স্পোর্টস ডেস্ক।।
চোটের কারণে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠের বাইরে ছিলেন। তবে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে একাদশে ফিরেই জাদুকরী ছন্দে ধরা দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। একাই শিকার করেছেন ৫টি উইকেট। মুস্তাফিজ তার ৫ উইকেট পূর্ণ করেন উইল ও’রোককে বোল্ড করার মাধ্যমে। লেগ স্টাম্পের ওপর পিচ করা একটি লেন্থ ডেলিভারি দুর্দান্ত অ্যাঙ্গেলে অফ স্টাম্পের দিকে ঢুকে পড়ে। ও’রোক বড় শট খেলার চেষ্টা করলেও বলের লাইন পুরোপুরি মিস করেন এবং বল সরাসরি তার স্টাম্প গুঁড়িয়ে দেয়। এতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে আরও একটি ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব অর্জন করেন ‘কাটার মাস্টার’।
হৃদয়ের ক্যাচে মুস্তাফিজের চতুর্থ শিকার
মুস্তাফিজের বাউন্সারে মিসটাইমে মিডউইকেটে ক্যাচ দিলেন লেনক্স। সেটি লুফে নেন তাওহিদ হৃদয়। দলীয় ১৫৪ রানে অষ্টম উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ৭ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ।
মিরাজের ক্যাচে মুস্তাফিজের শিকার স্মিথ
এবার বল হাতে কিউইদের ওপর চড়াও হয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার স্লোয়ারে ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন নাথান স্মিথ। কিন্তু শর্ট মিড-উইকেটে থাকা মিরাজ ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি তালুবন্দি করেন। দুর্দান্ত এই ক্যাচে ৪ বলে ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন নাথান। চট্টগ্রামে সিরিজ জয়ের উৎসবে মাততে এখন মাত্র ৩টি উইকেটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।
ক্লার্কসনের স্টাম্প উপড়ে ফেললেন নাহিদ
বাউন্সার আর ইয়র্কারের পসরা সাজিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের কোণঠাসা করে রেখেছেন নাহিদ রানা। ৩৪তম ওভারে তার করা প্রায় ১৪৮.৬ কিলোমিটার গতির ইয়র্কার ক্লার্কসনের স্টাম্প উপড়ে ফেলে দেয়। ৩৪ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১৪০ রান। জয়ের জন্য কিউইদের এখনো দরকার ১২৬ রান। হাতে মাত্র ৪ উইকেট।
আব্বাসকে ফেরালেন শরিফুল, ৫ উইকেট নেই নিউজিল্যান্ডের
কেলির বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না মুহাম্মদ আব্বাস। শরিফুলের বল আব্বাসের ব্যাটের কানায় লেগে আঘাত হানে স্টাম্পে। ৩৬ বলে এক চারে ২৫ রান করেন আব্বাস। ৩০ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৫ উইকেটে ১২৪। ক্রিজে ডিন ফক্সক্রফটের সঙ্গী জশ ক্লার্কসন।
কেলির প্রতিরোধ ভাঙলেন মুস্তাফিজ
মুহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে জমে গিয়েছিল কেলির জুটি। তাকে ফিরিয়ে ৫১ বল স্থায়ী ৪৭ রানের জুটি ভাঙলেন মুস্তাফিজ। ৮০ বলে এক ছক্কা ও ছয় চারে ৫৯ রান করেন কেলি। ২৬ ওভারে নিউজিল্যান্ডের রান ৪ উইকেটে ১০৯। ক্রিজে আব্বাসের সঙ্গী ডিক ফক্সক্রফট। জয়ের জন্য সফরকারীদের চাই আরও ১৫৭ রান।
কিউই অধিনায়ককে ফেরালেন মিরাজ
ইয়াংয়ের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না টম ল্যাথাম। মিরাজের বলে সুইপ করতে গিয়ে শরিফুলের ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরেন কিউই অধিনায়ক। ১৩ বলে ৫ রান করেন তিনি। ১৭ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৩ উইকেটে ৬১। ক্রিজে নিক কেলির সঙ্গী মুহাম্মদ আব্বাস।
ইয়াংকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন নাহিদ
নাহিদ রানার পেসে ঠিকঠাক খেলতে পারেননি ইয়াং। ব্যাটের নিচের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে লিটন দাসের গ্লাভসে। তার বিদায়ে ভাঙে ৬১ বল স্থায়ী ৪৬ রানের জুটি। দুই চারে ২৫ বলে ১৯ রান করেন ইয়াং। ১৪ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ২ উইকেটে ৫৭। ক্রিজে নিক কেলির সঙ্গী টম ল্যাথাম। জয়ের জন্য আর ২০৯ রান চাই সফরকারীদের।
মুস্তাফিজের বাউন্সারে কুপোকাত নিকোলস
চোটের কারণে সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলতে পারেননি মুস্তাফিজুর রহমান। তবে সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচে একাদশে ফিরেই নিজের ধার দেখালেন তিনি । ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজের করা একটি বাউন্সার খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন হেনরি নিকোলস । আউট হওয়ার আগে ১০ বলে মাত্র ৪ রান করেন তিনি । উইকেট পাওয়ার ওই ওভারটি মেডেন দিয়েছেন মুস্তাফিজ । ৯ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২৮ রান । ক্রিজে এখন ওপেনার নিক কেলির সঙ্গী হয়েছেন উইল ইয়ং ।
এর আগে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি এবং লিটন দাসের ৭৬ রানের ওপর ভর করে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছে লাল-সবুজের দল।
ব্যাটিং করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। কিউই পেসার উইলিয়াম ও’রোকের বলে খোঁচা মেরে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাইফ হাসান। নিজের পরের ওভারে আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকেও (১) বোল্ড করেন ও’রোক। তিনে নামা সৌম্য সরকার ৩টি চারে ১৮ রান করে আশার আলো দেখালেও ও’রোকের তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়ে ফেরেন তিনি। ফলে মাত্র ৩২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে স্বাগতিকরা।
বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরেন শান্ত ও লিটন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার যোগ করেন ১৬০ রান। দীর্ঘ ১৯ ইনিংসের খরা কাটিয়ে ৭১ বলে ফিফটি তুলে নেন লিটন। সেঞ্চুরির পথে থাকলেও শেষ পর্যন্ত জেইডেন লেনক্সের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে থামেন তিনি। ৯১ বলে ৭৬ রানের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কার মার।
লিটন ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শান্ত। ১১৪ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়া শান্ত ৪৩তম ওভারে আউট হওয়ার আগে করেন ১০৫ রান। ১১৯ বলের এই ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কার মার। ওয়ানডেতে ২০ ম্যাচ পর শতকের দেখা পেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
শেষ দিকে অধিনায়ক মিরাজের ১৮ বলে ২২ এবং হৃদয়ের ২৯ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংসে আড়াইশ পার করে বাংলাদেশ। ৪৯তম ওভারে বেন লিস্টার জোড়া আঘাত হেনে শরিফুল ও তানভীরকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন। তবুও ২৬৫ রানের লড়াকু সংগ্রহ নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।
নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে উইলিয়াম ও’রোক ৪৭ রানে ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া বেন লিস্টার ও জেইডেন লেনক্স শিকার করেন ২টি করে উইকেট। ১-১ সমতায় থাকা এই সিরিজের ট্রফি জিততে হলে নিউজিল্যান্ডকে করতে হবে ২৬৬ রান।










































