নিজস্ব প্রতিনিধি।।
দুই বছর আগে ভেঙে যাওয়া ব্রিজের ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না সাতক্ষীরার মরিচাপ নদীর দুপাড়ের মানুষের। বন্ধ হয়ে গেছে কালিগঞ্জ-আশাশুনি উপজেলার মানুষের সরাসরি যাতায়াত। বিকল্প পথে যাতায়াতে গুণতে হচ্ছে বেশি খরচ ও সময়। এ অবস্থায় সেতু নির্মাণে বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার অধিদফতর।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্রিজের ওপর বাঁশের সাঁকো দেয়া হলেও কালিগঞ্জ উপজেলার মানুষ আসতে পারছেন না আশাশুনি উপজেলায়। আর আশাশুনি উপজেলার মানুষ যেতে পারছেন না কালিগঞ্জ উপজেলায়। পারছে না শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে। ২০ কিলোমিটার ঘুরে আসা যাওয়া করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুন্দুড়িয়া গ্রামের মাঝে মরিচ্চাপ নদীর ওপর কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করা হয়।
এলাকার মানুষের জন্য ৪/৫টি হাইস্কুল,মাদ্রাসা ও প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নদী পারাপারে বুধহাটা, পাইথালী, ব্যাংদহা, গাজীরহাট, কামালকাটি হাট-বাজারের মালামাল পারাপারে প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে নির্মাণ করা হয় ওই ব্রিজটি।
২০২২ সালে নদী খনন করা হলে ভেঙে পড়ে স্থাপনাটি। সেসময় সাময়িক পারাপার ব্যবস্থা সচল রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীদের সহযোগিতায় একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু স্রোতের তোড়ে গত ১৭ এপ্রিল সেটিও ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আশাশুনি ও কালিগঞ্জ দুটি উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ।
সূত্র জানায়, বছর চারেক আগে ২০২২ সালের ৪ জুলাই নদী খননের ফলে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। তখন উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাময়িক পারাপার ব্যবস্থা সচল রাখতে পাশে একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। ভেঙে যাওয়া ব্রিজটি পুনর্নির্মাণে এলজিইডি কার্যক্রম হাতে নেয়। কিন্তু গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে নদীর প্রবল স্রোতে সাঁকোটি সম্পূর্ণ নদীতে ধসে পড়ে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আশাশুনি ও কালিগঞ্জ দুটি উপজেলার মানুষ।
স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী জানান, মরিচ্চাপ নদীর ওপর বাকড়া বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান। বিশেষ করে জরুরি ভিত্তিতে বাঁশ বা কাঠের সাঁকো নির্মাণের।
যদিও এই ব্রিজ নির্মাণে বরাদ্দ অনুমোদনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম তারিকুল হাসান খান জানান, ব্রিজ নির্মাণে এখনো ৬ মাস লাগতে পারে।
এই ব্রিজটি দ্রুত নির্মাণ করা না হলে এপারে বুধহাটা ইউনিয়ন ও ওপারে শোভনালী ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষের শুধু ভোগান্তি পোহাতে হবে না, ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।










































