Home খেলাধুলা দুই মাসে ২ সিরিজ জয়, সৌভাগ্য তামিমের

দুই মাসে ২ সিরিজ জয়, সৌভাগ্য তামিমের

0

স্পোর্টস ডেস্ক।।

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপের দল পাঠাতে রাজি হয়নি। তা নিয়ে অবশ্য জলঘোলা কম হয়নি। রীতিমতো টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গিয়েছিল দেশের ক্রিকেট।

তবে বিশ্বকাপের পরই পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়? গত মাসে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সেই ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় টাইগাররা। এরপরও উত্তপ্ত ছিল দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। বিশেষ করে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড থাকবে কিনা তা নিয়েও নানা জল্পনা-কল্পনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বোর্ড ভেঙে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রিকেট কাউন্সিল।

তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয় ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। নতুন কমিটি গঠিত হওয়ার পর প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ। আর এই চ্যালেঞ্জে শুরুতেই সাফল্য উপহার দিল লিটন-মিরাজরা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে দুই মাসে দুটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের নজির গড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটা মাঠে বসেই উপভোগ করেছেন চট্টগ্রামের ঘরের ছেলে তামিম ইকবাল। ছিলেন স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে, এবার বিসিবি সভাপতি হিসেবে। সৌভাগ্যই বলতে হবে তামিম ইকবালের। তার উপস্থিতিতেই বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজে জয়ের উৎসব করল শান্ত-মোস্তাফিজরা।

টানা দুই সিরিজ জয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে; আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ ৮টি দলের মধ্যে থাকতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে বাছাইপর্বে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের ‘অঘোষিত ফাইনালে’ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নাজমুল হোসেন শান্তর (১০৬) সেঞ্চুরি আর লিটন দাসের (৭৬) ফিফটিতে ভর করে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ৮ রানের প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটের পতন হয় ৫৪ রানে। দলীয় ৬১ রানে ফেরেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। দলীয় ১০৮ রানে ফিফটি হাঁকিয়ে ফেরেন ওপেনার নিক কেলি। নিয়িমিত বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানেই অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন ডেন ফক্সক্রফট। তিনি দলের পরাজয় নিশ্চিত জেনেও শেষ দিকে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউটের আগে ৭২ বলে ৭টি ছক্কার সাহায্যে ৭৫ রান করেন। ৫৯ রান করেন ওপেনার নিক কেলি। তার ইনিংসটি ৮০ বলে ৬টি চার আর একটি ছক্কায় সাজানো। বাংলাদেশ দলের হয়ে ৯ ওভারে মাত্র ৪৩ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজুর রহমান। দুটি করে উইকেট নেন নাহিদ রানা ও মেহেদি হাসান মিরাজ।

৫৫ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করে মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।