স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা মহানগরী থেকে চুরি হওয়া ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি দামী মোটরসাইকেল আড়াই বছর পর উদ্ধার হয়েছে। তবে কোনো পুলিশি অভিযানে নয়, বরং খোদ মালিকের বিচক্ষণতায় হাতেনাতেই ধরা পড়েছে চুরি যাওয়া সেই শখের বাইকটি। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, আড়াই বছর ধরে নিখোঁজ থাকা সেই মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করছিলেন খোদ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এক সদস্য। তার দাবি, তিনি এটি বাগেরহাট থেকে নিলামের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে কিনেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা সদর থানা এলাকার শেরে বাংলা রোডের ‘ফিটনেস কেয়ার জিম’-এর সামনে থেকে লাল-সাদা রঙের ইয়ামাহা ফেজার বাইকটি চুরি হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ লক্ষ টাকারও বেশি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মালিক মেহেদী আল মাহমুদ শরীফ ওই বছরেরই ৬ সেপ্টেম্বর একজনকে নামধারী ও তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে খুলনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ওই সময় তদন্ত করেছিলেন খুলনা থানার এসআই মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান মোল্লা। দীর্ঘদিন তদন্তের পর বাইকটি উদ্ধার করতে না পেরে একপর্যায়ে তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
মামলা হওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর, গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নগরীর বৈকালী এলাকার বেঙ্গল পেট্রোল পাম্পে নিজের বাইকটি দেখতে পান শরীফ। এ সময় ইসরাফিল নামে এক চালকের কাছে মোটরসাইকেলটি দেখে শরীফ সেটিকে আটকে দেন। এ সময় ইসরাফিল জানান, গাড়িটি নিলামের মাধ্যমে কিনেছেন কেএমপি’র হেডকোয়ার্টারে কর্মরত পুলিশ সদস্য আজিজ। পরবর্তীতে মুঠোফোনে আজিজের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, বাগেরহাট থেকে নিলামের মাধ্যমে মাত্র ১৭ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি এই বাইকটি কিনেছেন। এই প্রতিবেদক আজিজের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনিও নিলামের মাধ্যমে বাইকটি কিনেছেন বলে নিশ্চিত করেন।
এই ঘটনার পর বাইকের মূল মালিক সাথে সাথে ৯৯৯-এ কল করে সহযোগিতা চান। এরপর নিকটস্থ খালিশপুর থানা পুলিশ এসে বাইকটি হেফাজতে নেয়। তবে চুরি হওয়া বাইক কীভাবে আদালতের মাধ্যমে কোনো ধরনের মালিকানা যাচাই-বাছাই ছাড়াই এত দামী একটি গাড়ি নামমাত্র মূল্যে নিলাম হলো, তা নিয়ে জনমনে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক সূত্র আরও জানায়, নিলাম করার পূর্বে বাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট, ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর দিয়ে বিআরটিএ থেকে খুব সহজেই মালিকানা সন্ধান করার সুযোগ আছে। তা ছাড়া নিলামকৃত বাইক সাধারণত ‘স্ক্র্যাপ’ হিসেবে বিক্রি হয়, যার ফলে সেটি সড়কে বা রাস্তায় পুনরায় চলাচলের আইনি সুযোগ নেই।
নগরীর খালিশপুর থানার এসআই পলাশ কুমার রায় বলেন, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। বাইকটি চুরি হয়েছিল এই ঘটনায় মামলাও আছে আবার এটি বাগেরহাট থেকে নিলাম হয়েছিল। যেহেতু কোর্টে মামলা আছে তাই আমি বাইকটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করেছি আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মূল মালিক বাইক ফেরত পাবে।
বাগেরহাট জেলার কোট আদালতের ইন্সপেক্টর হাফিজ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। একটি জিডির প্রেক্ষিতে বাইকটি নিলাম করা হয়েছিল। ওই সময় বিরাটির মাধ্যমে বাইকের মূল মালিকানা তদন্ত করা হয়েছিল কিনা আমি জানিনা।
বাইকটির মূল মালিক মেহেদী আল মাহমুদ শরীফ জানান, বিআরটিএর অনলাইন ওয়েবসাইটে এখনো বাইকটির ইঞ্জিন নাম্বার ও চেসিস নম্বর অনুযায়ী মালিকানা আমার। বাইকটি চুরি হওয়ার পর আমি মামলা করেছিলাম। এতকিছুর পর বাইকটি কিভাবে নিলাম হল সেটা নিয়ে নানা মতানৈক্য আছে। ৩ লক্ষ টাকার বেশি দামের বাইকটি মাত্র ১৭ হাজার টাকা নিলাম করে কিনেছে একজন পুলিশ অফিসার। আমার নিজের বাইক ফেরত পেতে আমাকে এখন আদালতে দৌড়াতে হচ্ছে। বাইক আমি আজ হোক কাল ফেরত পাব । তবে চুরি হওয়া বাইক যার নামে মামলা আছে, কোন ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া কিভাবে নিলাম হল এবং এর পেছনে কারা কারা আছে এই বিষয়টি প্রশাসনের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।










































