছে ৬শ’ একর। বিল এলাকায় রয়েছে ২শ’ একরের উপরে। এখানে অফিস,বাস ভবনসহ একটি বড় বাজার রয়েছে যার নাম দত্তনগর বাজার।  এ বাজার টা মুলত দত্তনগর কৃষি ফার্মের জমির উপর। এ বাজারের জমি গুলো বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার, ইউপি চেয়ারম্যান, ক্ষমতাসীন ইউপি সদস্যরা জোর পুর্বক দখল করে মার্কেট বা দোকান ঘর নির্মান করে আসছে। সে কারনে দিন দিন দত্তনগর কৃষি ফার্মের জমি গুলো বেদখল হয়ে যাচ্ছে।

এর মধ্যে স্বরুপপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য নিজ ক্ষমতা বলে দত্তনগর কৃষি ফার্মের জমি দখল করে দু’টি পাকা দোকান ঘর নির্মান করছেন। যা দেখার বা বাধা দেওয়ার কেউ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের কয়েক জন দোকানদার জানান, আমাদের বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম ও এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কৃষি ফার্মের জমি দখল করে দোকান নির্মান করার পর তা অন্যের কাছে ভাড়া দিয়ে আসছেন বেশ কিছু দিন ধরেই।

স্বরুপপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম জানান, আমি ঘর নির্মান কাজে ব্যস্ত আছি আপনার সাথে পরে কথা বলবো।

স্বরুপপুর ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা নিকুঞ্জ কুমার জানান, দোকার ঘর দু’টি যেখানে নির্মান হচ্ছে সে স্থানটি পান্তাপাড়া ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে। তাই আমার কিছুই করার নেই।

 

 

 

তেলিগাতির বুচিতলা নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার বদরী সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়

খবর বিজ্ঞপ্তি

আড়ংঘাটা থানাধীন তেলিগাতির বুচিতলা  নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার পঞ্চম  বদরী সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল শনিবার দুপুরে  মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম কামাল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন মোঃ আব্দুল হামিদ। প্রধান আলোচক ছিলেন ফুলবাড়ী গেট বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব   মুফতি হুমায়ুন কবির হোসাইনী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন  মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংসদ সদস্য এস এম কামাল হোসেন মাদ্রাসা মসজিদের আলেমদের উদ্দেশ্যে বলেন, এ সমাজের অনিয়ম দুর্নীতি ও খারাপ কাজের বিরুদ্ধে আপনাদের  ভূমিকা অপরিহার্য। আপনারাই পারেন এই সমাজের চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সকলকে সচেতন করতে। আমরা এ দেশের মানুষের জন্য ভালো কাজ করতে চাই। এদেশের মানুষকে শান্তিতে বসবাস করার জায়গা করে দিতে চাই। তাই আপনাদের সকল রাজনীতির উর্ধ্বে থেকে সাদা কে সাদা আর কালো কে কালো বলতে হবে।  মসজিদ, মাদ্রাসা ও মাহফিলে আপনাদের বয়ানের মাধ্যমে যুব সমাজকে সচেতন করে সকল অপকর্মকে প্রতিরোধ করতে হবে। সচেতনতার মাধ্যমে সমাজ থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চাঁদাবাজ ও কিশোর সন্ত্রাস  প্রতিহত করা সম্ভব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন  মহানগর আওয়ামী লীগের  সহ-সভাপতি বেগ লিয়াকত আলী, চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান লিংকন,     ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহাদাত হোসেন মিনা, ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ মনিরুজ্জামান মুকুল, ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাস্টার আব্দুস সালাম, ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আছিফুর রশিদ আছিফ, জিএম এনামুল কবির, কাজী শহিদুল ইসলাম পিটু, কাজী জাকারিয়া রিপন, হাবিবুর রহমান মোড়ল, হাফিজুর রহমান, শেখ নজরুল ইসলাম নুরু, কাজী আবুল কালাম আজাদ, জাকির হোসেন, শেখ আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ শিমুল, হাজী আব্দুর  রহমান মনির, মোঃ  ফয়জুল হোসেন  সহ মাদ্রাসার সকল শিক্ষকমন্ডলী, শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

দফায় দফায় হামলা চালিয়ে জমি দখল, বাড়িঘর ভাংচুর: তালায় কাটাতারের বেড়া দিয়ে মসজিদের বাথরুমসহ রাস্তা বন্ধ

ইলিয়াস হোসেন, তালা(সাতক্ষীরা)::

তালার গঙ্গারামপুর গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় তান্ডব চালিয়েছে দূর্বৃত্তরা। পরপর দু’দিনের তান্ডবে ঘর-বাড়ি সহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। একই সাথে ধারালো অস্ত্রের মুখে জমি মালিক মকছেদ শেখ ও তার পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে পুরো জমি জোরদখল করে চারপাশে কাটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে। জরদখল ও ঘেরা বেড়া থেকে বাদ যায়নি স্থানীয় জামে মসজিদের বাথরুম ও জমি সহ চলাচলের ঘরোয়া রাস্তা। ঘটনার পর থেকে গত ২দিন ধরে একাধিক পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। জমি দখলকারী মালেক শেখ ও তার ভাড়াটিয়া দূর্বৃত্তদের দফায় দফায় মহড়া, হামলা ও হুমকিতে আতংকের মাঝে রয়েছে মকছেদ শেখ’র পরিবার।

গঙ্গারামপুর গ্রামের জাকারিয়া শেখ জানান, তার চাচাত ভাই মকছেদ শেখ একই এলাকার নজরুল শেখের কাছ থেকে বাড়ির পাশে ৫ শতক জমি কিনে সেখানে ঘর-বাড়ি নির্মান করে প্রায় ৩৫বছর ধরে বসবাস করে আসছে। কিন্তু পরবর্তীতে ওই একই মালিকের কাছ থেকে মালেক শেখ অন্য জমি কিনে মকছেদ শেখের ভোগদখলীয় জমি জোর দখলের চেষ্টা চালাতে থাকলে উভয় পক্ষের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী মো. মোমিন শেখের ছেলে মকছেদ শেখ জানান, মৃত. আশরাফ শেখের ছেলে মালেক শেখ প্রতিনিয়ত জমি দখলের চেষ্টায় হুমকি দিতে থাকে। এনিয়ে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ জেলা যুগ্ম জজ (১ম) আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা ১২/২০২৩ দায়ের করা হয়। মামলাটি চলমান থাকাবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) সকালে মালেক শেখের নেতৃত্বে তার ভাগ্নে রানা মোল্যা ও ভাইপো রাসেল শেখ সহ ভাড়াটিয়া ১০/১২জন দূর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র এবং লোহার রড নিয়ে হামলা চালিয়ে মকছেদ শেখের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে। একপর্যায়ে দূর্বৃত্তরা মকছেদ শেখের বাড়ি-ঘর ও বাথরুম ভেঙ্গে কাটাতারের ঘেরাবেড়া দিয়ে জমি জোরদখল করে। এসময় দূর্বৃত্তরা গঙ্গারামপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের জমি, বাথরুম ও মকছেদ শেখের পুরাতন বাড়ির রাস্তা সহ গ্রামের মানুষের চলাচলের ঘরোয়া রাস্তা ঘিরে দেয়। এতেকরে মকছেদ শেখ ও খালেক শেখের বাড়ির সদস্যরা স্থায়ী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এবিষয়ে ওইদিন ভুক্তভোগীর পক্ষে নাসির শেখ তালা থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে মকছেদ শেখ অভিযোগ করেন। এসুযোগে শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) সকালে দূর্বৃত্তরা ঘোষনা দিয়ে আবারও হামলা চালায় এবং অবশিষ্ট বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। মসজিদের জমি সহ বাথরুম দখলদারদের অবৈধ ঘেরাবেড়ার মধ্যে আবদ্ধ থাকায় মুসল্লিদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। দূর্বৃত্তরা মকছেদ শেখের জমি সহ মসজিদের জমি দখল এবং পাশ^বর্তী মৃত. মোকবুল শেখের বাড়ির সীমানার মধ্যে কাটাতারের বেড়া দিয়ে ওই জমি-ও দখল চেষ্টা অব্যাহত রাখায় এলাকায় আতংক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এবিষয়ে প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী মকছেদ শেখ উর্দ্ধতন প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এব্যপারে জানতে চাইলে হামলাকারী মালেক শেখ জানান, আমাদের কেনা জমিতে মকছেদ শেখ দীর্ঘদিন বসবাস করছিল। তাদের বারবার জমি ছাড়তে বললেও তারা ছাড়েনি। এনিয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের (তালা সার্কেল) কাছে অভিযোগ দায়ের করি। সেখানে মকছেদ শেখ হাজিরা দেয়নি এবং আমাদের কাগজপত্র সঠিক থাকায় তাঁর (এএসপি, সার্কেল) সালিসের মৌখিক রায় মোতাবেক আমরা আমাদের জমি দখল নিয়েছি।

এবিষয়ে তালা থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, আমারা কোনও লিখিত অভিযোগ এখনও (শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা) পাইনি। তারপরও মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে তৎক্ষনাত খলিলনগর পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই শহিদুল হককে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

 

 

দক্ষিণ মোল্লাপাড়া জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

খবর বিজ্ঞপ্তি :

নগরীর ৩১নং ওয়ার্ডস্থ দক্ষিণ মোল্লাপাড়া বাইতুল মোয়াজ্জাম জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও পিকনিক-২০২৪ শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) অনুষ্ঠিত হয়। কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি’র ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আরিফ হোসেন মিঠু। সভাপতিত্ব করেন মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. বদরুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্য ও অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা মো. ফজলুল কাদের। বিশেষ অতিথি ছিলেন অভিভাবক মোঃ আবুল হোসেন বকুল। পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মাদ্রাসার আরবী শিক্ষক হাফেজ মো.ওসমান গনী। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তৃতা করেন মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তৃতা করেন মুফতি আরিফুল ইসলাম, শেখ ইনামুল কবির ও সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান। কমিটির পক্ষ থেকে বক্তৃতা করেন মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের সেক্রেটারী মাওলানা রেজাউল করিম, সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারী মো. আবু জাফর ও সদস্য মো. আসাদুল ইসলাম প্রমূখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মো. হাফিজুল ইসলাম, মো. ইমরান হোসেন, মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের জয়েন্ট সেক্রেটারী মো. ইব্রাহিম হোসেন মিন্টু এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অতিথিরা বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

খুলনায় বিএফএফ-সমকাল বিজ্ঞান বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

খবর বিজ্ঞপ্তি

বিএফএফ-সমকাল ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব-২০২৪ এ খুলনা জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যায়ল। রানারআপ হয়েছে খুলনা পাবলিক কলেজ। এছাড়া পাবলিক কলেজের দলনেতা আবদুল্লাহ আল জাবির সেরা বক্তা নির্বাচিত হন।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক।

উৎসবে খুলনা জিলা স্কুল, সেন্ট যোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খুলনা পাবলিক কলেজ, কেসিসি কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন্স কলেজ, খুলনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় এবং সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৮টি দল অংশ নেয়।

চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মায়মুনাহ ইসলাম প্রভা, ফারিহা হাসান মিম ও তাহসিন তাহিয়া। রানার আপ দলের সদস্যরা হলেন খুলনা পাবলিক কলেজ দলের আবদুল্লাহ আল জাবির, তানজিম ইসলাম ও সানবীর ইসলাম।

বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের সহকারী অধ্যাপক এম এম কবির আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা অফিসের যুগ্ম পরিচালক সারওয়ারে আখতার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বর্ণকমল রায়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম। মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এক সময়কার দেশসেরা বিতার্কিক ও সিনিয়র সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম।

দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমকালের খুলনা ব্যুরো প্রধান মামুন রেজা। বক্তব্য রাখেন সুহৃদ সমাবেশের আহ্বায়ক এম সাইফুল ইসলাম, ইমরান হোসেন, সমকালের খুলনা ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার হাসান হিমালয়, ফটো সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।