সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
ডিজেল সংকটে ইরি-বোরো ধানের ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সাতক্ষীরায়। রয়েছে কালবৈশাখী ঝড়ের আতঙ্কও। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার চিন্তায় ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে কৃষকদের।
যদিও বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে উল্লেখ করে কৃষি কর্মকর্তা জানান, তেল সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্য মতে, শস্য ভাণ্ডারখ্যাত সাতক্ষীরার সদর, তালা ও কলারোয়া উপজেলাসহ ৭ উপজেলায় ডিজেল সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষিখাতে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হচ্ছে। এরমধ্যে ৫১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমিতে চলছে ডিজেলচালিত সেচ পাম্প। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে এ সব পাম্প সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত দামে তেল কিনেও ধানের শীষ আসার গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান নিরুপায় কৃষকরা। সেইসঙ্গে রয়েছে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবের শঙ্কাও।
কৃষকরা জানান, চাহিদা মত সঠিক সময়ে ডিজেল না পাওয়া এবং খোলা বাজারে ডিজেল বেশি দামে কিনতে বাধ্য হওয়ায় বাড়ছে উৎপাদন খরচ। ডিজেল সংকটের কারণে এবার বোরো ধান উৎপাদনে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তার ওপর এবার আগেভাগেই শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড় তাদের রাতের ঘুম হারাম করেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনির হোসেন কিছু কিছু জায়গায় ধানের শীষ বেরিয়ে গেছে উল্লেখ করে জানান, তেলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর তেলের কারণে ধানের ক্ষতি হবে না।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, ডিজেলের কারণে কৃষকের কিছুটা কষ্ট হলেও সম্প্রতি বৃষ্টির ফলে ক্ষতি হবে না বলেই তিনি মনে করছেন। আর সরকারও তেল সরবরাহের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৬৮ হেক্টর ধরা হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর। এবার বোরো ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন।










































